ঢাকা, সোমবার 12 November 2018, ২৮ কার্তিক ১৪২৫, ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ধর্ষণ ও সন্ত্রাস বাড়ছে: বিজেপি এমপির দাবি

হরি ওম পাণ্ডে

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ধর্ষণ ও সন্ত্রাসের মত ঘটনা বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন উত্তর প্রদেশের বিজেপি এমপি হরি ওম পাণ্ডে। তার দাবি, মুসলিমদের বাড়তি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা না হলে দেশের মধ্যে আরেক পাকিস্তান তৈরি হবে। আজ (শুক্রবার) সংবাদ সংস্থা এএনআইতে হরি ওম পাণ্ডের ওই মন্তব্য প্রকাশ্যে এসেছে।

বিজেপি এমপি হরি ওম পাণ্ডের দাবি, মুসলিমরা ৩/৪ টা বিয়ে করে ৯/১০ টা সন্তান জন্ম দেয়। তারা রুটি-রুজি ও শিক্ষা না পেয়ে অরাজকতার পরিবেশ সৃষ্টি হবে। এ ধরণের পরিবেশ সৃষ্টি হলে নিশ্চিতভাবে দেশ আবারও বিভক্ত হবে এবং যেভাবে তারা শরীয়া আইন ও ধর্মীয় আইনের দাবি জানাচ্ছে ওভাবেই তারা পৃথক দেশ ও পাকিস্তানের দাবি জানাবে।

হরি ওম পাণ্ডের অভিযোগ, ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি ও সন্ত্রাসের মতো ঘটনার জন্য মুসলিমদের বাড়তি জনসংখ্যাই দায়ী। দেশের স্বাধীনতার পরে মুসলিমদের জনসংখ্যার হার একনাগাড়ে বেড়ে চলেছে। সময় থাকতে তা বন্ধ না করা গেলে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। দেশকে পুনরায় বিভক্ত হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিরুদ্ধে আইন তৈরি করা প্রয়োজন বলেও তিনি বলেন।

'হরি পাণ্ডের বিরুদ্ধে মামলা করা উচিত'

এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ‘ভাষা ও চেতনা সমিতি’র সম্পাদক ও কোলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজের সাবেক অধ্যাপক ড. ইমানুল হক আজ (শুক্রবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘প্রথমেই উচিত হচ্ছে, উত্তর প্রদেশে ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তি যদি কেউ থেকে থাকেন তাহলে ওর বিরুদ্ধে একটা মামলা করা। তিনি এ রকম সাম্প্রদায়িক কথা উনি বলতে পারেন কী? দ্বিতীয়ত, ওর মন্তব্য তথ্যের দিক থেকে সত্য নয়। স্বাধীনতার আগে মুসলিম জনসংখ্যা যত শতাংশ ছিল, তত শতাংশ এখন নেই। স্বাধীনতার আগে মুসলিমরা ২৫ শতাংশ ছিলেন। এখন তা ১৩ শতাংশ হয়েছে।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা ২ শতাংশ বেড়েছে। মুসলিম জনসংখ্যা .০০৪ শতাংশ কমেছে। যেকোনো দেশে সংখ্যাগুরুদের মধ্যে শিক্ষা লাভের সুযোগ অনেক বেশি থাকে, কারণ সরকার ও রাষ্ট্র তাদের প্রতি একটু বেশি সহানুভূতিশীল থাকে। তারফলে, তাদের মধ্যে জনসংখ্যা কম থাকে।’

ড. ইমানুল হক

ড. ইমানুল হক বলেন, ‘এটা বলা যায় না যে শিক্ষিত মুসলিমের বাড়িতে একাধিক সন্তান আছে। ভারতে আদমশুমারি থেকে যেসকল জরিপ হয়েছে, তা মুসলিমরা করেনি, সরকারি জরিপ। তাতে দেখা যাচ্ছে, হিন্দুদের মধ্যে বহুবিবাহের ঘটনা ৫.৬ শতাংশ, সেখানে মুসলিমদের মধ্যে তা ৪.৬ শতাংশ। অর্থাৎ হিন্দুরা বহুবিবাহে এক শতাংশ বেশি এগিয়ে আছেন। ভারতের বিখ্যাত নেতাগুলোকে দেখলে বোঝা যায় যে কাদের একাধিক স্ত্রী আছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পরিষদের সদস্য রামবিলাস পাসোয়ানের একাধিক স্ত্রী আছে। কোনো মুসলিমের কিন্তু তা নেই, নাকভিরও (মুখতার আব্বাস নাকভি) নেই, শাহনওয়াজ হুসেনেরও নেই।’  

তিনি বলেন, ‘এন টি রামারাওয়ের দুই স্ত্রী ছিল, এম জি রামচন্দ্রনের তিন স্ত্রী ছিল, সুতরাং মুসলিমদের বিরুদ্ধে বহুবিবাহের অভিযোগ যে মিথ্যা, তা প্রমাণিত।’

তিনি বলেন, ‘পরিসংখ্যান দেখলেই স্পষ্ট হবে কারা বেশি ধর্ষণ করছেন। ধর্ষণকারীদের ধর্ম বিচার করা ঠিক নয়, কিন্তু গুজরাটে তিন হাজার নারীকে যারা ধর্ষণ করেছিলেন, তারা কী মুসলিম ছিলেন? রাম রহিম বাবা থেকে শুরু করে যেসব বাবাদের পাওয়া যাচ্ছে (ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত) এদের মধ্যে কী একটাও মুসলিম পাওয়া গেছে? কেউ ১২৫, কেউ ৫০০, কেউ এক হাজার জনকে ধর্ষণ করেছেন!’

ড. ইমানুল হক বলেন, ‘ওই ভদ্রলোকের বিরুদ্ধে এখনই ভারতীয় আইন অনুযায়ী মামলা করা উচিত অথবা তাকে এখনই পাগলা গারদে পাঠানো উচিত। কারণ, ওটাই তার যথার্থ জায়গা। ঘটনাচক্রে ওই পাগলদের জায়গা হয়েছে সংসদে। তাদের থাকা উচিত ছিল পাগলা গারদে অথবা কারাগারে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ