ঢাকা, শনিবার 28 July 2018,১৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ইয়াবা একটি মারণাস্ত্র

বিএসএম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর ডা. এবিএম আবদুল্লাহ এক নিবন্ধে লিখেছেন: গাঁজা, মদ, হেরোইন ও কোকেন বিগত শতকের বহুল পরিচিত মাদক বা নেশাদ্রব্য। পাশাপাশি ফেনসিডিল নামক আরেকটি নেশার তরল পানীয় বাজারে আসে। এটা অবশ্য কয়েক দশক আগে কফ সিরাপ নামে ওষুধের দোকানে বিক্রি হতো। ডাক্তাররাও প্রেসক্রাইব করতেন। পরে সেটি ওষুধ হিসেবে নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু নেশার জগতে তরল পানীয় হিসেবে চালু থেকে যায়। এখনও এটির চোরাপথে ব্যাপক চাহিদা। তারপর পপিবীজ থেকে প্রস্তুত প্রায় তেঁতুলের আচারের মতো দেখতে একটি মাদকদ্রব্য নেশাখোরদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এর নাম আফিম। এছাড়াও মরফিন ও ম্যারিজুয়েনাসহ আরও দামি মাদক নেশাখোরদের কাছে খুব প্রিয়। আসলে এগুলো সবই বিষ। এসব সেবন করে আসক্তরা সাময়িক সুখানুভব করলেও ধীরেধীরে মৃত্যুর পথে এগিয়ে যায়। জীবনকে মনে করে তুচ্ছ।
বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ও বহুলভাবে ব্যবহৃত মাদকবস্তুটির নাম ইয়াবা। গোলাপি রঙের গোল এই টেবলেটটির প্রতি অনেকের উদগ্র বাসনা লক্ষণীয়। নারীপুরুষ, যুবক-যুবতী, ছাত্রশিক্ষক, ডাক্তার, ব্যবসায়ী, বেকার অনেকেই এতে আসক্ত। একবার এর নেশা কাউকে পেয়ে বসলে আর রক্ষা নেই। ছেলেমেয়ে, মা-বাবা, বাড়িঘর, ব্যবসা-বাণিজ্য কোনও কিছুর মায়া তাদের আর ধরে রাখতে পারে না। কেবলই নেশার মোহজাল তাদের অন্য এক জগতে টেনে নিতে থাকে অনবরত। গোলাপি বড়ি ইয়াবার নীল ছোবলে নাকি ৭০ লাখের বেশি বাংলাদেশি এখন। ধনিগরিব, শিক্ষিত অশিক্ষিত, কিশোরতরুণ, প্রৌঢ় কেউ বাদ নেই। উল্লেখ্য, ইয়াবা আসক্তদের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ শতাংশই নারী। শুধু মহানগরী নয়, গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ছড়িয়ে পড়েছে ইয়াবা। মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যেও ইয়াবার বাণিজ্য দিব্যি চলছে। শুধু কিছু কৌশলের পরিবর্তন হয়েছে মাত্র। আরেকটি কথা, সেটি হচ্ছে: ইয়াবাখোরের এবং এর ব্যবসায়ীরা  দুঃসাহসী, দুর্দান্ত ও জীবনের প্রতি অনাগ্রহী হয়ে পড়ে। তাই এরা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হলে প্রতিপক্ষকে মারতে কিংবা নিজেরা মরতেও দ্বিধা করে না। তাই মাদকবিরোধী অভিযানে এমন ঘটনা ঘটছে কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ইয়াবা থাই শব্দ। এর অর্থ ক্রেজি মেডিসিন বা পাগলের ওষুধ। মূল উপাদান মেথ্যামফিটামিন। এটি ভয়াবহ মাদক যা ব্রেইন ও হার্টসহ দেহের যেকোনও অঙ্গের বারোটা বাজাতে পারদর্শী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান সৈনিকদের নিদ্রা, ক্ষুধা ও ক্লান্তিহীন করতে এ মেথ্যামফিটামিন সেবন করানো হতো। এতে  দুঃসাহসী, ক্লান্তিহীন ও আগ্রাসী হয়ে উঠতো তারা। যুদ্ধশেষে ভয়ঙ্কর হয়ে যেতো। একে অপরকে গুলি করে মারতেও ছাড়তো না। অনেকে আত্মহত্যাও করতো। এজন্য এটির ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু অনেক দেশ মেথ্যামফিটামিনের উৎপাদন অব্যাহত রাখে। ইয়াবার বাণিজ্য করে যেমন অঢেল অর্থ কামানো যায়। তেমনই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের নাগরিকদের মৃত্যুর দিকে নিক্ষেপ করা যায় খুব সহজেই। তাই ইয়াবা হচ্ছে একটি মারণাস্ত্রও। এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে না পারলে আমাদের আম-ছালা সবই যাবে। আমরা বিকলাঙ্গ জাতিতে পরিণত হবো অদূর ভবিষ্যতে। আমরা কি এমনটাই চাই? নিশ্চয়ই না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ