ঢাকা, শনিবার 28 July 2018,১৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়াকে ছাড়া আলোচনা-নির্বাচন কিছুই হবে না -নজরুল

গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জোটের উদ্যোগে প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে আলোচনা-নির্বাচন কিছুই সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। গতকাল শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও আমার দেশ পত্রিকায় ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে হত্যার উদ্দেশ্যে নৃশংস হামলার প্রতিবাদ ও দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে অনুষ্ঠিত জাতীয়তাবাদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. এম ওবায়েদুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম, জিনাফ সভাপতি লায়ন মিয়া মোহাম্মাদ আনোয়ার, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, সাংবাদিক কাদের গনি চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন- বিএনপি চাইলে আলোচনা করতে রাজি; ভালো, আলহামদুলিল্লাহ, আমরা তো বহুবার বলেছি। ‘বিএনপি চাইলে আলোচনার বসতে রাজি’-  আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এ বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি। আমরা বলেছি- জনগণের কিছু দাবি-দাওয়া আছে আমরা তা নিয়ে আলোচনা করতে চাই। আওয়ামী লীগ যদি আলোচনা করতে আগ্রহী হয় তাহলে আমি মনে করি এটা একটা ভালো লক্ষণ। তবে যিনি একথা বলেছেন তিনি কতক্ষণ এ কথার ওপর স্থির থাকতে পারবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তা আছে।’ তিনি বলেন, ‘আলোচনার মাধ্যমে আন্দোলনের সন্তোষজনক স্থানে পৌঁছানো সম্ভব। আমরা স্বাগত জানাবো এবং আমরা চাইবো দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন। কারণ তাকে কারগারে রেখে আলোচনা-নির্বাচন কিছুই সম্ভব হবে না।’
নজরুল ইসলাম খান, ‘আলোচনার মাধ্যমে সন্তোষজনক অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে। আমরা (বিএনপি) এটাকে স্বাগত জানাবো। আমরা চাইবো, বেগম জিয়াকে মুক্তি দিন। কারণ তাকে ছাড়া আলোচনা ও নির্বাচন কোনটাই অর্থবহ হবে না। আর আমরা বলিনি যে, বেগম জিয়ার দ- মওকুফ করে দিন। আমরা এটা আদালত ও আপনাদের (সরকার) কাছে চাইবোও না। কিন্তু আপনারা আপনাদের উকিল দিয়ে যেভাবে তাকে কারাগারে রাখতে বাধ্য করছেন। এটা বন্ধ করুন। তিনি জামিনে বের হয়ে আসুক।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, আমরা চাই তিনি জামিনে মুক্ত হোক, তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। আমরা তার নেতৃত্বে আলোচনা করতে চাই। তিনি মুক্ত হলে তার নেতৃত্বেই আমরা নির্বাচনে যাব। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘সরকার বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে চায়। বেগম খালেদা জিয়াকে আটক রেখে কারো সঙ্গে দেখা করতে না দিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তার প্রাণনাশ করতে চায়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো চেষ্টা করলে তা ব্যর্থ হবে।’
কুষ্টিয়ায় মাহমুদুর রহমানকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার ওপর হামলা করা হয়েছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমরা দাবি করছি, যারা এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত তাদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনে সোপর্দ করা হোক। আর যে সকল পুলিশ কর্মকর্তা নীরব ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আমরা তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।’
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে নজরুল বলেন, ‘বর্তমান সরকার একটা মামলাবাজ ও হামলাবাজ সরকার। তারা আপনার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেবে। সেই মামলায় যদি হাজিরা না দেন তাহলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আপনাকে জেলে নিয়ে যাবে। আর যদি আপনি হাজিরা দিতে যান তাহলে তাদের দলীয় লোকজন দিয়ে আপনাকে মারবে।’
সরকারের সমালোচনা করে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এই সরকারের আমলে মানুষের নূন্যতম অধিকার নেই। গার্মেন্টস মালিকরা ফুলে ফেপে বড় হয়েছে, আর শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরির দাবিতে রাজপথে। সকল পেশার মানুষ আজ অতিষ্ঠ। মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এই অবস্থায় দেশবাসীর কাছে আমাদের আহ্বান- আসুন আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে বাংলাদেশে প্রকৃত গণতন্ত্র, জনগণের শাসন, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার গঠনের জন্য লড়াই করি। মানুষ সুযোগের অপেক্ষায় আছে একটা অবাধ-সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচনের। সেই নির্বাচন হতে হবে সকলের অংশগ্রহণে।
বিএনপিকে ক্ষমতাসীনরা নির্বাচনের বাইরে রাখতে চায় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে জেলে আটকে রেখে বিএনপির সিদ্ধান্ত আরো কঠিন করে তুলেছে সরকার।’ সরকারকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘নির্বাচন সকল দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে হবে। হামলা, মামলা আর আসন ভাগাভাগির সেই ৫ জানুয়ারি আর আসবে না। ওই চেষ্টা কেউ করলে তারা ব্যর্থ হবেন। বাংলাদেশের প্রকৃত গণতন্ত্র, জনগণের শাসন, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ একটা সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা লড়াই করছি এবং সে নির্বাচন সকলের অংশগ্রহণে হতে হবে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে হবে। হামলা-মামলা আর সিট ভাগাভাগি ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন আমরা হতে দেবো না’।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ