ঢাকা, রোববার 29 July 2018, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সময় হলেই জনগণ রাস্তায় নেমে আসবে হুইসেল দিয়ে আন্দোলন শুরু হবে না -ড. মোশাররফ

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ-ভাসানী) উদ্যোগে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, দিন তারিখ ঠিক করে হুইসেল দিয়ে আন্দোলন শুরু হবে না। সময় হলেই জনগণ রাস্তায় নেমে আন্দোলন শুরু করে দেবে। যার নেতৃত্বে দেবেন খালেদা জিয়া।
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ-ভাসানি) আয়োজিত ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আন্দোলনের কথা বললে অনেকেই বলেন, আমরা তো আন্দোলন দেখছি না। আপনাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, কোটা সংস্কার দাবিতে আন্দোলনের কথা। আন্দোলন শুরু হওয়ার আগে কেউ জানতে পারেনি এ আন্দোলনের কথা। সাধারণ মানুষতো দূরের কথা, গোয়েন্দা সংস্থা, এমনকি সাংবাদিকরাও জানতো না। আন্দোলনের কোনো নেতৃত্ব ছিল না। কোনো সময় নির্ধারণ করে তারা মাঠে নামেনি। এই দেশের ছেলেরাই সেই আন্দোলন করেছিল। অতএব এ দেশের জনগণ তাদের ভোটের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য কোনো দিন তারিখ ঠিক করে হুইসেল দিয়ে নামবে না। সময় হলে জনগণ রাস্তায় নামবে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২০ দল সেদিন রাস্তায় থাকবে। জনগণই ঠিক করবে আগামী নির্বাচন কিভাবে হবে। জনগণই তাদের ভোটের মাধ্যমে নিজেদের সরকার প্রতিষ্ঠা করবে।
সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রয়োজন উল্লেখ করে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, বেগম জিয়া মুক্ত না হলে গণতন্ত্র মুক্ত হবে না। আর গণতন্ত্র যদি পুনরুদ্ধার না হয়, তাহলে জনগণ ভোট দিতে পারবে না।
খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তার নেতৃত্বে আগামী দিনে আন্দোলন করে এ দেশের নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সরকারকে বাধ্য করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জোট সরকারের সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, আগামী ৩০ জুলাই তিন সিটি নির্বাচনেই প্রমাণিত হবে এই নির্বাচন কমিশন স্বাধীন নয়। তারা এই সরকারের আজ্ঞাবহ। এই নির্বাচন কমিশন দিয়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ভবিষ্যতেও সম্ভব হবে না।
খন্দকার মোশাররফ বলেন, কোনো স্বৈরাচার নিজের ইচ্ছায় সরে যায়নি। ক্ষমতা ইচ্ছা করে জনগণের হাতে দেয়নি। পাকিস্তান আমলে আইয়ুব খানের পদত্যাগ দেখেছি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে। এই বাংলাদেশে এরশাদের পতন হয়েছে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে। সুতরাং আন্দোলনের বিকল্প নেই।
সরকার আইন বিভাগকে ধ্বংস করে দিয়েছে এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে কিভাবে বিদায় করেছে সরকার। আইন বিভাগ যদি স্বাধীন থাকতো, তাহলে মিথ্যা বানোয়াট একটি মামলায় খালেদা জিয়ার এভাবে পাঁচ বছরের জন্য কারাদ- হতো না। হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পরও নানা ষড়যন্ত্র করে খালেদা জিয়াকে আটকে রাখা হয়েছে।
আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টিার চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপা মহাসচিব খন্দকার লুৎফর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ