ঢাকা, শনিবার 28 July 2018,১৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আরেকটি একদলীয় সংসদ নির্বাচন করতেই সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে -বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার : আরেকটি একদলীয় নির্বাচন করতেই সরকার মাদক বিরোধী অভিযানের নামে বিচারবর্হিভুত হত্যাকান্ড ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল শুক্রবার সকালে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, দেশ জুড়ে ক্রসফায়ারের হিড়িক মূলক দেশের জনগোষ্ঠিকেই আতঙ্কিত করা। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের মনে ভয় ঢোকানোর জন্য এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযানে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কয়েকজনকে হত্যা করা হয়েছে। ঝিনাইদহ ও নেত্রকোনার পর তিন দিন আগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের ছাত্রদল নেতা বাদশাকে নির্মমভাবে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে। এরা কেউ মাদকের সাথে জড়িত ছিলো না।
এরা (সরকার) আগামী নির্বাচন একতরফা করতে দেশকে ভোটারশূণ্য করার জন্যই সরকার ক্রসফায়ারকে  নিজেদের টিকে থাকার একমাত্র অবলম্বন মনে করছে। আমি দলের পক্ষ থেকে সরকারের দুরভিসন্ধিমূলক এই মনুষ্যত্বহীন ও অমানবিক নিষ্ঠুর ক্রসফায়ারের কর্মসূচি বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।
রিজভী বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গত কয়েক বছর ধরেই বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের অনেক নেতা-কর্মীদের আটকের পর পকেটে মাদক ঢুকিয়ে মিডিয়ায় প্রচার করে। মনে হয় তারা যেন আদিষ্ট হয়েই একটা কমন ফরমেট দাঁড় করিয়েছে এই হীন কাজটি করার জন্য। কয়েকদিন আগেও মানিকগঞ্জে পকেটে মাদক ঢুকাতে গিয়ে ধরা পড়ে পুলিশ গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছে। এমন ঘটনা ঘটেছে অহরহ।
মাদকের গডফাদাররা এখনো অধরাই থেকে যাচ্ছে, বদিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে। তাদের কেশগ্রা স্পর্শ করতে পারেনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকেরা। এভাবে বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ড ঘটিয়ে দেশকে হননের দেশ, মৃত্যুর দেশ, আতঙ্কের দেশ ও রক্তপাতের দেশে পরিণত করেছে। গণতন্ত্রের দেহে ছুরি চালিয়ে তারা লাশ ও রক্তের কর্মসূচি কায়েম রেখেছে। বৃহস্পতিবার কুমিল্লা, রাজবাড়ি, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে ৫ জন ‘বন্দুক যুদ্ধে’ হত্যা হয়েছে।
রিজভী বলেন, বৃহস্পতিবার যখন এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির মাধ্যমে মানুষের সম্পদ লুটপাট না করার জন্য আহবান জানিয়েছেন তখন কয়লা খনির দুর্নীতির খবরে দেশ-বিদেশ সরগরম। ভোটারবিহীন আওয়ামী সরকারের আমলে ক্ষমতাসীনদের মুখে উন্নয়নের জোয়ার, আর কাজে দুর্নীতির পাহাড়। বড় পুকুরিয়া কয়লা খনিতে এত বিশাল পরিমাণ কয়লা লুটপাটের পর দুদক তদন্ত শুরু করেছে। ‘ যেন রোগী মরিবার পর ডাক্তার আসিলেন’। আসলে দুদক তো সরকারের দুর্নীতি ধোয়ার মেশিন। আর বিরোধী দলের জন্য দুদক টর্চারিং মেশিন। দুদকের তদন্ত আইওয়াশ মাত্র। আসলে এই অবৈধ সরকারের আমলে মহা দুর্নীতি, সুপার দুর্নীতি, মেগা দুর্নীতিরই জয়জয়কার। শেয়ার মার্কেট থেকে শুরু করে পদ্মা সেতু হয়ে ব্যাংক-বীমা-আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে প্রাইমারী স্কুল থেকে বিশ^বিদ্যালয় পর্যন্ত পরীক্ষা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পরীক্ষার হাইপার দুর্নীতি মহা ধুমধামেই চলছে এই সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায়। তথ্যমন্ত্রী তথ্য দিয়েছেন যে, পিয়নের চাকরি নিতে গেলেই নাকি ১০ লক্ষ টাকা লাগে। এই ১০ লক্ষ টাকার ভাগ কে কে পায় সেটিও তথ্যমন্ত্রী জানালে ভাল করতেন।
রিজভী বলেন, আওয়ামী শাসনামলে এত বিপুল পরিমাণ কয়লা চুরিতে কেউ বিস্মিত নয়, কারণ মেগা চুরির ঘটনা কেবলমাত্র আওয়ামী লীগের আমলেই ঘটে, এছাড়া স্বয়ং অর্থমন্ত্রী নিজেই বলেছেন-এখন পুকুর চুরি নয়, সাগর চুরি হয়। দুর্নীতি-দু:শাসনের সংস্কৃতি আওয়ামী লীগেরই। মন্ত্রী-এমপিদের তদবিরে অসাধু ব্যবসায়ী ও খনি সিন্ডিকেটই জাতীয় সম্পদ কয়লা বিদ্যূৎ উৎপাদনে কাজে না লাগিয়ে কালোবাজারে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এর প্রমান-কয়লা লোপাটের সাথে খনি দুর্নীতির তদন্তে নাম আসা প্রকল্পের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বিদেশ যেতে ৪২ দিনের ছুটি দেয়া হয়েছে। তাই এই কয়লা লোপাটের মহা দুর্নীতির দায় সরকার বা সরকার প্রধান এড়িয়ে যেতে পারে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ