ঢাকা, রোববার 29 July 2018, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গাজায় ইসরাইলী সৈন্যদের গুলীতে ফিলিস্তিনী কিশোরসহ নিহত ২

২৮ জুলাই, রয়টার্স : অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর ইসরাইলী সেনাদের ছোঁড়া গুলীতে ১২ বছরের এক কিশোরসহ দুইজন নিহত হয়েছে। শুক্রবারের বিক্ষোভে ইসরাইলের গুলী ও টিয়ার গ্যাসে আহত হয়েছে আরও প্রায় ১৮৪ ফিলিস্তিনী। আহতদের মধ্যে তিন চিকিৎসাকর্মীও রয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ নিয়ে এই বছরের ৩০ মার্চ থেকে ‘গ্রেট রিটার্ন অব মার্চ’ কর্মসূচি শুরুর পর মোট ১৫১ ফিলিস্তিনী নিহত হলেন।

শুক্রবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, দক্ষিণাঞ্চলীয় গাজা উপত্যকার খান ইউনিস শহরের পূর্বাঞ্চলে ইসরাইলী সেনাদের গুলীতে নিহত হয় গাজী আবু মুস্তফা নামে ৪৩ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনী বিক্ষোভকারী। তার মাথায় গুলী করা হয়েছে। একই এলাকায় বিক্ষোভে নিহত হয় ১২ বছর বয়সী ফিলিস্তিনী কিশোর মাজদি রামজি কামাল আল-সাত্রা। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শুক্রবার দুইজন নিহত হওয়া ছাড়াও আহত হয়েছে আরও ১৮৪ ফিলিস্তিনী।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল-কিদরা বলেন, আহতদের মধ্যে ১১৭ ফিলিস্তিনীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ৭০জন গুলীবিদ্ধ হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৪ শিশু ও ১০ নারী, চার চিকিৎসাকর্মী ও এক সাংবাদিক রয়েছেন।এর আগে গত বৃহস্পতিবার অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরের রামাল্লাহতে ইসরাইলী সেনাবাহিনীর গুলীতে এক ফিলিস্তিনী তরুণ প্রাণ হারায়। ইসরাইলী সেনাবাহিনীর দাবি, ওই তরুণের ছুরিকাঘাতে এক ইসরাইলী নিহত ও আরও দুইজন আহত হওয়ার পর সন্দেহভাজন হামলাকারীকে গুলী করে হত্যা করা হয়। মুক্তিকামী ফিলিস্তিনীদের সশস্ত্র সংগঠন হামাস এই হামলাকে ‘নায়োকোচিত’ আখ্যা দেয়। তাদের দাবি, এই হামলা ছিল বুধবার গাজায় তিন হামাস সদস্য হত্যার প্রতিশোধ। উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনীদের নিজ ভূমি উচ্ছেদ করে ১৯৪৮ সালের ১৫ মে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসরাইল নামের রাষ্ট্র। ১৯৭৬ সালের ৩০ মার্চ ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে ইহুদি বসতি নির্মাণের প্রতিবাদ করায় ছয় ফিলিস্তিনীকে হত্যা করা হয়। পরের বছর থেকেই ৩০ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত পরবর্তী ছয় সপ্তাহকে ভূমি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে ফিলিস্তিনীরা। কিন্তু এবারের বিক্ষোভ এখনও অব্যাহত রয়েছে।

পশ্চিম তীরে নতুন করে বসতি স্থাপন করতে যাচ্ছে ইসরাইল : ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীরে নতুন করে বসতি স্থাপন করতে যাচ্ছে। সেখানে ফিলিস্তিনী এক নাগরিক তিন ইসরাইলীকে ছুরিকাঘাত করলে তাদের একজন মারা যায়। এ হামলার ঘটনার পরই ইসরাইল পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন করতে যাচ্ছে।

শুক্রবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদোর লিবারম্যান একথা জানান। হামাস শাসিত ভূখ-ের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলে দু’টি পৃথক ঘটনায় ইসরাইলি সৈন্যরা দুই ফিলিস্তিনী নাগরিককে মাথায় গুলী করার পর এমন ঘোষণা দেয়া হলো। এ দু’জনের একজন শিশু। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের ক্ষেত্রে এটি হচ্ছে সর্বশেষ মৃত্যুর ঘটনা।

ভয়াবহ ছুরি হামলার ঘটনার একদিন পর জেরুসালেমের উত্তরাঞ্চীয় বসতি আদমের বিভিন্ন ইউনিটে নতুন করে ৪শ’ বসতি স্থাপনের ঘোষণা দিয়ে টুইটারে এক বার্তায় লিবারম্যান লিখেছেন, ‘সন্ত্রাসবাদের সর্বোত্তম জবাব হচ্ছে বসতি সম্প্রসারণ।’ উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনের সাথে শান্তি চুক্তির অগ্রগতির পথে সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর অন্যতম হচ্ছে ইসরাইলের এই বসতি স্থাপন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ