ঢাকা, রোববার 29 July 2018, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভেড়ামারা খাদ্য গুদামে খাওয়ার অযোগ্য নিম্নমানের চাল সংগ্রহ

ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা : কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার খাদ্য গুদামে খাওয়ার অযোগ্য নি¤œমানের চাল সংগ্রহ করার অভিযোগ উঠেছে। গুদাম কর্মকর্তা ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করার নাম করে কেজি প্রতি আদায় করেছেন ৪টাকা করে। গুদামে রক্ষিত টিআর কাবিখার চালই শুধু বস্তা পরিবর্তন করে চাল সংগ্রহ অভিযানের নতুন খামালে রাখা হয়েছে এমন গুরুতর অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে গুদাম কর্মকর্তা শফিকুলের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ১ এবং ৪ নং গোডাউন তল্লাশি করলেই বেরিয়ে আসবে খাওয়ার অযোগ্য নিম্নমানের চাল সংগ্রহের অনিয়মের চিত্র।
সূত্র জানায়, চলতি আমন চাল সংগ্রহ অভিযানে ভেড়ামারায় ১৮০ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। চুক্তিবদ্ধ মিলারদের কাছ থেকে গোডাউন কর্মকর্তা ৩৮ টাকা কেজিতে চাল ক্রয় করেন। গোডাউনে খাওয়ার উপযোগী মান সম্মত চাল ক্রয়ের নির্দেশনা থাকলেও এবার তা করা হয়নি। গোডাউন কর্মকর্তা নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য মিলারদের কাছে কেজি প্রতি ৪ টাকা করে দাবি করেন। তার চাহিদা পূরণ করতেই অতীব নিম্নমানের খাওয়ার অনুপযোগী চাল সরবরাহ করে মিলাররা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মিলার জানান, আমন সংগ্রহে সরকার চালের মূল্য নির্ধারল করেছে ৩৮ টাকা। এটা বেশ ভালো দাম। মানসম্মত খাওয়ার উপযোগী চাল এই দামে সরবরাহ করলেও আমরা অনেক বেশী লাভবান হতে পারতাম। কিন্তু বাধ সাধে গোডাউন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম। খুলনা বিভাগীয় খাদ্য কর্মকর্তা, কুষ্টিয়া জেলা খাদ্য কমকর্তা এবং অনান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করার জন্য তিনি দাবি করে বসেন কেজি প্রতি ৪টাকা করে। টাকা না দিলে ভালো চালও ক্রয় করা হবে না বলে তিনি ঘোষণা দেন। টাকা দিলে চাল’র শুধু ওজন দেখা হবে। মান দেখা হবে না। এরপরই নিম্নমানের খাওয়ার অনুপযোগী চাল গোডাউনে বিক্রয় করা হয়।
খাদ্য গুদামের দুর্নীতিবাজ ওসিএলএসডি শফিকুল ইসলামের অনিয়ম ও সীমাহীন দুর্নীতির কথা বলতে গিয়ে একজন চাল ব্যবসায়ী জানান, টিআর, জি আর, কাবিখার যে সব চাল গোডাউন থেকে উত্তোলন করার কথা ছিল, সেই সব চাল ব্যবসায়ীরা উত্তোলন না করে, ওই চাল আবার মিলারদের কাছে বিক্রি করে দেয়। সে চাল গোডাউনের ভিতরেই শুধু বস্তা পরিবর্তন করে গোডাউনের আমন সংগ্রহ অভিযানের নতুন খামালে রাখা হয়। যার সত্যতা মিলবে ১ এবং ৪ নং গোডাউন তল্লাশি করলেই। সূত্র জানায়, গোডাউনের ওই চাল ২৭ টাকা দরে ক্রয় করে মিলাররা সরকারি গোডাউনে বিক্রি করেছে ৩৮ টাকা দরে। শুধু বস্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। এর বিনিময়ে গুদাম কর্মকর্তা হাতিয়ে নিয়েছেন কেজিতে ৪ টাকা করে লাখ লাখ টাকা।  ভুক্তভোগীরা বলেছেন, এ বছর আমন সংগ্রহ অভিযানেই খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা সরকারী নির্দেশনা কে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে কেজি প্রতি ৪টাকা করে আদায় করে হাতিয়ে নিয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। বিনিময়ে খাদ্য গুদামে ক্রয় করেছেন অত্যান্ত নি¤œমানের খাওয়ার অনুপযোগী চাল। যা দেখার কেউ নেই। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ভেড়ামারাবাসী।
এ বিষয়ে খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আরসি ফুড, ডিসি ফুডসহ অনান্য কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করার জন্য ৪টাকা করে নয় ৩ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এ টাকা দিয়েই উর্ধ্বতন স্যারদের ম্যানেজ করা হয়েছে। খাদ্য বিভাগে এটাই নিয়ম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ