ঢাকা, রোববার 29 July 2018, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা

 

২৮ জুলাই, ডন : গত বুধবার অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেছে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন (ইসিপি)। ১১তম সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার প্রায় ৫৬ ঘণ্টা পর শনিবার এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত ফলাফলে ১১৫ আসনে বিজয়ী হয়ে দেশটির বৃহত্তম রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। এর আগে শুক্রবার রাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম ডন পিটিআই’র ১১৭ আসনে বিজয়ী হওয়ার খবর দেয়। শনিবার ঘোষিত চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হলেও পাঁচটি আসনের ভোট পুনরায় গণনা চলছে। ওই ফলাফল প্রকাশ হলে সর্বশেষ ফলাফলে কিছু পরিবর্তন আসবে।

শনিবার ঘোষিত চূড়ান্ত বেসরকারি ফলে ২৭২ আসনের মধ্যে ২৭০ আসনে অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনে গত মে মাসে সরকারের মেয়াদ শেষ করা পিএমএল-এন পেয়েছে ৬৪টি আসন। আর পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) পেয়েছে ৪৩টি আসন। নির্বাচনে ১২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী জয় পেয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে তারাই ইমরানের খানের নেতৃত্বে জোট সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। ধর্মীয় দলগুলোর জোট মুত্তাহিদা মজলিস-এ-আমাল (এমএমএ) পেয়েছে ১২টি আসন, মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট-পাকিস্তান (এমকিউএম-পি) পেয়েছে ৬টি আসন। এছাড়া পাকিস্তান মুসলিম লিগ-কায়েদ (পিএমএল-কায়েদ) ও নবগঠিত বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টি (বিএপি) ৪টি করে আসনে জয় পেয়েছে। সিন্ধুভিত্তিক দল গ্রান্ড ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (জিএপি) পেয়েছে মাত্র দুই আসন। আখতার মঙ্গলের নেতৃত্বাধীন বেলুচিস্তান ন্যাশনাল পার্টি (বিএনপি) পেয়েছে ৩ আসন। আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টি (এএনপি) পেয়েছে মাত্র ১টি আসন। আওয়ামী মুসলিম লিগ (এএমএল), পাকিস্তান-ই-ইনসানিয়াত ও জামহুরি ওয়াতান পার্টি(জেডব্লিউপি) প্রত্যেকে একটি করে আসনে জয় পেয়েছে।

পাঁচটি আসনের ভোট পুনরায় গণনা করা হচ্ছে। ফলে গতকাল শনিবার ঘোষিত চূড়ান্ত ফলাফলে কিছু পরিবর্তন আসবে। পাকিস্তান নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে ৫১ দশমিক ৮৫ শতাংশ ভোটার। দুইটি আসনে স্থগিত থাকা নির্বাচন একাধিক আসনে বিজয়ী প্রার্থীদের ছেড়ে দেওয়া আসনে উপনির্বাচনের সময়েই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।ভোট গণনার প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন। ফল প্রকাশে দেরির কারণ সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে ফল প্রকাশে বিলম্ব হয়েছে। কমিশন বলছে, রেজাল্টস ট্রান্সমিশন সিস্টেম (আরটিএস) অকার্যকর হয়ে পড়ায় ফ্যাক্সের মাধ্যমে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ফলাফল সংগ্রহ করতে হয়েছে কমিশনকে। আর সে ফলাফলকে ম্যানুয়ালি একত্রিত করার প্রয়োজন পড়েছে।প্রায় সব রাজনৈতিক দল ফল প্রকাশে বিলম্বের সমালোচনা করে পুনারয় গণনার দাবি তুলেছে। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলন থেকে পুনরায় ভোটগ্রহণেরও দাবি তুলেছে কয়েকটি বিরোধী দল। ওই সংবাদ সম্মেলনে পিএমএল-এন, এমএমএ, পিকেএমএপি, এএনপি ছাড়াও আরও কয়েকটি দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।বিদেশি পর্যবেক্ষকদের তরফ থেকেও ব্যালট গণনা প্রক্রিয়ার উন্নতি ঘটানোর জন্য কমিশনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ভবনে থাকতে চান না ইমরান

বেসরকারি হিসাবে সর্বাধিক ভোট পাওয়ায় ইমরান খানকে পাকিস্তানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ভিভিআইপি প্রোটোকল অর্থাৎ কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ডন পত্রিকাকে জানান, বুধবারের নির্বাচনে ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করায় পাকিস্তানের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে এই প্রোটোকল দেয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে ইমরান খান ও তার ইসলামাবাদের বানিগালায় তার বাসভবনের চারপাশে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইমরান খান বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে উঠবেন না। তার মতে ওই বাসভবন ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় অবকাশযাপন কেন্দ্র ভাড়া দিলে তা থেকে রাষ্ট্রের ভালো আয় হবে।

পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর ওয়াকার আহমেদ চোহানসহ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইমরানের বাসভবনে গিয়ে সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের সঙ্গে দেখা করেন। পুলিশের একটি দল তার বাসভবন ও তার আশেপাশের এলাকা ও পাহাড় পরীক্ষা করে দেখে। পুলিশ জানায়, পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি নেই। তবে যেহেতু ইমরান খান পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন একারণে তাকে ঘিরে, তার বাড়িতে এবং যেসব জায়গায় তিনি যাবেন সেখানে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ইমরানের বাড়ির চারপাশে দেয়ালে ও গেটে কন্সার্টিনা ওয়্যার (বিশেষ ধরনের কাঁটাতার) লাগানো হয়েছে। বাড়ির চারপাশে পুলিশ বিশেষ করে সামনের গেটে তিন স্তরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একটি অ্যাম্বুলেন্স, প্যারামেডিক দল এবং অগ্নিনির্বাপক দলও মোতায়েন করা হয়েছে ইমরানের বাড়ির বাইরে। বাড়ি পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তা, এর চারপাশের এলাকা এবং গাছপালা ঘেরা জায়গায় পুলিশকে টহল দেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। পুলিশের আরেকটি দল মোটরসাইকেলে করে ওই এলাকা টহল দেবে।

আশেপাশের পাহাড়ি এলাকায় রেঞ্জার্স অবজারভেশন পোস্ট বা কাঠের উঁচু মাচান তৈরি করতে বলা হয়েছে, যেন ওইসব পোস্ট থেকে ইমরানের বাড়ি সারাক্ষণ পর্যবেক্ষণ করা যায়।তার বাড়িতে যাওয়ার রাজপথে ইসলামাবাদের ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যেন ওইসব রাস্তায় সবসময় গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক থাকে। এছাড়াও বানিগালার বাসভবনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। ওই এলাকাকে একজন ভিভিআইপির জন্য যথেষ্ট নিরাপদ করতে রিপোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী আরও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইমরান খান চলাচল করার সময় তার সঙ্গে সবসময় কমান্ডোদের তিনটি গাড়ি তাকে সামনে ও পেছনে থেকে সুরক্ষা দেবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ