ঢাকা, শনিবার 28 July 2018,১৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রচারণায় দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে আ’লীগ-ভোটের পরিসংখ্যানে এগিয়ে বিএনপি

শাহে আলম : বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এবার মোট ভোটার ২ লাখ ৪১ হাজার ৯৫৯ জন। ২০১৩ সালের জুনে অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এখানে মোট ভোটার ছিল ২ লাখ ২৮ হাজার ৬৮১ জন। সেই হিসেবে নগরীতে ভোটার বেড়েছে ১৩ হাজার ২৭৮ জন।
বরিশাল সিটি নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছেন প্রায় ১৬ হাজার। বস্তি কিংবা কলোনীতে ভোট আছে প্রায় ৩০ হাজার। এতকিছুর পরও বিগত ৩টি নির্বাচনের পরিসংখ্যান এগিয়ে রাখছে বিএনপিকে। তবুও জনগণের পুনঃসমর্থন চাইছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী অ্যাড. মোঃ মজিবর রহমান সরোয়ার। আর জোটের শরীক জামায়াতের ভোট ব্যাংক ধানের শীষ প্রতীককে এগিয়ে রেখেছে সব সময়। এবারও তার কোন ব্যতিক্রম হবে না। এদিকে, বিগত ভোটের পরিসংখ্যানে বিচলিত নয় আওয়ামী লীগ। সরকারের ব্যাপক উন্নয়নে ভোটের পরিসংখ্যান পাল্টে যাওয়ার আশা ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের। বাম ঘরানার দুই মেয়র প্রার্থীর দাবি, কারো ভোট ব্যাংক অক্ষুণœ থাকে না। বর্তমান নতুন প্রজন্ম পরিবর্তনের পক্ষে।
২০০৩ সালের ৩১ মার্চ নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী অ্যাড. মোঃ মজিবর রহমান সরোয়ার ৪২ হাজার ৬২১ ভোট পেয়ে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী এনায়েত পীর খান পেয়েছিলেন ৩২ হাজার ৬৫৫ ভোট। ২০০৮ সালে দ্বিতীয় নির্বাচনে কোন প্রার্থীকে সমর্থন দেয়নি বিএনপি। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত শওকত হোসেন হিরন ৪৬ হাজার ৭৯৬ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। বিএনপি ঘরানার ০৩ জন প্রার্থী সান্টু, কামাল ও চান মিলে পান প্রায় ৯০ হাজার ভোট।
২০১৩ সালে তৃতীয় নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত আহসান হাবিব কামাল ৮৩ হাজার ৭৫১ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত শওকত হোসেন হিরন পেয়েছিলেন ৬৬ হাজার ৭৭১ ভোট। এরমধ্যে হিরণের ব্যক্তি ইমেজের ভোট ছিল প্রায় ২০ হাজার। তবে বামপন্থী নেতাদের দাবি, এবার ভোটের হিসেব পাল্টে যাবে।
বরিশাল নগরীতে জাতীয় পার্টির শক্তি আগেও ছিলো, এখনো আছে। যা ভোটের মাধ্যমে বহিঃ প্রকাশ ঘটবে বলে আশা লাঙ্গল প্রতীকের মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপসের। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালীন বরিশালে ব্যাপক উন্নয়ন এবং দলীয় ভোট ব্যাংকের উপর ভরসা করে জয়ের আশা বিএনপি মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোঃ মজিবর রহমান সরোয়ারের। তবে এবারের নির্বাচনে প্রচার প্রচারণা আর গণসংযোগে এগিয়ে আছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। তিনি নতুন প্রজন্মের নতুন ভোটারদের অধিকাংশ ভোটই পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন আওয়ামী লীগের কর্মী ও সমর্থকরা।
এদিকে জাতীয় পার্টি, বাসদ ও কমিউনিস্ট পার্টির মেয়র প্রার্থীরা যে ভোট পাবেন তার অধিকাংশই আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক থেকে মাইনাস হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা। এদিকে বাসদের মেয়র প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী শ্রমজীবী সাধারণ মানুষ সহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেক ভোট পাবেন বলে মনে করেন জমজম ইনস্টিটিউটের পাবলিক রিলেশন অফিসার মুন্সী এনাম। অপরদিকে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব যে ভোট পাবেন তার অধিকাংশই বিএনপির ভোট ব্যাংক থেকে মাইনাস হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটারের পরিসংখ্যান যেভাবেই বিশ্লেষণ করা হোক না কেন সুষ্ঠু ভোট হলে সার্বিক বিবেচনায় এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. মজিবর রহমান সরোয়ার। বাকিটা নির্ভর করবে নির্বাচন কেমন হয় তার উপর। নির্বাচন যদি সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ না হয় বা প্রশাসন যদি সরকার দলীয় প্রার্থীকে সুযোগ কওে না দেন তবে ২০ দলীয় জোট প্রার্থীও বিজয় নিশ্চিত বলে সকলে মনে করেন। নগরীর চাঁদমারী এলাকার কাঠ ব্যবসায়ী বাদশা মিয়া বলেন, ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে অবশ্যই ধানের শীষে ভোট দেব। আমরা সবসময়ই ধানের শীষে ভোট দিয়ে আসছি। অনেকে নৌকার ব্যাচ বুকে লাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ধানের শীষে ভোট দিতে পারে ধারণা করছেন বাদশা মিয়া। তবে শওকত হোসেন হিরণের উন্নয়নের কথা মনে করে বস্তির অনেক ভোটার আওয়ামী লীগের নৌকায় ভোট দিতে পারেন বলে মনে করেন ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার আবু হানিফ। তবে বস্তিবাসীর ৩০ হাজার ভোটের অধিকাংশই যদি কেনাবেচা হয়, তাহলেও বিএপির ভয়ের কিছু নেই বলে মনে করেন সকলে।
৫৮ বর্গ কিলোমিটার বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৪র্থ পরিষদের নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের মোট ৬ মেয়র প্রার্থী এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ