ঢাকা, শনিবার 28 July 2018,১৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জীব-বৈচিত্র্য বন্যপ্রাণীর প্রজনন নিরাপত্তা সুন্দরবনে তিন মাস পর্যটন নিষিদ্ধ হচ্ছে!

 খুলনা অফিস : সুন্দরবনের জীব-বৈচিত্র্য রক্ষায় বন্যপ্রাণীর প্রজনন নিরাপদ করতে বছরে তিন মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হচ্ছে সকল ধরনের পর্যটন ব্যবস্থা। কারণ বন্যপ্রাণীর প্রজনন মওসুম জুন থেকে আগস্ট ৩ মাস। বন্যপ্রাণীর প্রজনন মওসুমের এ তিন মাস সুন্দরবনে সকল ধরনের পর্যটন নিষিদ্ধ করার নির্দেশনা সরকারিভাবে খুব দ্রুতই আসছে বলে নিশ্চিত করেছে বন অধিদপ্তর।

বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, সুন্দরবন হচ্ছে দেশের বন্যপ্রাণীর বৃহত্তম ভান্ডার। বিশ্ব ঐতিহ্য এলাকা (ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড) এই বনের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বাংলাদেশ অংশে রয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রল ও মায়া হরিণ, বিলুপ্তপ্রায় ইরাবতীসহ বিভিন্ন প্রজাতির ডলফিন, লোনা পানির কুমির, বন্য শূকর ও উদবিড়ালসহ ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী। সুন্দরবনে ২০০৪, ২০০৭, ২০১১ ও ২০১৫ সালের জরিপে দেখা গেছে, রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও হরিণসহ বন্যপ্রাণীর আধিক্য এলাকাগুলোকেই পর্যটকরা অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। জুন থেকে আগস্ট এই ৩ মাস সুন্দরবনের বাঘ ও হরিণসহ বন্যপ্রাণীর প্রজনন মওসুম। পর্যটকদের কারণে বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ ও প্রজননে বাধার সৃষ্টি হয় বলে তাদের বংশ বিস্তারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এই অবস্থায় রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রল ও মায়া হরিণসহ বন্যপ্রাণীর প্রজনন মওসুমের ৩ মাস জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে সকল ধরনের পর্যটন নিষিদ্ধ করার জন্য খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মো. আমির হোসাইন চৌধুরীর কাছে গত মাসে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনসহ মানুষ্যসৃষ্ট কারণে সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীকূল সঙ্কটের মধ্যে রয়েছে। ইতোমধ্যেই সুন্দরবন থেকে বিলুপ্ত হয়েছে, দুই প্রজাতির হরিণ, দুই প্রজাতির গন্ডার, এক প্রজাতির মিঠা পানির কুমির ও এক প্রজাতির বন্য মহিষ। বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ থেকে বন্যপ্রাণীর প্রজনন মওসুমের ৩ মাস সুন্দরবনে সব ধরনের পর্যটন নিষিদ্ধ করার বিষয়ে বন অধিদপ্তর থেকে সহসাই নির্দেশনা আসবে বলে আশা করছেন এই বন কর্মকর্তা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ