ঢাকা, রোববার 29 July 2018, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পাকিস্তানের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

২৮ জুলাই, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট : পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, কর্তৃপক্ষ অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের এক বিবৃতিতে এই নির্বাচনে ‘সন্ত্রাস-সমর্থিত ব্যক্তিদের’ অংশগ্রহণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তবে ব্যালট বাক্সে এসব প্রার্থীদের সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করায় পাকিস্তানী ভোটারদের প্রশংসাও করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র বলেছেন, নির্বাচনি প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও পাকিস্তানের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে কাজের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। তবে ওয়াশিংটনের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কাজ করা সহজ হবে না। শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিদার নোয়ার্ট পাকিস্তানের প্রাক-নির্বাচন প্রক্রিয়ার ‘ত্রুটি’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এসব ত্রুটির মধ্যে ছিল বাক স্বাধীনতার পরিসর সীমিত করে ফেলা ও নির্বাচনি প্রচারণার সময়ে বিশেষ প্রার্থীকে সহায়তা করা। এর মাধ্যমে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের লক্ষ্য অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক মিশনও এসব ত্রুটির উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

মার্কিন সরকারের বিবৃতির শেষ দিকে বলা হয়, পাকিস্তানে নির্বাচনি কাঠামোয় বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আসলেও বাক-স্বাধীনতা সীমিত করে ফেলা ও প্রচারণার সুযোগে বৈষম্য করায় সেই পরিবর্তনগুলো ঢাকা পড়েছে। শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে, উদ্বেগ সত্ত্বেও পাকিস্তানের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করার কথা বলা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ১৮ মাস মেয়াদের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের সঙ্গে বিস্তৃত সম্পর্কে সীমিত যোগাযোগের আগ্রহ দেখানো হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের বিশ্বাস এতে করে দেশটির সঙ্গে বর্তমানে বিদ্যমান সম্পর্কে বড় কোনও পরিবর্তনের আশা নেই।বর্তমানে শুধু আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতা নিয়ে দেশটির সঙ্গে সহযোগিতার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে বর্তমান প্রশাসন আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতায় পাকিস্তানকে সহযোগীর চেয়ে সমস্যাই বেশি মনে করা হয়। গত বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানকে দেওয়া সামরিক সহায়তা আটকে দিয়েছেন। সীমিত করা হয়েছে দেশটিকে দেওয়া অন্যান্য সহায়তার পরিমাণও। বিগত ওমাবা প্রশাসনের শেষ পর্যায়ে পাকিস্তানে ড্রোন হামলা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে বিরূপ প্রভাব পড়ে আর ট্রাম্প প্রকাশ্যেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শত শত কোটি ডলার মার্কিন সাহায্য নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেছেন,  যুক্তরাষ্ট্র শুধু ‘মিথ্যা আর শঠতাকেই’ সাহায্য দিয়ে যাচ্ছে।পাকিস্তানের নতুন নির্বাচিত নেতা ইমরান খানও যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়ে কঠোর মনোভাব দেখিয়ে আসছেন। অতীতে তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী হলে তিনি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করবেন। পাকিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক নয় এমন ব্যক্তি ও গোয়েন্দাদের প্রত্যাহারের দাবি করেছেন। আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর জন্য স্থল ও আকাশপথ ব্যবহার করতে দিতেও অস্বীকৃতি জানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নির্বাচনে বিজয় দাবি করে দেওয়া নতুন ভাষণেও ইমরান খান বলেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সম্পর্ক রাখতে চান। তার ভাষায়, এতদিন সেই সম্পর্ক ছিল যুক্তরাষ্ট্রের তরফে ‘এক-পাক্ষিক স্বার্থ’ সংশ্লিষ্ট।মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোও পাকিস্তানের নির্বাচন পরিচালনার প্রক্রিয়া ও ইমরান খানের রাজনীতি নিয়ে সমালোচনায় মুখর। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ইমরানকে ‘তালেবান দরদী’ আখ্যা দিয়েছে । ওয়াশিংটনের বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইমরানের নেতৃত্বে পাকিস্তানের তাৎপর্যপূর্ণ কোনও পরিবর্তন হবে না। কারণ ক্ষমতার সব কিছুতেই দেশটির সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে। তারা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ স্বর্গগুলো বন্ধ করে দেওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় দাবি পূরণ হবে না। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বলছে, ‘দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে’ পাকিস্তানের সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার সুযোগ খুঁজছেন তারা। যদিও এই কাজ এখন চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ