ঢাকা, রোববার 29 July 2018, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রংপুর অঞ্চলকে মরুকরণ থেকে বাঁচাতে বৃষ্টি নির্ভর  আউশ ধান চাষে কৃষি বিভাগের অভাবনীয় সাফল্য

 

মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, রংপুর অফিস : শস্য ভান্ডার খ্যাত রংপুর অঞ্চলে মরুকরণের ছোবল থেকে বাঁচাতে বৃষ্টি নির্ভর আউশ ধান চাষে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।  রংপুর অঞ্চলে চলমান প্রক্রিয়ায় বোরো মওসুমে ব্যাপক ভাবে গভীর নলকুপ এবং স্যালো টিউবওয়েল ব্যবহার করে ভুর্গভস্থ পানি উত্তোলনের মাধ্যমে বোরো ধান চাষ হয়ে থাকে। 

এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় চলতি বছর শুধু মাত্র রংপুর জেলায় ২০ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের চাষ করেছে কৃষকরা যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুনেরও বেশী। এতে একদিকে ভুগর্ভস্থ থেকে পানি উত্তোলন কমে গেছে। পাশাপাশি কৃষকদের খরচও কমে যাচ্ছে। এছাড়া একই সাথে রাসায়নিক সার সহ অন্যান্য খরচও অনেকাংশে কমে আসছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। রংপুরের মিঠাপুকুর, পীরগজ্ঞ, পীরগাছা, গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে চারদিকে বিস্তীর্ন মাঠে শুধু আউশ ধানের চাষ করেছে কৃষকরা। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ করে রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলায় ব্যাপকভাবে বোরো ধান চাষ করে থাকে কৃষকরা। সেচ নির্ভর এই বোরো ধান চাষে এক কেজি ধান উৎপন্ন করতে প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার লিটার পানি জমিতে সেচ কাজে ব্যবহার করতে হয়। অপরদিকে রোপা আমন মৌসুমেও বৃষ্টিপাত না হলে সেচের প্রয়োজন হয়। প্রায় প্রতিবছর রোপা আমন ধান রোপণের সময় অথবা মৌসুমের শেষের দিকে জমিতে সম্পূরক সেচ দিতে হয়। এতে করে একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ বাড়ছে অন্যদিকে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষি ক্ষেত্রে খরা, অনাবৃষ্টি অতিবৃষ্টি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনেক নীচে নেমে যাওয়ায় রংপুর অঞ্চলে আবহাওয়ায় ব্যাপক হারে বিরূপ পরিবর্তন ঘটেছে। ভরা বর্ষা মৌসুমে অনাবৃষ্টির কারণে অসময়ে বৃষ্টি হয়। ফলে বন্যা সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে।  এ জন্য সেচের পানি কম ব্যবহারের উদ্দেশ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আউশ ও আমন ধান আবাদ সম্প্রসারণের পাশাপাশি ভুট্টা, আলু, সব্জি চাষ করার জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে। এতে করে ব্যাপক সাড়াও মিলেছে কৃষকদের কাছ থেকে। একজন কৃষি বিশেষজ্ঞ পরিসংখ্যান উল্লেখ করে, ২০১৩-১৪ সালে বোরো ধানের চাষ ছিলো ১ লাখ ৩৩ হাজার হেক্টর জমিতে এবার তা বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। আমন ধান ১ লাখ ৫৪ হাজার হেক্টর থেকে বেড়ে ১ লাখ ৬৪ হাজারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ভুট্টা আবাদ ১৭ হাজার ৩শ হেক্টর থেকে বেড়ে ২৪ হাজার ৩শ হেক্টরে উন্নীত হয়েছে। এ ছাড়াও সব্জি সহ অন্যান্য ফসলের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে আউশ ধান চাষে অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। যেখানে ২০১৩-১৪ সালে আউশ ধান উৎপন্ন হতো ১২ হাজার হেক্টর জমিতে এবার ৮ হাজার হেক্টর বৃদ্ধি পেয়ে ২০ হাজার ১৫০ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। আউশ ধান বৃষ্টি নির্ভর হওয়ায় সেচ বাবাদ কৃষকের উৎপাদন খরচ অনেক কমে গেছে। তেমনি ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার দিন দিন কমছে। 

এ ব্যাপারে রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুরের উপ-পরিচালক ডক্টর সরওয়ারুল আলম জানান, বোরো আমন এবং আলু বোরো রোপা আমন শষ্য বিন্যাসে বোরো ধান আবাদের পর স্বল্প জীবন কালের ব্রিধান ৪৮ এর চাষ বৃদ্ধি করতে তারা নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কম পরিমাণে রাসায়নিক সার ব্যবহার ও সেচ ছাড়াই আউশ ধান আবাদ হওয়ায় রংপুর অঞ্চলে আউশ ধানের চাষে কৃষকরা উৎসাহিত হচ্ছে যা খুবই আশার আলো বলে তিনি মনে করেন। সেই সাথে ব্রি ৪৮ এর মত আরো উন্নত জাত উদ্ভাবন করা হলে আউশ ধান চাষে কৃষকরা আরো উৎসাহিত হবে এতে করে বোরো ধান চাষ করার প্রতি আগ্রহ আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ