ঢাকা, শনিবার 28 July 2018,১৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রবাসে বাংলাদেশীদের সামাজিক অবস্থা

আখতার হামিদ খান : প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশীরা কেমন আছেন? সবাই জানেন ভালো। কোনো পরিবারের একজন সদস্য বিদেশে পাড়ি জমালে পুরো পরিবারের সদস্যরাই স্বপ্নচারী হয়ে ওঠেন। ভাবতে শুরু করেন এত দিনে অর্থনৈতিক ভাগ্য বদলের পথ খুলেছে। প্রবাসজীবনে কী ধরনের সামাজিক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় তাদের, সে তথ্য দেশের আপনজনদের কাছে অজানাই রয়ে যায়। বিশেষ করে আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোতে প্রবাসজীবন কাটানো স্বজনরা সেখানকার মুক্ত সামাজিক জীবনাচারের উন্মুক্ত হাতছানিতে কিভাবে বদলে যান, জানা হয় না অনেকের। দেশীয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য ধারণ-লালন করা অসম্ভবপ্রায় হয়ে দাঁড়ায়। তারা না হতে পারেন ওয়েস্টার্ন, না থাকতে পারেন বাংলাদেশী। পরিচয় সংকট বড় হয়ে দেখা না দিলেও জীবনচরিত ও বৈশিষ্ট্যের অনেক ক্ষেত্রেই ঘুণপোকা বাসা বাঁধে। তারা বদলে যান, পরিবেশ-পরিস্থিতিগত কারণে রূপান্তরিত হতে বাধ্য হন। ফলে তারা আক্রান্ত হন ভিন্ন ধরনের সামাজিক সংকট এবং জীবনযন্ত্রণায়। এ ব্যাপারে ব্যাপক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা না গেলেও বিভিন্ন তথ্য, উপাত্ত, প্রবাসজীবন দেশে মানুষজনের অভিজ্ঞতা এবং পত্রিকায় পাঠানো সচেতন প্রবাসীদের বেশ কিছু চিঠিপত্রে যে উদ্বেগ ফুটে ওঠে এক ধরনের বেদনার আভাস দেয়।
কন্টকময় পথের কাহিনী
কয়েক মাস আগে ইতালী প্রবাসী এক বাংলাদেশী সাপ্তাহিক পূর্ণিমায় প্রকাশের জন্য কিছু ছবিসহ একটি চিঠি পাঠান। চিঠিটি সঙ্গত কারণেই প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। তিনি লিখেছিলেন সেখানে অবস্থানরত এক রোখসানা ভাবির (আসল নাম গোপন রাখা হলো) কথা। কয়েক সন্তানের জননী নরসিংদী এলাকার এই ভাবি তিন বছর আগে খালাতো ভাইয়ের সহায়তায় ইউরোপের এ-দেশ ও-দেশ ঘুরে রোমে এসে পৌঁছেন। স্বামী-সন্তানদের দেশে রেখে আসেন। কথা ছিলো সে-দেশে যাবার পর স্বামীকে তিনি নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করবেন। দুজনে মিলে কাজকর্ম করে যে অর্থ পাবেন, তা দিয়েই জীবনটা হয়ে উঠবে সুখময়। রোমে পৌঁছে তিনি খালাতো ভাইয়ের অ্যাপার্টমেন্টে ওঠেন। পত্র লেখকের ঠিকানাও একই এলাকায়। অনেক বাংলাদেশী সেখানে থাকেন। দেশ থেকে নতুন কেউ স্বজনহীন পরবাসে এলে দ্রুত সবার সঙ্গে পরিচয় হয়ে যায়। ইতালিতে আসার পর ভাবি ছিলেন আর দশজন বাংলাদেশী গৃহবধূর মতো লাজনম্র স্বভাবের। মাথায় শাড়ির আঁচল অথবা স্কার্ফ দিয়ে চলাফেরা করতেন। প্রথম পর্যায়ে ফুল বিক্রি, কাগজ বিক্রির মতো কাজ করতেন। কিছুদিনের মধ্যে ইউরোপিয়ান উন্মুক্ত জীবনের খোলা হাওয়ায় তার স্বভাব-বৈশিষ্ট্য বদলে যেতে শুরু করে। শাড়ি-সালোয়ার ছেড়ে অভ্যস্ত হতে শুরু করেন স্কার্টে। লংস্কার্ট আস্তে আস্তে শর্ট হয়। তরুণীসুলভ চপলতা তাকে পেয়ে বসে। তিনি কয়েক সন্তানের জননী, হাবভাব চালচলনে সে চিহ্ন থাকে না। অল্পদিনের ভেতরে অনেক বন্ধু জুটে যায়। চলতে থাকে একের পর এক ফ্ল্যাটিং-ডেটিং। প্রবাসীদের মধ্যে তাকে নিয়ে হৈচৈ পড়ে যায়। মক্ষীরাণী হিসেবে তিনি অতিদ্রুত পরিচিত হয়ে ওঠেন। কোথায় কখন কিভাবে কার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে প্রবাসীদের সামাজিক জীবন বিপর্যস্ত করে তুলেছেন, তারই আনুপার্বিক বর্ণনা ছিলো সেই চিঠিতে। পাঠানো ছবিগুলো ছিলো বর্ণনার সভ্যতা প্রমাণ। এসব ছবিতে দেখা গেছে বিভিন্ন পুরুষের কণ্ঠলগ্ন হয়ে থাকা স্খলিত বসনের এক নগ্নিকার কামুক ভঙ্গিমা। পত্র লেখকের মতে, উৎসাহী পুরুষদের কাছে অকাতরে নিজেকে শুধু বিলিয়েই দেননি, বিশেষ মুহূর্তগুলোও ক্যামেরাবন্দী করেন নিপুণ কৌশলে। প্রয়োজনে তা ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইলও করে থাকেন। তাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী মধুলোভী চক্র। ফলে প্রতারিতরা নিঃশব্দ আত্মসমর্পণ ছাড়া কোনো ব্যাপারে সোচ্চার হতে পারে না। উচ্ছৃঙ্খল জীবনপ্রবাহে নিজেকে উন্মুক্ত করে কথিত ভাবি দ্রুততম সময়ে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন। সেই টাকায় ঢাকার উত্তরায় জমি কিনে বাড়ি তৈরির কাজ চলছে। প্রবাসীদের কাছে পত্র লেখকের আবেদন ছিলো- এই ভাবির খপ্পরে পড়ে সহায়-সম্বল, সম্মান না খোয়ানোর। এ তথ্য পাওয়ার প্রায় দু’বছর আগে একই বিষয়ে আরো একটি চিঠি ও ছবি পূর্ণিমা দপ্তরে আসে নিউইয়র্ক থেকে। বাংলাদেশী এক মেয়ের ছবি। মেয়েটি আমেরিকার একটি নামকরা পর্নো ম্যাগাজিনের মডেল হয়েছে। নানান উদ্দীপক ভঙ্গিমায় বিবসনা হয়ে নিজেকে অকাতরে মেলে ধরেছে ক্যামেরার সামনে। এ ধরনের কাজে মোটা অঙ্কের অর্থ পাওয়া যায়। সম্ভবত এ কারণেই মেয়েটি তার সামাজিক, সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য ও মূল্যবোধ বিসর্জন দিয়ে ভোগ্যপণ্য হিসেবে নিজেকে বিপণনের জন্য তুলে ধরেছে। চিঠিতে পাঠানো তথ্যে পত্র লেখক জানান, ছোটবেলায় মেয়েটি বাবা-মায়ের সঙ্গে আমেরিকায় আসে। সেখানকার উন্মুক্ত জীবনপ্রবাহের মাঝে বড় হয়। বাবা-মা দুজনেই অর্থ উপার্জন ও জীবন বাস্তবতায় ব্যস্ত থাকার কারণে সন্তানের জন্য সেভাবে সময় দিতে পারেননি। স্কুলের সীমানা অতিক্রম করার আগেই আরো অনেক আমেরিকান টিনএজারের মতো সে বয়ফ্রেন্ড কালচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে ড্রাগে। বাবা-মা বিষয়টি আঁচ করতে পারেন অনেক দেরিতে। প্রথম দিকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন নানাভাবে। ফল হয়নি। তত দিনে মেয়েটির অধঃগামী শিকড় ছড়িয়ে পড়েছে অনেক গভীরে। বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে হৈচৈ করে বিপর্যস্ত চেহারা-শরীর নিয়ে গভীর রাতে বাসায় ফেরে। কখনো কখনো তিন-চার দিন একনাগাড়ে ফেরেও না। একমাত্র মেয়ের এমন দশায় বাবা-মা স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন হন। কোনোভাবে বুঝিয়েও ফল হয় না। কঠোর ব্যবহার করতে গেলে ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের আইন দেখিয়ে পুলিশে খবর দেয়ার হুমকি দেয়। ফলে পারিবারিক অশান্তি বাড়তেই থাকে। একপর্যায়ে মেয়েটি ঘর ছাড়ে। মেক্সিকান এক যুবকের সঙ্গে লিভ টুগেদার শুরু করে। এসব ঘটনার বেশ কিছুদিন পর তাকে দেখা যায় আলোচিত পর্নোগ্রাফির পাতায়। এশিয়ান বেবি হিসেবে সেখানে তাকে পরিচিত করা হয়েছে। সঙ্গে ছোট্ট ফিচার। তার প্রথম যৌন অভিজ্ঞতা, যৌন কল্পনা, পছন্দের পুরুষ, সমকামিতার অভিজ্ঞতা ইত্যাদি বিষয় রসালোভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পত্র লেখক জানান, শুধু এই মেয়েটি নয়, বাংলাদেশ থেকে আসা আরো অনেকেই এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ছে। অ্যামেচার ভিডিওতে তোলা বাংলাদেশী মেয়েদের পর্নোগ্রাফির ক্যাসেটও সেখানে পাওয়া যায়। পত্র লেখকের প্রশ্ন ছিলো, এই যদি হয় একমাত্র সন্তানের পরিণতি, তবে কেন এত কষ্ট করে দেশ ছেড়ে পরবাসী হওয়া। ‘অর্ডিয়াল অফ ইয়ার্কশায়ার গার্ল ফোর্সড টু ম্যারি ইন বাংলাদেশ : এ ওয়েডিং শুড বি হ্যাপি- আই ওয়াজড ডুপড, ব্রিটেন অ্যান্ড রেপড’ শিরোনামে বৃটেনের বহুল প্রচারিত দৈনিক দ্য মিরর পত্রিকায় খবর হয়ে আসে আরেক প্রবাসীকন্যা লাভলী নূর। মাত্র এক বছর বয়সে সে বাবা-মায়ের সঙ্গে লন্ডনে আসে। প্রথম দিকে সে ছিলো শান্ত স্বভাবের। লেখাপড়ার পাশাপাশি নামাজ-রোজা পালন, ঘরের কাজে মাকে সাহায্য, ছোট ভাইবোনদের দেখাশোনা করতো। স্কুলে ওপরের ক্লাসে ওঠার ধাপে ধাপে তার বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটতে থাকে। পারিবারিক অনুশাসন ও মূল্যবোধ দিয়ে বেঁধে রাখা যায় না। ১৩ বছর বয়সে সে একজন শ্বেতাঙ্গ বন্ধু জুটিয়ে নেয়। স্কুলের পরিবেশে এ বয়সে তার কোনো বয়ফ্রেন্ড না থাকা সম্মানহানির ব্যাপার। বাবা-মা ব্যাপারটা টের পাওয়ার পর উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। মেয়েকে বোঝান। সোজা সে জানিয়ে দেয়, সে নিজের ভালোমন্দ বোঝার মত বড় হয়েছে। তার কোনো ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করার কথা শুনিয়ে দেয়। আলাদা জগৎ তৈরি করে নিয়েছে সে। রাত-বিরাতে বাইরে থাকা, উইকএন্ডে আউটিং। ঘরে দরজা বন্ধ করে বয়ফ্রেন্ড নিয়ে সময় কাটানো স্বভাবে পরিণত হয়। বাবা-মা মহা দুর্ভাবনায় পড়েন। বিয়ে দেয়ার মতো পরিণত বয়সে পৌঁছেনি। সেই বয়সে পৌঁছানো পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকেন বাবা-মা। ১৮ বছর বয়সে মেয়েটি বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে ওঠার আগে দাদীর অসুস্থতার খবর জানিয়ে মা ও চার ভাইবোনের সঙ্গে দেশে পাঠানো হয়। অফিস থেকে দুই সপ্তাহের ছুটি নিয়ে দেশে আসার আগে তার শ্বেতাঙ্গ বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেয়। দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে সে দেখতে পায় দাদী অসুস্থ নন। তার টিকিট, পাসপোর্ট ও অন্যান্য কাগজপত্র কৌশলে সরিয়ে নেন অভিভাবকরা। তার জন্য পাত্র দেখা চলতে থাকে। অভিভাবকদের ধারণা ছিলো, এখানে কোনো ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিলে এই মতিভ্রম দশা কেটে যাবে। বিয়ের ব্যাপারে আপত্তি তোলায় তাকে গালাগালি এমনকি মারধর পর্যন্ত করা হয়। চাপ প্রয়োগের সব ধরনের ব্যবস্থা অব্যাহত থাকে। অবশেষে তার জন্য ৪০ বছর বয়স্ক এক পাত্র পছন্দ করা হয়। পাত্র কখনো দেশের বাইরে যায়নি। ইংরেজিও বোঝে না। লাভলী নূরের পক্ষে কোনোভাবেই এই পছন্দের বিপক্ষে মত দেয়া সম্ভব ছিলো না। ইচ্ছা করেই সে কাবিননামার স্বাক্ষরে ভুল নাম লেখে। এ প্রসঙ্গে পরবর্তীতে বৃটেনে ফিরে দ্য মিরর পত্রিকার সাংবাদিকদের কাছে জানায়, ‘বিয়ের প্রথম রাতে স্বামী নামের মানুষটা বাবা-মায়ের সহায়তায় আমাকে ধর্ষণ করে। শ্বশুরবাড়ির অবস্থা করুণ। কাঁচা পায়খানা। বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই। নলকূপের পানিতে আয়রন। রান্নার চুলা উঠানে। পর্দা মেনে চলতে হয়। শাড়ি পরে বাড়ির অন্যান্য মেয়েদের সঙ্গে খালে গোসল করতে যেতে হয়।’
এ পরিবেশে লন্ডনে বড় হওয়া একটি মেয়ের পক্ষে খাপ খাওয়ানো সম্ভব নয়। শ্বশুরবাড়ির সবার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে। না খেয়ে খেয়ে শুকিয়ে যায়। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির কারো পক্ষে তাকে সহজ-স্বাভাবিক করে তোলা সম্ভব হয় না। এ নিয়ে দুই পরিবারের সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সালিস-বিচার বসে। সাব্যস্ত হয়, তার মানসিক পরিবর্তনের জন্য অন্য পরিবেশে রাখার। নতুন পরিবেশে এসে সে এক যুবকের সহায়তায় গোপনে চিঠি পাঠায় লন্ডনে বয়ফ্রেন্ডের কাছে। ওদিকে সময়মতো দেশ থেকে ফিরে না আসায় বয়ফ্রেন্ডও ছিলো উদ্বিগ্ন। অফিসে খোঁজ নিয়ে জেনেছে, ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও আসেনি। কোনো খবর নেই তাদের কাছে। পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিয়ের কানাঘুষা শোনে। লাভলীর সন্ধানে এখানে-ওখানে দৌড়ায়। কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ না থাকায় আইনগত সাহায্যও গ্রহণ করতে পারে না। এমন মুহূর্তে তার হাতে আসে প্রেমিকার পাঠানো সেই গোপন চিঠি। সব জানার পর বয়ফ্রেন্ড তার ব্যাপারে সাউথ হল ব্লাক সিস্টার প্রেসার গ্রুপ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে। গোপন ঠিকানায় লাভলী নূরকে জানিয়ে দেয়া হয়, এক উকিল তার সঙ্গে দেখা করবে। এক রাতে হঠাৎ স্থানীয় পুলিশ হানা দেয় লাভলী নূরের ঠিকানায়। সঙ্গে বৃটিশ কনসুলেটের লোকজন। সঙ্গে করে তাকে সরাসরি বৃটিশ হাইকমিশনে আনা হয়। তার হাতে ধরিয়ে দেয়া হয় লন্ডন যাওয়ার টিকিট ও পাসপোর্ট। ওখানে বয়ফ্রেন্ড তাকে রিসিভ করে। এরপর কিছুদিনের জন্য ওরা চলে যায় অজ্ঞাত ঠিকানায়। সেখান থেকে দেয়া সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রবাসী কন্যার এই চাঞ্চল্যকর সংবাদ গোটা বৃটেনে হৈচৈ তোলে। প্রবাস-জীবনের সামাজিক বিপন্নতার অনেক চিত্রই বিবিসিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মিডিয়ায় বহুবারই উঠে এসেছে। কয়েক মাস আগে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত একটি বাংলা কাগজে চাঞ্চল্যকর সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রবাসী এক বাংলাদেশী মহিলাকে কেন্দ্র করে। বিবাহিতা এবং কয়েক সন্তানের জননী এই মহিলা আমেরিকায় আসার আগে মধ্যপ্রাচ্যে ছিলেন। সেখানে তার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কোনো তথ্য না পাওয়া গেলেও আমেরিকায় আসার পর তার উন্মুক্ত ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন কম্যুনিটিতে রীতিমতো হৈচৈ ফেলে দেয়। জ্যাকসন হাইটস এলাকায় তিনি এক বাংলাদেশী দম্পতির সঙ্গে শেয়ারে ঘরভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ক’সপ্তাহ যেতে না যেতেই দম্পতি পরিবারে দেখা দেয় অশান্তি। নিরীহ ও ভদ্র স্বভাবের স্বামীর সঙ্গে কখন কীভাবে ভাড়াটে ভদ্রমহিলার সম্পর্ক গড়ে ওঠে ঘূর্ণাক্ষরেও স্ত্রী তা আঁচ করতে পারেন না। কর্মস্থল থেকে ক্লান্ত শরীর নিয়ে একরাতে বাসায় ফিরে সুবোধ স্বামীটিকে তিনি ভাড়াটে মহিলার সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। ক্ষোভ, দুঃখ, অপমানে তিনি স্থির থাকতে পারেননি। ঝাঁপিয়ে পড়েন ভাড়াটে মহিলার ওপর। মহিলার পক্ষ অবলম্বন করে স্বামী পরিস্থিতি আয়ত্তে আনার জন্য কষে চড় বসান স্ত্রীর গালে। এতেই ঘটে যায় বিপত্তি। স্ত্রী সঙ্গে সঙ্গেই ফোন করেন পুলিশ দফতরে। কয়েক মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয়। পরবর্তীতে কী ঘটেছে দম্পতির ভাগ্যে, তা জানা না গেলেও পত্রিকার প্রতিবেদনে ভাড়াটে বাংলাদেশী মহিলার স্বেচ্ছাচার ও অবাধ যৌনজীবন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়। এই মহিলা শুধুমাত্র একটি পরিবারের স্থিরজীবনে অশান্ত ঝড় তোলেননি। ঝড় তুলেছেন আরো অনেক পুরুষের হৃদয়েও। এমন কী তার চাইতে কম বয়সী অনেক যুবকের সঙ্গে গড়ে ওঠে ঘনিষ্ঠতা। সম্পর্ক নিয়ে তার প্রেমিকপ্রবরদের মাঝে কয়েক দফায় হাতাহাতি পর্যন্ত হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ