ঢাকা, শনিবার 28 July 2018,১৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

লুটেরাদের দাতভাঙ্গা জবাব দিতে হবে

ডাঃ মোঃ মুহিব্বুল্লাহ : মানব জীবনে টাকাই অর্থ সম্পদের প্রধানতম উপাদান। এমনকি এ টাকাকে আমরা ঝবপড়হফ এড়ফ বলেও অবিহিত করে থাকি। সমাজে যার টাকা বা অর্থ কোড়ি আছে তার মূল্যই অন্যরকম। গেছে কালও যাকে কেউ গুনত না আজসে সমাজ শালিসের মধ্যমনী। রাতারাতি এমন পরিবর্তন অর্থের অবদানেই হয়ে থাকে। তবে হালাল-হারাম যেকোনো পন্থায় অর্জিত এ শক্তি প্রায় সকল ব্যক্তিকে শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিতে পরিনত কোরে তোলে। এ কারণে কোনো মানুষ যদি কখনও মানব জাতির উপরে নিজের দাপট বা প্রভুত্ব কায়েমের নেশায় মত্ত হয়ে পড়ে তাহলে তার জীবনে আর্থিক শৃঙ্খলার মৃত্যু ঘটে। অর্থ সম্পদ জমাতে সে তখন আপনপর ভুলে যায়। মান ইজ্জত বিকিয়ে দেয়। ন্যায় অন্যায়ের তোয়াক্কা করেনা। মানবতা চর্চা বর্জন করে। গুম, খুন করতে দ্বিধাবোদ করেনা। কারোর সাথে পৈশাচিক আচরণ করতেও সে বিন্দুমাত্র কুন্ঠিত হয়না। চুরি, ডাকাতি, ছিন্তাই, রাহাজানি, দখলদরিত্ব, দুর্নীতি, দুরাচার ও সুদ-ঘুষ কষে নিয়া যার হয়ে দাঁড়ায় নিত্যকার কর্মকান্ড। তার মধ্যে তখন আর একফোঁটা স্নেহ-মমতার বালাই ও খুজে পাওয়া যায় না।
কোটি কোটি জনতার অবর্ণনীয় কষ্টের দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করে। সিমেন্ট-বালু-কঙ্কর যথাযোগ্য পরিমাণ প্রয়োগ না করে তা আত্মসাৎ করে রোড-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, পোর্ট-প্লাটুন ও বহুতল ভবনের মতো প্রতিটি উন্নয়নমুলক টেন্ডারকে একেবারেই মানহীনভাবে নির্মাণ করে তা থেকে কোটি কোটি টাকা লুটে নেয়। সরকারী অফিস-আদালত ও কল-কারখানায় চাহিদা মাফিক উৎপাদন স্বত্বেও পকেট পুরনোর মাধ্যমে লোকশান দেখিয়ে অবৈধ সম্পদের পাহাড়ি মালিক বনে যায়। সরকারি পদপদবির সুযোগ গ্রহণ করে বিদেশে বসেই কোটিপতিদের মহানায়কে পরিনত হয়। এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে নানান ভাবে অসীম কালিমাময় নীতিভ্রষ্ট পরিবেশে বিশৃঙ্খল উপায় ও পন্থায় অর্থ উপার্জনের মহা প্রতিযোগিতা চলছে। তবে সত্য বলতে যেকেউ চাইলেই এসব অন্যায় পন্থা ব্যবহার করে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হতে পারছে না। এ সৌভাগ্যের তিলকধারী হতে সবারই সরকারি দলভুক্তির নেমপ্লেট অথবা আইডি কার্ড বুকে ঝুলানো থাকা লাগছে। বিরোধী  মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিদের জন্য এসকল সুযোগ সুবিধার এ দরজা একেবারেই বন্ধ বললে চলে। বিশৃঙ্খল তো দুরের কথা সুশৃঙ্খল ভাবেই ইনকামের পথ তাদের দারুণ সংকির্ণ। নানা হামলা-মামলার শিকার হয়ে তাদের ঘরে ঘুমাবার সুযোগ টুকুই নাই। ব্যবসা-বাণিজ্য করতে সরকারি দলের নেতা-কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং হরেক রকম সংগঠন ও সংস্থার চাহিদা পুরণ করতে করতেই দেউলিয়া হয়ে পড়তে হয়। বরং বিশৃঙ্খল ভাবে অর্থ উপার্জনকারিদের ফাঁদে পা না বাঁধিয়ে চলার সুযোগ পর্যন্ত থাকেনা। মোটামুটি ভাবে ঘরে ঘুমাতে চাইলেও আজ দেশের নির্দলীয় জনসাধারণদেরকে পর্যন্ত ক্ষমতাসীন দলের চাঁদাবাজদের আস্তানায় হাজিরা দিয়ে খুশি করে আসা লাগছে। যে কারণে চলমান সিচুয়েশনে আয়-ইনকামের পথে সরকারি দলের লোকদেরকে ছাড়া আর কাউকে আর্থিক শৃঙ্খলহীনতার গডফাদার হিসেবে চিহ্নিত করার উপায়ান্ত মিলছেনা। আজ সরকার দলের সর্বস্তরের ব্যক্তিবগের আয়-ইনকামই চতুর্মুখি। অফিসে চলে এক পথে, আর অফিসের বাইরে চলে অন্য পথে। শুধু একা সে এ কাজ করছে তাও নয়। তার স্ত্রী, ভাই, ভাগ্নে, চাচা, ভাতিজা, শ্যালক, পিয়ন ও এমনকি বন্ধুরাও শিকার ধরে ধরে নিয়ে আসছে। আর রাঘববোয়াল বড় হা করে যা খাওয়ার তা খেয়েই ছাড়ে। আজ চাকুরী নিতে গেলে, মামলা-মকদ্দমায় পড়লে, বিদেশ-বিভুইয়ে যেতে এমনকি ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান-মেম্বারের কাছে ভাতাকার্ড করতে গেলেই ক্ষমতাসীনদের নেতাকর্মী ও আমলা-চোমলাদের হাতে সর্বস্বান্ত হওয়ার বিনিময়ে তা অর্জন করতে হচ্ছে। ব্লাক লাইনে অর্থ উপার্জনের এমন ছড়াছড়ি দেখে মনে হচ্ছে তাদের এতো অধঃপতন যে, সরকারদলিয় যেকোনো পথের ভিখারিও যদি কোনো পথচারীকে অসহায় অবস্থায় পায় তাহলে সুযোগে সে ভিক্ষুকও ঐ পান্থপথিক মুসাফিরের কাছ থেকেও যাকিছু পায় চেটে খাওয়ার সুযোগ গ্রহণ করে ছাড়ে। দেশ ও জাতির কল্যাণ চিন্তা কোনো গলাবাজ দেশ ও জনদরদীদের মধ্যে খুজে পাওয়া যাচ্ছেনা। ক্ষমতা ধরে রাখতে যিনি প্রতিটা মঞ্চেমঞ্চে বলে থাকেন “আমি ক্ষমতা চাইনা, চাই জনগনের সেবা করতে।” অথচ দেখা যায় তার সন্তান মিস্টার সজিব ওয়াজেদ জয়কে বিদেশে বসিয়ে রেখেও পৃথিবীর অসংখ্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের বেতনের চেয়েও বেশী বেতন দিয়ে রাষ্ট্রিয় কোষাগারকে উজাড় করে ছাড়ছে। নানারকম বাহানাবাজি পন্থায় অর্থ কারাবদ্ধ করছে। দেশের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আজ ক্ষমতাসীনদের আক্রমণে দেউলিয়ার পথে নেমেছে। যেখানেই তাদের ক্ষমতার প্রভাব আছে সেখানেই শৃঙ্খলহীন ইনকাম নীতির গতি প্রবাহিত হতে দেখা যাচ্ছে। এ দুর্নীতিবাজ পন্থাবলম্বী বিশৃঙ্খল অর্থ উপার্জকগন দেশবিদেশের সর্বস্তরে এখন চিহ্নিত হয়ে পড়েছে। জুলমের শিকার হওয়া ছাড়া কেউ তাদের এ কর্মকান্ডকে মেনে নিতে প্রস্তুত না। যার কারনে ধিক্কিত এ পন্থাকে সকলের বর্জনীয় পন্থাই বলা চলে। অতএব যে বা যারা মানবতাহীন গর্হিত এহেন কর্মনীতি প্রয়োগে আর্থিক বিশৃঙ্খল পদ্ধতিতে নিজেদের পার্সোনাল ব্যালেন্স বৃদ্ধি করে দেশ ও জাতির উপরে জগদ্দল পাথর হয়ে চেপে বসে থাকে, তারা যতই নেতামী সাজে সজ্জিত হক আর দরদী ভাষায় মঞ্চ কাঁপাক তারা সার্থপুজারি গণবৈরী ও দেশ লুন্ঠক ব্যতিত আর কিছু হতে পারেনা। তারা রাতারাতি আঙ্ুল ফুলে কলাগাছ হয়ে নিশ্বের শোষকে পরিনত হতে চাওয়া এক অশুভ শক্তি মাত্র।
তাই আসুন আমরা একটি সুখ্যাতিপূর্ণ গণতান্ত্রিক দেশের নাগরিক হিসেবে এহেন লুটেরাদের জন্য দাতভাঙ্গা জবাব দিই। এদেশের জনগনকে সঙ্গে করে প্রতিটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংস্কার পন্থার মাধ্যমে কোনো রাক্ষসী রাঘববোয়ালদের হাত থেকে দেশ ও জাতি রক্ষার শপথ নিই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ