ঢাকা, শনিবার 28 July 2018,১৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খামারবর্জ্যরে দুর্গন্ধে স্কুলের পাঠদান ব্যাহত

রামু উপজেলায় একটি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, যার চারপাশে গড়ে উঠেছে ৭/৮টি মুরগির খামার দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এ অবস্থায় ছাত্র-ছাত্রীদের নাক ধরে ক্লাস করতে হচ্ছে -সংগ্রাম

শাহনেওয়াজ জিল্লু, কক্সবাজার : কক্সবাজারের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালার একটি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। যার চতুর্পাশ্বে গড়ে উঠেছে কমপক্ষে ৭/৮টি খামার। এসব খামারের সবকয়টিতেই বাণিজ্যিকভাবে মুরগী লালন পালন হয়ে থাকে। কোনো ধরণের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে খামারগুলো গড়ে উঠেছে বলে সরল স্বীকারোক্তিও পাওয়া গেছে খোদ জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তার কাছ থেকে। কিন্তু খামারগুলোর ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তার লিখিত প্রতিবেদনটি যথেষ্ট প্রশ্নবিদ্ধ বলেও অভিযোগ উঠেছে। এব্যাপারে সরাসরি কর্তৃপক্ষকে দুষছে ভুক্তভোগীরা। খামারীদের বেশিরভাগ স্থানীয় ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় দাপটের সাথে খামারগুলো পরিচালনা করে আসছে বলে অভিযোগ জানিয়েছে স্থানীয়রা। খামারী বর্জ্য তথা মুরগীর বিষ্ঠাগুলো যত্রতত্র অপসারণ, খোলা জায়গায় কাঁচামল স্তুূপীকরণসহ আরোও নানাদিক দিয়ে খামখেয়ালীপনা দেখিয়ে যাচ্ছে অভিযুক্ত খামারীরা। এসবের কারণে স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিনে দিনে বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে তারা রাস্তা দিয়ে পায়ে হেটে স্কুলে আসতে চায়না। এমনকি কোনো কোনো শিক্ষার্থী স্কুল ফাঁকি দিতে বিষয়টিকে অজুহাত হিসেবে তৈরি করেছে। পাঠদান চলাকালীন সময়ে বাতাসের সাথে যখন খুব বেশি দুর্গন্ধ ভেসে আসে তখন শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা সারাক্ষণ নাকে হাত দিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে নিয়ে যেতে হয়। এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে যাবে। হাঁপানি, বঙ্কাইটিস, একজিমাসহ আরোও বিভিন্ন রোগাক্রান্ত হতে পারে কোমলমতি এসব শিশুরা। বন্ধ হয়ে যেতে পারে গ্রামটির একমাত্র বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রমও। প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে কথাগুলো বলছিলেন, মোড়াপাড়া বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফসার। সরেজমিন, ৮ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলটিতে গমনাগমনের একমাত্র সড়কটির প্রবেশ মুখেই গড়ে উঠেছে একটি লেয়ার খামার। স্কুল থেকে মাত্র ১শ’ গজ দুরে খামারটির অবস্থান। মুরগীর কাঁচা বিষ্ঠাগুলো রাস্তার পাশেই খোলামেলাভাবে স্তুপ করে রাখা হয়েছে। স্থানীয় জোয়ারিয়ানালার মৌলানা সিরাজের পুত্র এমরান নামে এক ব্যাক্তি খামারটি গড়ে তুলেছে।  তার পাশে ৫০ গজ দুরে আরোও একটি খামার গড়ে তুলেছে জোয়ারিয়া নালার মোরাপাড়া এলাকার মৃত নুরুল হকের পুত্র তালেব। একই ভাবে আরোও একটি খামারের দেখা মিলেছে যার অবস্থান বিদ্যালয় ও লোকালয়ের মাঝখানে। এটি ব্রয়লার খামার। এখামারটির মালিকানায় রয়েছে একই এলাকার তৈয়ব গোলামের পুত্র নুরুল ইসলাম প্রকাশ নুরু। অভিযোগের বিষয়ে জানতে এদের প্রত্যেকের সাথে যোগাযোগের চেষ্ঠা করা হয়। কিন্তু কাউকে ওই সময়ে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় জনসাধারণ প্রতিবেদককে জানান, প্রায় সাড়ে ৪হাজার মানুষের জনবসতিপূর্ণ একটি গ্রামে এতগুলো খামার কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। মুনাফালোভীরা একে অপরকে দেখে লোকালয়ে যত্রতত্র খামার গড়ে তুলেছে। অনেকটাই স্বেচ্ছাচারী মনোভাব নিয়ে অভিযুক্ত খামারীরা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। মোরাপাড়া বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, অত্র এলাকায় একটি শিক্ষিত জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে ২০১০ সালে প্রথম এই স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করি। ২০১৩ সালে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে স্কুলটি বিভিন্ন বাঁধা বিপত্তির সম্মুখিন হতে থাকে। এরপরও গ্রামের একমাত্র স্কুলটির শিক্ষা কার্যক্রম যেনো কোনোভাবেই ব্যহত না হয় সে লক্ষ্যে স্থানীয় গ্রামবাসীরা যে যেভাবে পেরেছে সহযোগীতা করেছে।
এমনকি প্রত্যেকের সহযোগীতায় স্কুলটির পাঠদান কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সব পি.ই.সি পরীক্ষায় শতভাগ পাশ নিয়ে সফলতার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ করে ২০১৬ সালে স্কুলটির চতুর্দিকে ঘিরে বাণিজ্যিক খামার গড়ে উঠতে শুরু করে। সেই থেকে স্কুলটির পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। কিন্তু তারা কিছুই করতে পারছেনা। খামারের বর্জ্যরে দুর্গন্ধে বাচ্চাদের স্কুলে যাওয়া আসা করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। ক্লাসরুমে দুর্গন্ধ ভেসে আসে। নাকে রুমাল বা যেকোনো দুর্গন্ধ প্রতিরোধক দিয়ে পড়ালেখা করতে হয়। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও রামু উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রুপেন চাকমা জানিয়েছেন, খামারগুলো নিয়ম বহির্ভূতভাবে তৈরি করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি এলাকাবাসীর অভিযোগ মারফতে জানতে পেরেছি। তদন্ত প্রতিবেদনও জমা দিয়েছি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবিষয়ে জানতে চাইলে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লুৎফুর রহমান জানান, আমরা ঘটনাস্থলে পুনরায় তদন্তে যাবো। এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ