ঢাকা, শনিবার 28 July 2018,১৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নদী শাসন ব্যবস্থা না থাকায় শঙ্কা কাটছে না দাকোপের লক্ষাধিক মানুষের

খুলনা অফিস: নদী শাসন ব্যবস্থা না থাকায় শঙ্কা কাটছে না আইলা দুর্গত খুলনার দাকোপের পৃথক দুইটি পোল্ডারের ৭টি ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষের। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পৃথক এ দুইটি পোল্ডারে ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে একাজটি পেয়েছেন চায়নার একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু মেগা বাজেটের এই প্রকল্পের আওতায় নদী শাসনের ব্যবস্থা না থাকায় এলাকাবাসী হতাশ। নদী ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ছাড়া বাঁধ নির্মাণ হলে সরকারের শত শত কোটি টাকা অপচয় ছাড়া বাস্তবভিত্তিক কোন কাজে আসবে না বলে এমটিই মন্তব্য করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
বঙ্গোপসাগর উপকূলীয় খুলনার দাকোপ উপজেলার প্রায় আড়াই লক্ষাধিক মানুষকে নদী ভাঙন এবং নদীর লবণাক্তা পানির সাথে নিরন্তর লড়াই করে বাঁচতে হয় সারাটি বছর। প্রায় নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছিলো উপকুলীয় এলাকার বসত ঘর বাড়ি, যেন প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর নদী ভাঙন তাদের নিত্যসঙ্গী। ষাটের দশকে নির্মিত পাউবো’র বেড়িবাঁধ যুগপোযোগী নয় উল্লেখ করে দাকোপবাসী সেই থেকে নদী ভাঙন প্রতিরোধে ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছিলেন। উপজেলার ৩২ ও ৩৩নং পোল্ডার এবং বাগেরহাট জেলার রামপাল ও শরণখোলা উপজেলার ২টি পোল্ডারে টেকসই ও মজবুতপূর্ণ বাঁধ নির্মাণের নির্দেশ দেন বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় বিশ্বব্যাংকের ৬৯৭ কোটি ব্যয়ে উল্লিখিত উপকূলীয় এলাকার টেকসই বাঁধ নির্মাণে একটি প্যাকেজ গ্রহণ বরা হয়। ওই প্রকল্পের আওতায় দাকোপের পৃথক ২টি পোল্ডারে ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। ভূমি থেকে ১০ফুট উচ্চতা এবং বাঁধের টপ লেভেলে ১৫ফুট প্রশস্ত করে প্রকল্পের ডিজাইন করা হয়। চায়নার দি ফাস্ট ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গত ২৬ জানুয়ারি ২০১৬ কাজ শুরু করেন। প্রকল্পের কাজ শুরু হলে এলাকাবাসীর মনে নতুন আশার সঞ্চার হয়। কিন্তু পরবত্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই প্রকল্পে কেবল বাঁধ নির্মাণ হবে। নদী শাসন অর্থাৎ ভাঙন প্রতিরোধে কোন ব্যবস্থা থাকছে না।
অপর একটি সুত্রে জানা যায়, প্রজেক্ট ডাইরেক্টর হিসেবে সরাফাত হোসেন বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি নদী শাসন ব্যবস্থা রেখে প্রথম অবস্থায় কাজের ডিজাইন করেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি বদলী হলে তার স্থলাভিত্তিকযুক্ত ডাইরেক্টর ডিজাইন পরিবর্তন করে কেবল বাঁধ নির্মাণকে প্রাধান্য দিয়ে প্রকল্প গ্রহণ করেন। ফলে শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে সরকার যে উদ্দেশ্য এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে তা কাজে না আশার আশংকা করছেন এলাকার সচেতন মহল। নদী শাসন ছাড়া কেবল বাঁধ নির্মাণ হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সেটি আবারও নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশংকা থেকেই যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হান্নান নদী শাসনের প্রয়োজনীয়তা সাথে একমত পোষণ করে বলেন, বর্তমানে ডিজাইন অনুযায়ী ৩২নং পোল্ডারে ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে মাত্র ২ কিলোমিটার নদী শাসন ব্যবস্থা ধরা আছে, অনুরূপ অবস্থা ৩৩নং পোল্ডারেও। তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত নদী ভাঙনের কারণে পরিস্থিতি তুলে ধরে পর্যাপ্ত নদী শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আমরা উপর মহলে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ আবুল হোসেন বলেন, সমুদ্র উপকূলীয় এ উপজেলায় পৃথক দুইটি পোল্ডারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়নে বিশ্ব ব্যাংক টেকসই ও মজবুতপূর্ণ বেড়িবাঁধ নির্মাণ করলেও নদী শাসন ব্যবস্থা না রেখে বাঁধ নির্মাণ করায় এর স্থায়িত্ব নিয়ে বেশ চিন্তিত।
নদী শাসন ব্যবস্থা রাখার জোর দাবিসহ ৩১নং পোল্ডারের বেড়িবাঁধটি যুগোপযোগী করে নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি।
নদী শাসন ছাড়া বাঁধ নির্মাণ হলেও যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে আবারও আইলারমত মহাবিপর্যয় মানুষের মাঝে নেমে আসতে পারে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য পঞ্চানন বিশ্বাস বলেন, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে নির্মানাধীন দাকোপ উপজেলার ৩২ ও ৩৩নং পোল্ডারের বেড়িবাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি নদী শাসন ব্যবস্থা রাখার জন্য পানি সম্পদমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি এবং বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ