ঢাকা, শনিবার 28 July 2018,১৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তা নদীর ভাঙ্গনে হারিয়ে যাচ্ছে চড় বিনবিনার বাড়ি-ঘর-বিদ্যালয়

গঙ্গাচড়ায় বিনবিনা চরে তিস্তায় বিলীন হচ্ছে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল আনন্দলোক বিদ্যালয়

রংপুর অফিস : রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে হারিয়ে যাচ্ছে চড় বিনবিনার বাড়ি-ঘর এবং বিদ্যালয় ভবনটি।

 তিস্তা নদীর ভাঙ্গনে ইতোমধ্যে ভেঙ্গে গেছে এলাকার ৫০টি পরিবারের বাড়িঘর, আনন্দলোক বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষের ভিতরের একাংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি এখন পানিতে দাঁড়িয়ে আছে। শিক্ষকবৃন্দ খোলা মাঠে শিক্ষার্থীদের পাঠ দিচ্ছেন। স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ এলাকাবাসী ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয় ভবনটি রক্ষার জন্য ভাঙ্গন ঠেকাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। 

জানা গেছে, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন এর বাস্তবায়নে ২০১৩ সালে কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনা চরে শিক্ষার মান উন্নয়নে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফা কামাল আনন্দলোক বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়। স্থাপনের পর থেকে চরাঞ্চলের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা শিশু শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত এখানে পাঠদান গ্রহণ করছে। ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে সাফল্যের সাথে উর্তীণ হচ্ছে। বিদ্যালয়টি স্থাপিত হওয়ার পর চরের শিক্ষার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। এবারে তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে বিদ্যালয়টি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ৪ কক্ষ বিশিষ্ট এ বিদ্যালয়টির ল্যাট্রিন ও কক্ষের ভিতরের পাকা মেঝে ইতোমধ্যে তিস্তায় বিলীন হয়ে গেছে। পানির মাঝে দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় এটি পানির মাঝে ভাসমান একটি ভবন। বিদ্যালয়টি ভাঙ্গনের পাশাপাশি ভেঙ্গে গেছে এলাকার ৫০টি পরিবারের বাড়িঘর জমি, গাছ ও বাঁশ। কোলকোন্দ ইউপি চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত অর্থে, বালুর বস্তা দিয়ে সহযোগিতা করে ভাঙ্গনের কবল থেকে বিদ্যালয় ভবনটি রক্ষার চেষ্ঠা করছেন। এছাড়া এলাকাবাসী, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাঁশ ও বালুর বস্তা দিয়ে ভাঙ্গন ঠেকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে। সরজমিন গেলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের উদ্দেশে করুন আতিৃ জানিয়ে বলেন, “তোমরা হামার ইস্কুল দেইখবার আসছেন। আগত হামার ইস্কুলটাক বাঁচান। স্কুলটাত হামরা মেলা ছাওয়া লেখাপড়া করি। স্কুলের মাঝিয়া, পায়খানা ভাংগি গেইছে। খালি বিল্ডিংটা পানিত খাড়া আছে। স্যারেরা গাছের ছায়াত মাটিত বসি হামাক পড়ায় ছোল। ওটাও ভাংগি গেইলে হামরা কোনটে পড়মো”। স্কুলটি রক্ষার দাবি জানিয়ে তাঁরা বলেন, বিদ্যালয়ে বর্তমানে ২০৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়টি রক্ষা করা না গেলে তাদের লেখাপড়া ভবিষ্যৎ কি হবে বলা মুশকিল। অতিকষ্টে খোলা মাঠে পাঠদান করা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও এলাকাবাসীরা বলেন চড়ে বিদ্যালয়টি হওয়ার পর থেকে শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। বিদ্যালয়টি এখন তিস্তায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে, ভাঙ্গন রোধে এলকাবাসী ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং ইউপি চেয়ারম্যান সহযোগিতা করে বাঁশ ও বালুর বস্তা দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি ভাঙ্গন রোধে কোন পদক্ষেপ নেই। বিদ্যালয়ের জমিদাতা কাজী আবু তালেব জানান, চরে শিশুদের সংখ্যা অনুপাতে তেমন কোন বিদ্যালয় নেই। জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন কর্তৃক বিদ্যালয়টি বাস্তবায়িত হওয়ায় শিক্ষার মান-উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চড় এলাকায় বেড়েছে শিক্ষার হার, কমেছে ঝড়ে পড়া। সরকার শিক্ষার মান-উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও এনজিও কর্তৃক পরিচালিত হওয়ায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও এখানে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এলাকার প্রায় ৫০টি বাড়ি বিলীন হলেও সরকারি কর্তৃপক্ষের সাড়া নেই। ভাঙ্গন রোধে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে শুধু বিদ্যালয় নয় বিনবিনা চড় বিলীন হয়ে যাবে। মানুষ পথে বসবে। এলাকাবাসী এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতা কামনা করেছেন। 

তিস্তার ভাঙনে বিলীন হয়ে যাওয়ার পথে বিদ্যালয়টি রক্ষায় জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে, তবে এখনও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ