ঢাকা, রোববার 29 July 2018, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সাতক্ষীরাসহ তিন জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৩

সংগ্রাম ডেস্ক : সাতক্ষীরা, কুমিল্লা ও বরগুনায় র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিনজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত ও শনিবার ভোর পর্যন্ত এ ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনাগুলো ঘটে। সাতক্ষীরার শ্যামনগরে গ্রেফতারের পর পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রেজাউল ইসলাম নামের এক যুবক নিহত ও কুমিল্লায় র‌্যাব ও বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সহিদুল ইসলাম ওরফে সবু মিয়া (৪০) নামে ২৭ মামলার এক আসামী নিহত হয়েছেন। অপরদিকে পাথরঘাটা সংলগ্ন বলেশ্বর নদের মাঝের চরে র‌্যাব-৮ এর সাথে বন্দুকযুদ্ধে আজগর আলী ওরফে কাজল (২৭) নামে এক জলদস্যু নিহত হয়েছে।
সাতক্ষীরা সংবাদদাতা : সাতক্ষীরার শ্যামনগরে গ্রেফতারের পর পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রেজাউল ইসলাম নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, রেজাউল মোটরসাইকেল চোর চক্রের হোতা। তার বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল চুরির ১২টি মামলা রয়েছে। রেজাউল (৪২) শ্যামনগরের বাদোঘাটা গ্রামের আবদুল মাজেদ দফাদারের ছেলে। শুক্রবার মধ্যরাতে শ্যামনগরের খানপুর বাজারের নিকটে একটি ইটভাটার কাছে কালভার্টের ওপর এ ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটারগান ও কিছু ‘গুলী উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
 জেলা পুলিশের তথ্য কর্মকর্তা বিশেষ শাখার পরিদর্শক আজম খান জানান, মোটরসাইকেল চোর চক্রের হোতা রেজাউল ইসলামকে ঢাকার পল্লবী থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার একটি গোপন আস্তানা থেকে গ্রেফতার করে। শ্যামনগর থানা পুলিশ তাকে শুক্রবার সকালে সাতক্ষীরায় নিয়ে আসে। রেজাউলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী চোরচক্রের আরও তিন সদস্য শামীম, শাহজাহান ও সাহিদুলকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় একটি চোরাই মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়।
তিনি বলেন, রাতে রেজাউলকে নিয়ে খানপুর এলাকায় তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আরও মোটরসাইকেল উদ্ধার করতে গেলে সেখানে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তাকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে তারা ‘গুলী ছুঁড়লে পুলিশও পাল্টা ‘গুলী ছোঁড়ে। এতে ‘গুলীবিদ্ধ হন রেজাউল। তাকে দ্রুত শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কুমিল্লা অফিস : কুমিল্লায়  র‌্যাব-বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২৭ মামলার আসামী সহিদুল ইসলাম ওরফে সবু মিয়া নামে শীর্ষ এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে নগরীর কাপ্তানবাজার সংলগ্ন গোমতী বেড়িবাঁধ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সবু মিয়া জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার একবালিয়া গ্রামের  মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল , এক রাউন্ড ‘গুলীসহ বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে র‌্যাব।
র‌্যাব জানায়, শুক্রবার রাতে মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে র‌্যাব এবং বিজিবির পৃথক টহল টিম নগরীর কাপ্তানবাজার সংলগ্ন গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় র‌্যাব-বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় মাদক ব্যবসায়ীরা। আত্মরক্ষার্থে র‌্যাব পাল্টা ‘গুলী ছুঁড়লে সহিদুল ইসলাম (৪০) আহত হন। পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কুমিল্লাস্থ র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর আতাউর রহমান জানান, সহিদুল ইসলাম সবু একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মাদকের ২০টিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২৭টি মামলা রয়েছে।
পাথরঘাটা (বরগুনা) সংবাদদাতা : পাথরঘাটা সংলগ্ন বলেশ্বর নদের মাঝের চরে র‌্যাব- ৮ এর সাথে বন্দুকযুদ্ধে জলদস্যু আজগর আলী ওরফে কাজল (২৭) নামে এক জলদস্যু নিহত হয়েছে। শনিবার ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে।  এ সময় দুইটি একনলা বন্দুক, একটি ওয়ান শুটার গান, ৩১ রাউন্ড ‘গুলী, ১৭ রাউন্ড ‘গুলীর খোসাসহ জলদস্যুদের ব্যবহারের আসবাবপত্র উদ্ধার করা হয়।
র‌্যাব-৮ এএসপি মো. সুরত আলী বলেন, পাথরঘাটা সংলগ্ন বলেশ্বরের মাঝের চর এলাকায় রাতে অভিযান কালে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে ‘গুলী ছুড়লে র‌্যাবও পাল্টা ‘গুলী করে। ‘গুলী বিনিময়ের এক পর্যায়ে জলদস্যু বাহিনী পিছু হটলে আস্তানা থেকে সুমন বাহিনীর সদস্য আজগর আলী ওরফে কাজলের লাশসহ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও রসদ সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। এব্যাপারে ব্যাবের পক্ষ থেকে পাথরঘাটা থানায় অস্ত্র ও সরকারী কাজে বাধা দেয়ার অপরাধে দুটি মামলা করা হয়েছে। তবে আজগর আলী ওরফে কাজলের পরিচয় জানাতে পারেনি র‌্যাব।
পাথরঘাটা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা মো. খবীর আহমেদ জানান, র‌্যাবের পক্ষ থেকে পাথরঘাটা থানায় লাশ ও অস্ত্র-গোলাবারুদ হস্তান্তর করে। পাথরঘাটা থানায় মামলা করা হয়েছে। লাশের ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠান হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ