ঢাকা, শনিবার 28 July 2018,১৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মিরসরাইয়ে ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত ॥ রাস্তাঘাট ও ফসলের ক্ষতি

১ থেকে ৫ নং ছবি- টানা বৃষ্টিতে মিরসরাই উপজেলার ফেনাপুনি গ্রামের বিভিন্ন বসতঘরে পানি ঢুকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ৬ নং ছবির ক্যাপসন-টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ভেঙ্গে যাওয়া নিজামপুর রেল ষ্টেশন সড়ক পরিদর্শন করছেন স্থানীয় চেয়ারম্যান ফজলুল কবির ফিরোজ

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা: টানা ভারি বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে মিরসরাই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে আছে উপজেলার শত শত পরিবার। পাহাড়ি ঢলে আউশ রোপা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি ভেঙ্গে গেছে উপজেলার অনেক গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক। বিভিন্ন মৎস্য প্রকল্প থেকে পানিতে ভেসে গেছে লাখ লাখ টাকার মাছ।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির কারণে ক্লাস নেয়া সম্ভব হয়নি। সোমবার রাত ১১টা থেকে টানা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার করেরহাট, হিঙ্গুলী, জোরারগঞ্জ, কাটাছরা, মিঠানালা, মিরসরাই সদর, মিরসরাই পৌরসভা, খৈয়াছড়া, ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার কাঁচা, পাকা, আধাপাকা রাস্তাসহ গ্রামীণ সড়কগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ায় যানবাহন ও জন চলাচলে ব্যাপক ভোগান্তির কবলে পড়েছে। আবার কোন কোন অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজের শিক্ষক হামিদা আবেদীন পলি জানান, প্রতিদিন সিএনজি অটোরিক্সা যোগে বড়তাকিয়া থেকে আবুতোরাব হয়ে কলেজে যাই। মঙ্গলবার সড়কে পানি উঠে জলাবদ্ধতার কারণে সিএনজি অটোরিক্সা চলাচল না করায় অনেক কষ্টে কলেজে যেতে হয়েছে। কলেজ থেকে ওই সড়ক দিয়ে অধিকাংশ পথ পায়ে হেঁটে বাড়ি যেতে হয়। শুধু হামিদা আবেদীন নয়, এভাবে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা কয়েকটি ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষদের।
জানা গেছে, উপজেলার অনেক গ্রামীন পাকা ও আধাপাকা সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। পূর্ব খৈয়াছরা, পশ্চিম খৈয়াছড়া ফেনাপুনি গ্রামে সম্পূর্ণভাবে জলাবদ্ধতার শিকার হাজার হাজার পরিবার।
ফেনাপুনি এলাকার বাসিন্দা, মোহাম্মদ রাশেদ, আব্দুল আজিজ, শিবলু বলেন, এই গ্রামে আর থাকতে মন চাইছেনা। বৃষ্টি হলে বসতঘরে পানি ঢুকে যায়। থাকা, রান্না করতে অনকে কষ্ট হয়। দ্রুত খালগুলো সংস্কার না করলের আমাদের দুর্ভোগ লাঘব হবেনা। তারা খালগুলো সংস্কারের জন্য সরকারের প্রতি দাবী জানান।
ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পাহাড় ধসের আতংকে, দিন কাটাচ্ছে পাহাড়ী এলাকা করেরহাট, খৈয়াছড়া, ওয়াহেদপুর, জোরারগঞ্জ, মিরসরাই সদর ইউনিয়নের পাহাড়িসহ প্রায় ২৫ হাজার মানুষ।
জানা গেছে, মিরসরাই উপজেলার অনেক খাল দীর্ঘদিন যাবত খনন এবং সংস্কার না হওয়ার ফলে জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করছে। পাহাড়ী নিকটবর্তি ছরাগুলো ও সংকির্ণ হয়ে যাওয়ায় দ্রুত পানি সরতে না পেয়ে বিভিন্ন রাস্তাঘাট তলিয়ে যাচ্ছে। খাল পার্শ্ববর্তী হাট-বাজারগুলোকে ঘিরে গড়ে উঠেছে শতশত অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা। এসব স্থাপনা ও দোকানপাটের কারণে বিভিন্ন খালে পানি প্রবাহে বিঘ্ন ঘটে। ফলে প্রত্যক বছর নিন্মাঞ্চল এলাকাগুলো পানির নিচে ডুবে যায়। এছাড়া অপরিকল্পিতভাবে পানি নিস্কাশনের পথ না রেখে বিভিন্ন শিল্প কারখানা গড়ে উঠার কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহমদ বলেন, উপজেলা প্রায় ৩শ হেক্টর আউশ রোপা পানির নিচে রয়েছে। তবে বৃষ্টি কমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান কমে যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ