ঢাকা, শনিবার 28 July 2018,১৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রামে বিএমডিসির নির্দেশনা মানেননি তিন চিকিৎসক

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামে শিশু রাইফার মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে গঠিত বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নির্দেশনা মানেন নি তিন চিকিৎসক। মঙ্গলবার তদন্ত কমিটির প্রধান রুহুল আমীনের নেতৃত্বে চার সদস্যের কমিটি নগরের ম্যাক্স হাসপাতালে প্রায় চার ঘণ্টা অবস্থান করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাক, কান, গলা বিভাগের অধ্যাপক আবুল হাসনাত জোয়ার্দার, নিওরোসার্জারি বিভাগের অধ্যাপক নারায়ণ ও বিএমডিসির ডেপুটি রেজিস্ট্রার আরমান হোসেন।
হাসপাতাল  থেকে বের হয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান রুহুল আমীন সাংবাদিকদের বলেন, চিকিৎসকরা বিএমডিসিতে আবেদন করেছিলেন, ব্যক্তিগত কারণে তারা আসতে পারেননি। আমরা তদন্ত কাজ শুরু করেছি। তদন্ত কাজের একটা অংশ শেষ হয়েছে মাত্র। আরও তদন্ত প্রয়োজন। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তাদের সাথে আমাদের এখনও সাক্ষাৎ হয়নি। রুহুল আমীন বলেন, রাইফার বাবা রুবেল খানের সাথে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে, দেখা হয়নি। সবার মতামত সংগ্রহ করা গেলে প্রাথমিকভাবে কনক্লুশান ড্র করা যাবে।
অন্যদিকে শিশু রাইফার বাবা সাংবাদিক রুবেল খান বলেন, বিএমডিসির ডেপুটি রেজিস্ট্রার আরমান হোসেন আমাকে টেলিফোনে ম্যাক্স হাসপাতালে যেতে বলেছেন। আমি অপারগতা প্রকাশ করেছি। আমি বলেছি ম্যাক্স হাসপাতালে দুঃসহ স্মৃতি আছে আমার। সেখানে আমি মানসিকভাবে ঠিক থাকতে পারব না। পাশাপাশি মামলা করায় নিরাপত্তার অভাব বোধ করছি বলেও জানিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, তদন্ত কমিটিকে আমার বাসায় অথবা প্রেস ক্লাবে কথা বলার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। তাতে রাজি না হওয়ায় সার্কিট হাউসে বসতে বলেছি।
তাতেও তারা রাজি না হয়ে আমাকে কোনো রেস্টুরেন্টে কিংবা ঢাকায় গিয়ে কথা বলার প্রস্তাব দেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কিছু রেস্টুরেন্টে বসে আলাপ করা যায়না। আর ঢাকায় যাওয়ার মত মানসিক অবস্থা আমার নেই।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) চিঠি পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন রুবেল। চিঠিতে তদন্ত কমিটির কাছে সাক্ষ্য দিতে ম্যাক্স হাসপাতালের চেয়ারম্যান শিব শংকর সাহা, মহাব্যবস্থাপক রঞ্জন প্রসাদ গুপ্ত, শিশু বিশেষজ্ঞ বিধান রায় চৌধুরী, মৃত্যুর দিন দায়িত্বরত চিকিৎসক দেবাশীষ সেন গুপ্ত, শুভ্রদেব, নার্স ও ওয়ার্ড বয়দেরও উপস্থিত থাকতে বলা হয়। রাইফার বাবা রুবেল খান ও তার স্ত্রীকেও হাসপাতালে উপস্থিত থাকতে বলা হয়।এছাড়া রাইফাকে হাসপাতালে ভর্তির দিন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত চিকিৎসা প্রদান সংক্রান্ত তথ্য তদন্ত কমিটির কাছে সরবরাহ করার জন্য বলা হয় চিঠিতে।
গলা ব্যাথা হওয়ায় রাইফাকে গত ২৮ জুন বিকালে চট্টগ্রাম শহরের ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। ২৯ জুন রাতে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাইফা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ