ঢাকা, রোববার 29 July 2018, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আ’লীগের নির্দেশে ইসি ও পুলিশ একতরফা নির্বাচনের ডিজাইন করছে -বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার : ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্দেশে ইসি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তিন সিটিতে একতরফা নির্বাচনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল শনিবার নয়াপল্টনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশে তিন সিটি কর্পোরেশনে একপেশে নির্বাচন করার ডিজাইনারের কাজ করে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন। নির্বাচন কমিশন যে সরকারের হাতের মুঠোয় সেই প্রমাণ নিজেরাই রেখে যাচ্ছে। তিন সিটিতে তফশীল ঘোষণার পর বিনা ওয়ারেন্টে কাউকে গ্রেফতার না করার প্রজ্ঞাপন জারির উদ্যোগ নিয়েছিল ইসি। কিন্তু পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আপত্তির মুখে সেই উদ্যোগ থেকে সরে আসে কমিশন। প্রচারণা শুরুর পর থেকেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে আগ্রাসী আক্রমণ চালাচ্ছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, নির্বাহী কমিটির সদস্য  সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, রফিক সিকদার, বেলাল আহমেদ প্রমুখ।
তিনি আরও বলেন, আসলে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী সাধারণ ভোটারদের অধিকার ফিরে পাওয়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। সেজন্য তারা ভোট সন্ত্রাস ও ভোট কারচুপির নতুন নতুন মডেল আবিষ্কার করে যাচ্ছে। তিন সিটিতে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকেই নৌকা মার্কার প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অসংখ্য অভিযোগ আসতে থাকে। আবার পাশাপাশি বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট প্রর্থী এবং সমর্থক ও কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান এক চরম পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। খুলনা-গাজীপুর নির্বাচনের মতোই আসন্ন তিন সিটি নির্বাচনে বিরোধী দলের ভোটার ও পোলিং এজেন্ট শূন্য করার এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করেছে।
রিজভী আহমেদ বলেন, ভুয়া নথির ওপর ভিত্তি করে সাজানো মামলাতে বেগম জিয়ার বিন্দুমাত্র কোন সম্পর্ক নেই। শেখ হাসিনার নির্দেশেই বেগম জিয়া কারাগারে। এই বন্দীশালার চাবি রয়েছে শেখ হাসিনার হাতে, অন্য কোথাও নয়। খালেদা জিয়াকে আটকের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রীর পাহাড়ী নদীর মতো কথা বলার ¯্রােত। তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দিনমান অনর্গল সমালোচনা করতে তিনি অক্লান্ত। অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন-খালেদার মুক্তির জন্য কিছুই করতে পারবো না। প্রধানমন্ত্রী আপনি তো পারবেন না এজন্যই যে, পথের কাঁটা নিষ্কন্টক করতেই তো তাকে কারাবন্দী করেছেন। আপনি নির্বাক, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষহীন বাংলাদেশ চাচ্ছেন, আপনি চিরদিন ক্ষমতায় থাকতে চাচ্ছেন। সেজন্য আপনার প্রয়োজন একতরফা নির্বাচন, আর এই নির্বাচনের প্রধান প্রতিবন্ধকতা দেশনেত্রী বেগম জিয়া। ১/১১ এর সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পাঁচটি মিথ্যা মামলা দিয়েছে বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে। আর আপনার বিরুদ্ধে দিয়েছিল পনেরটি। আপনার বক্তব্য অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়ার মামলা যদি সত্য হয়, তাহলে আপনারটা মিথ্যা হবে কেন ? আপনার সব মামলা মিলিয়ে তো আপনার একশো বছরের বেশী জেল হবার কথা। কিন্তু এত অনাচার, রক্তপাত, মানুষ খুন, ক্রসফায়ারে নির্বিচারে হত্যা, বিএনপি’র নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাসহ দেশের নানা শ্রেণী-পেশাসহ মুক্ত চিন্তার মানুষরা গুম হয়েছে আপনার সরকারের দ্বারা, আর সেই সরকারের প্রধান আপনি। আপনি ভোটারবিহীন প্রধানমন্ত্রী হয়ে দিব্যি বহাল তবিয়তে আপনার বিরোধীদের পিন্ডি চটকাচ্ছেন। অথচ আপনি কারাগারে নেই, আপনি ক্ষমতা দখল করে দখলদার প্রধানমন্ত্রী হয়ে জনগণের মাথার ওপর ছড়ি ঘোরাচ্ছেন। আপনার ক্ষমতার উৎস জনগণ নয়, আপনার ক্ষমতার উৎস অন্য কোথাও। সেজন্য বেপরোয়া, বেআইনী, নিষ্ঠুর, নৃশংস পথ অবলম্বন করতে আপনার বিবেক দংশন হয় না। নিজের ক্ষমতার চাহিদা মেটাতে আপনি জনগণকে পরাধীনতার সুদৃঢ় বন্ধনে বন্দী করেছেন। আপনি গণদাবিকে সুনজরে দেখেন না বলেই জনগণের অধিকারের প্রশ্নে সোচ্চার সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রীকে বন্দী করেছেন। এই বন্দীশালা আপনার হুকুমে পরিচালিত হয়, কোন আইনের দ্বারা পরিচালিত হয় না বলেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সুচিকিৎসা পাচ্ছেন না, কারাবিধি অনুযায়ী স্বজনরা তার সাথে সপ্তাহে একদিন দেখাও করতে পারছেন না। কারাগারে দেশনেত্রীর ওপর জুলুমের তীব্রতার মাত্রা নিশ্চিত করতে আপনি সবসময় খবর নিচ্ছেন।
রিজভী বলেন, অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রযন্ত্রকে কব্জায় নিয়ে নিজের মতো করে গণতন্ত্রের সজ্ঞা দিয়েছেন। চিরন্তন বহুদলীয় গণতন্ত্রকে মৃত্যু শয্যায় পাঠিয়ে স¤্রাজ্ঞীর ক্ষমতা হাতে নিয়েছেন। তাই নিজের স্বার্থের জন্য দেশের জনপদের পর জনপদে রক্ত¯্রােত বইয়ে দিতে কোন দ্বিধাই করছেন না। মানববাদী জীবনাদর্শের জাগরণকে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী বিষাক্ত প্রতিহিংসায় স্তব্ধ করে দিতে চাচ্ছেন। অনন্ত ক্ষমতা ভোগের লালসার জন্য জনগণকে ত্যাজ্য করে হুমকি, হত্যা, সন্ত্রাস ও চোখ রাঙানিতেই ভরসা করছে ভোটারবিহীন আওয়ামী সরকার। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া একজনের ক্রুদ্ধ প্রতিহিংসার শিকার। ভুয়া নথির ওপর ভিত্তি করে সাজানো মামলাতে বেগম জিয়ার বিন্দুমাত্র কোন সম্পর্ক নেই। শেখ হাসিনার নির্দেশেই বেগম জিয়া কারাগারে। এই বন্দীশালার চাবি রয়েছে শেখ হাসিনার হাতে, অন্য কোথাও নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ