ঢাকা, শনিবার 28 July 2018,১৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তিন সিটি নির্বাচনও তামাশা এবং প্রহসনেই পরিণত হবে

গতকাল শুক্রবার নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতার কারণে তিন সিটি নির্বাচন তামাশা ও প্রহসনে পরিণত হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে বিএনপি। গতকাল শুক্রবার বিকেলে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীল এই শঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এমন প্রহসনের পরিণত হয়েছে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো যে, এ নিয়ে কথা বলতে নিজেরই এখন সঙ্কোচ বোধ হয়। তামাশা, তামাশাই চূড়ান্ত। আপনারা বায়েস্কোপ দেখেছেন কিনা জানি না, ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে গানের সুরে বায়েস্কোপ দেখানো হয়। এখন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে বায়েস্কোপ দেখানো হচ্ছে, সরকার বায়েস্কোপ দেখাচ্ছে। আমরা  নির্বাচন কমিশনকে অনতি বিলম্বে তিন সিটিতে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে সকল ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যে, সকল গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করার জন্য আহবান জানাচ্ছি। অন্যথায় তাদের পদত্যাগ দাবি করছি।
সাংবাদিক সম্মেলন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, হাবিবুল ইসলাম হাবিব  প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতার সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচন কমিশন সংবিধানের একটা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। এর প্রধান ও কমিশনার যাদের করা হয়েছে তারা আন্ডার ওথ। তারা কোনো রাগ-বিরাগের বশর্বতী না হয়ে কমিশনের নিজেদের যে ক্ষমতা আছে তা প্রয়োগ করবেন এবং সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন করার জন্য তারা দায়বদ্ধ। দুর্ভাগ্য এই জাতির যে নির্বাচন কমিশন তার আশ-পাশ দিয়ে যাচ্ছেন না। তাদের ফোন করলে বলেন যে, চেষ্টা করছি, দেখছি।  চেষ্টা করার জন্য তো আপনাদের রাখা হয়নি। এই জাতি তো প্লেয়িং ফল ইউর সেলারি এন্ড অব ইউর এভরি ধিং। আপনাদেরকে রাখা হয়েছে এই রাষ্ট্রের নির্বাচন ব্যবস্থাকে সুষ্ঠু অবাধ করার জন্য। আপনাদের অবশ্যই কর্তৃত্বকে প্রয়োগ করে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করার জন্যই সংবিধান ও দেশের মানুষ দায়িত্ব দিয়েছে। আপনারা সেখানে ব্যর্থ হচ্ছে।
রাজশাহী, সিলেট ও বরিশালে ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, মন্ত্রী পদ মর্যাদায় ব্যক্তি ও সাংসদরা নির্বাচনের প্রচারনায় অংশ নেওয়া, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গণগ্রেফতার, ধানের শীষের প্রার্থীর পোস্টার ছিঁড়ে ফেলাসহ নানা ঘটনার চিত্র তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, আমাদের কথা বাদ দেন, একটি অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান সুজন কয়েকদিন আগে সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেছেন যে, কোথাও কোনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। এটাই বাস্তবতা। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াতে তারা একটা ত্রাসের রাজত্ব তৈরি করে ফেলেছেন। সামাজিক মাধ্যমে একজন কমেন্টও করেছেন উৎসবের নগরী না হয়ে এটা ত্রাসের নগরীতে পরিণত হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন,  তিন সিটিতে গণহারে গ্রেফতার  করা হচ্ছে।  পত্রিকারগুলোতেও গ্রেফতারের খবর এসেছে। ব্যাস ইলেকশন ইজ ডান। নির্বাচনকে শেষ করে দেয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট। আজকে দেশে এই যে প্রহসনের নির্বাচন হচ্ছে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন থাকতে পারে তাহলে জেনেশুনে আপনারা নির্বাচনে যাচ্ছেন কেনো?  আমরা লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি। আমরা স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক দল হিসেবে থাকতে চাই। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সরকার পরিবর্তন করে না। যে কারণে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রত্যেকটি স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে যাচ্ছি। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিশেষ করে সিটি নির্বাচনে যে ধারার সৃষ্টি তারা (সরকার) করলো তা কখনোই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গ্রহনযোগ্য নির্বাচন হবে তা বিশ্বাস করার কোনো কারণ থাকবে না। সরকার ও  এ নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা দুই মিলেই প্রমাণ করছে যে, আগামী সংসদ নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য  হবে না।
সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে জামায়াতে ইসলামীর সাথে সমঝোতা হয়নি বলে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি ২০ দলকে একসাথে নির্বাচন করানোর জন্য। জামায়াতে ইসলামী এখন পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে আছেন। তারা থাকতেই পারেন। তারা এখন পর্যন্ত আমাদের সমর্থন দেননি। এর জন্য ২০ দলের জাতীয় পর্যায়ের ঐক্য বিনষ্ট হয়নি।
সিলেটে জামায়াতের সমর্থন ছাড়া বিজয়ী হতে পারবেন কিনা প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, শুনেন বিএনপি ১৯৯১ সালে যে নির্বাচন করলো সেই নির্বাচনে বিএনপি একাই নির্বাচন করেছে এবং সরকার গঠন করেছে। সুতরাং বিএনপিকে জেতা বা না জেতার জন্য কারো উপর নির্ভর করতে হয় না। বিএনপি সেলফ সাফিশিয়েন্ট জেতার জন্য।
সিলেটে জামায়াত ইসলামীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তারা আশা করে বিএনপি তাদের সমর্থন দেবে, এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আশা তো করতেই পারে। আমরা তো কারোর আশায় বাধা দিচ্ছি না।
তিনি বলেন, একটা কথা আমি বলতে চাই, আমরা ঐক্য করেছি বৃহত্তর স্বার্থে। সেই স্বার্থটা হচ্ছে এই দানবের হাত থেকে মুক্তি পেতে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আমাদের ঐক্য। নির্বাচন তো হচ্ছে আমাদের দ্বিতীয় ঐক্য। মূল বিষয়টি হচ্ছে এই দানবীয় সরকারকে সরানোর জন্য আমরা শুধু ২০ দলীয় ঐক্য নয়, আমরা তো জাতীয় ঐক্যেরই ডাক দিয়েছি। সেটা আমরা মনে করি যে, অনেক দূর এগিয়েছে। বাম ৮ দলীয় জোট  নিজেরা একটা প্লাটফর্ম তৈরি করে আমরা যে কথা বলি সেই দাবিগুলো নিয়ে এসেছে। আমরা আশা করি বাকী দলগুলো এটা চিন্তা করবেন গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠিত করতে হলে এই ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। সিলেটে ধানের শীষের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আরিফ এবং জামায়াতের প্রার্থী এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
বিএনপি চাইলে তাদের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে- আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা বহুবার আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছি। আজকে আপনাদের মাধ্যমে আবারও আহ্বান করছি। কোথায় বসবেন, কী করবেন- আমরা বসতে রাজি। যে কোনো স্থানে, যে কোনো সময় আলোচনায় বসতে প্রস্তত আছি’ যোগ করেন বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আলোচনার বিষয়ে যা বলেছেন তা ভালো। তবে ওবায়দুল কাদেরের সুবিধা আছে উনি যখন সুবিধা, তখন খুশি মতো কথা বলতে পারেন। উনি বলেছেন, বিএনপি আলোচনার ইচ্ছা পোষণ করলে আলোচনা। বসে নয়, বিএনপির সঙ্গে আলোচনা হবে ফোন যোগাযোগের মাধ্যমে- এবিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মির্জা ফখরুল বলেন, ভালো তো, আমরা ম্যাসেজ পেলাম, দেখা যাক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ