ঢাকা, রোববার 29 July 2018, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গত এক বছরে ১৬ জনের রিং পরানোসহ  এনজিওগ্রাম হয় দুই শতাধিক রোগীর

 

খুলনা অফিস : হার্টের রোগীদের জন্য এনজিওগ্রাম করার পাশাপাশি রিং পড়ানোসহ যে কোন জটিল পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য একসময় খুলনাঞ্চলের রোগীদের পাড়ি জমাতে হতো ঢাকা বা দেশের বাইরে। শ’শ’ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে চিকিৎসা নিতে গিয়ে একদিকে যেমন আর্থিক ক্ষতি হতো তেমনি অনেক সময় রোগীদের পথেই মৃত্যু ঘটত। কিন্তু খুলনা শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল চালুর পর থেকে সে ঝুঁকি অনেকটা কমেছে। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কথা চিন্তা করে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর হাত থেকেও রক্ষা পাচ্ছেন অনেকে। কিন্তু এমন সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও অনেক রোগী এখনও এ হাসপাতালের সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন নানা কারণে। প্রথমত পর্যাপ্ত বেড না থাকা দ্বিতীয়ত ‘সরকারি হাসপাতালের চেয়ে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা ভাল হয়’ রোগীদের এমন ধারণার কারণে। অথচ প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের চেয়ে শেখ আবু নাসেরসহ খুলনার যে কোন সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য অনেক কম অর্থ গ্রহণ করা হয়।

খুলনা নগরীর গোয়ালখালীতে ১৩.৩৬ একর জমির ওপর স্থাপিত খুলনা শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে বর্তমানে কার্ডিওলজি বিভাগে ৩০টি বেডে রোগী ভর্তি করা হয় বলে হাসপাতালের সূত্রটি জানিয়েছে। বিগত এক বছরে শুধুমাত্র কার্ডিওলজি বিভাগেই ভর্তি রোগীর সেবা দেয়া হয় এক হাজার ৬০৯জনকে। এছাড়া বহি:বিভাগে প্রতি মাসে পাঁচ হাজারেরও বেশি রোগী দেখেন কনসালটেন্টরা।  সূত্রটি বলছে, বিগত এক বছরে দুই শতাধিক রোগীর এনজিওগ্রাম করার পাশাপাশি রিং পড়ানো হয় ১৬ জনের। মাত্র দুইহাজার টাকার বিনিময়ে রিং পড়ানো হলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে রিং পড়াতে সব মিলিয়ে লক্ষাধিক টাকা খরচ হয় রোগীদের। এছাড়া এক বছরে আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে অন্তত: ৩০টি রোগীর পেসমেকার বসানো হয়। এজন্যও নেয়া হয় দুইহাজার টাকা। যা প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান থেকে করাতে প্রয়োজন ৫০ হাজার টাকারও বেশি। তাও খুলনার একমাত্র ফর্টিস স্কটস্ ছাড়া অন্য কোন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে নেই। আবু নাসের হাসপাতালে বিগত এক বছরে ২০জন রোগীর পিপিএম (পারমানান্ট পেসমেকার) বসানো হয়।  শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের সূত্রটি বলছে, এক বছরে এ হাসপাতালে ২৪৬টি রোগীর ইটিটি করা হয়। এজন্য সরকারি ইউজার ফি মাত্র এক হাজার টাকা। অথচ একই পরীক্ষা বাইরের কোন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান থেকে করাতে প্রয়োজন প্রায় তিন হাজার টাকা। একইভাবে মাত্র ৮০ টাকায় প্রতিটি ইসিজি করা হলেও বাইরের ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নেয়া হয় ৪শ’ টাকা করে। আবু নাসের হাসপাতালে বিগত এক বছরে ১১ হাজার ১৮৬জন রোগীর ইসিজি করা হয় বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। এক বছরে এ হাসপাতালে প্রায় তিন হাজার রোগীর ইকো কার্ডিওগ্রাম (কালার ডপলার) করা হয়। এজন্য প্রতিটির মূল্য নেয়া হয় মাত্র ২শ’ টাকা করে। যা প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান থেকে করাতে প্রয়োজন ১২শ’ থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত। এভাবে সরকারি প্রতিষ্ঠান আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে নানা সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও রোগীদের বাইরে থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে উৎসাহ দিয়ে থাকেন বাইরের প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকৃত কিছু কথিত দালাল। আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. বিধান চন্দ্র গোস্বামী বলেন, বর্তমান সরকার প্রধান তথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালটি এ অঞ্চলের মানুষের জন্য আশির্বাদস্বরূপ। অথচ অনেকেই অসচেতনতার কারণে এখনও এ হাসপাতালের সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকার বছরে কোটি কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে হাসপাতালের সেবার মান চলমান রাখলেও কিছু অসাধু ব্যক্তির প্ররোচনায় পড়ে বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোতে রোগীদের নিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার হাত থেকে রক্ষা পেতে সকলকে সজাগ থাকা উচিত বলেও তিনি মনে করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ