ঢাকা, রোববার 29 July 2018, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নাগরিক ফোরামের পরিচ্ছন্ন প্রার্থী জুবায়েরকে নিয়ে আশার আলো

কবির আহমদ, সিলেট ব্যুরো : গতকাল শনিবার রাত ১২টায় শেষ হয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের শেষ প্রচার প্রচারণা। ৪র্থ তম সিসিক নির্বাচনে গত ১০ জুুলাই থেকে প্রচার প্রচারণা, মিছিল-মিটিং, গণসংযোগ ছিল চোখে পড়ার মতো। এবার প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীক ধানের শীষ ও নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করছে দেশের রাজনৈতিক বৃহত্তম দু’টি দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ। সিলেট নাগরিক ফোরামের প্রার্থী সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর সিলেট জেলা বারের বিশিষ্ট আইনজীবী সজ্জন নির্বিবাদী ব্যক্তিত্ব এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের প্রথম বারের মতো টেবিল ঘড়ি মার্কা প্রতীক নিয়ে সিসিক নির্বাচনে মেয়র পদে অংশগ্রহণ করেছেন। ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন নগরবাসীর। তাঁর প্রতিটি গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও পথসভায় দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়। বিএনপি- আওয়ামী লীগের ভোটের পাশাপাশি নাগরিক ফোরামের পরিচ্ছন্ন প্রার্থী এডভোকেট জুবায়েরের টেবিল ঘড়ি প্রতীকেরও রয়েছে বিশাল ভোট ব্যাংক। এই ভোটের কারণে বদলে যাচ্ছে সকল হিসাব-নিকাশ। প্রতীক পাওয়ার পর থেকে গতকাল রাত ১২টা পর্যন্ত ছিল প্রচার-প্রচারণা। শনিবার থেকে গণমানুষের সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর সিলেট মহানগর আমীর এডভোকেট জুবায়েরকে নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। হোটেল-রেস্তোরা, বাজার, রেল স্টেশন ও বাস টার্মিনালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর পাশাপাশি নাগরিক ফোরামের প্রার্থী জুবায়েরের নামও আলোচিত হচ্ছে। নৌকা, ধানের শীষ ও টেবিল ঘড়ির গত রাত পর্যন্ত অবিরাম প্রচারণায় ভোটের পরিসংখ্যান বদলে যাচ্ছে। আগামীকাল সোমবার সাধারণ ভোটারদের হিসাব-নিকাশই উলট পালট হয়ে নতুন প্রার্থীকে বেছে নিতে পারেন নগরবাসী। দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সরকার বিরোধী একটা বিশাল অংশ বিরোধী জোটে কাউকে মেয়র হিসেবে বেছে নিতে চাইছে। এই হিসেবে পরিচছন্ন ইমেজের অধিকারী নতুন মুখ এডভোকেট জুবায়ের রয়েছেন পছন্দের তালিকায়। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও ভোটারদের বিশ্লেষণে ভোটের হিসেবে উলট পালটের পেছনে প্রধান কারণ, প্রথমবারের মতো জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর অংশগ্রহণ। ২০ দলীয় জোটের সর্ব বৃহৎ দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী আলাদা আলাদা প্রার্থী দেওয়ায় ভোটের হিসাব মেলাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে প্রার্থী ও বিশ্লেষকদের। নগরবাসীর প্রশ্ন আধ্যত্মিক নগরী সিলেটে জামায়াতের ভোট কত? এমন প্রশ্ন যে যার মতো বিশ্লেষণ করলেও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এ প্রশ্নের বাস্তবতা ভিন্ন। কেননা সরকারবিরোধী জোটে বিএনপি-জামায়াত একসাথে গত সিসিক নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করলেও জামায়াতের এককভাবে মেয়র নির্বাচনে এই প্রথম অংশ নেয়া। এই কারণে বলা মুশকিল কেমন ভোট ব্যাংক আছে জামায়াতের। তবে সিলেটে জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক অবস্থান বেশ শক্তিশালী ও সৃদৃঢ়। জামায়াতের বেশ কয়েকজন নির্বাচিত কাউন্সিলর, সিলেট সদর উপজেলায় রয়েছেন বেশ কয়েকজন চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধি। সব মিলিয়ে বিশাল ভোটব্যাংক রয়েছে বলে মনে করছেন জামায়াত নেতারা। বিগত কয়েক বছরে এই দলের কর্মী-সমর্থকরা সরকারের দম-পীড়নের কারণে মাঠে দাঁড়াতেই পারেননি। সিসিক নির্বাচন উপলক্ষে গণসংযোগ, মিছিল-মিটিং করতে পারছেন। ভোট চাচ্ছেন নেতাকর্মীরা নগরবাসীর কাছে। মহানগর জামায়াতের প্রথম সারির কয়েকজন নেতা জানান, সিসিক নির্বাচনের কারণে নাগরিক ফোরামের নেতাকর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন অবিরাম। পাড়া-মহল্লায় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাচ্ছেন মানুষের ব্যাপক সাড়াও পাওয়া যাচ্ছে। গতকাল শনিবার সিলেট মহানগরীতে সিলেট নাগরিক ফোরামের প্রার্থী এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের টেবিল ঘড়ি মার্কার সমর্থনে সর্বশেষ মিছিল ও ঐতিহাসিক কোর্ট পয়েন্টে স্বরণকালের বিশাল সমাবেশে হাজার হাজার নগরবাসী অংশগ্রহণ করেছেন। বিভিন্ন উপজেলা ইউপি চেয়ারম্যান ও বিশিষ্টজনেরা বক্তব্য রেখেছেন। জোটের অন্যতম শরীক দলগুলো জামায়াতের পাশে থেকে গণসংযোগ, মিছিল-মিটিং ও প্রচার প্রচারণায় নিরলসভাবে কাজ করে গেছে। গতকাল শনিবার পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। কেমন প্রচারণা হয়েছে জানতে চাইলে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মো. ফখরুল ইসলাম দৈনিক সংগ্রামকে জানান, প্রথম বারের মতো ৪র্থ তম সিসিক নির্বাচনে এডভোকেট জুবায়ের অংশ নিয়ে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন। নগরের সকল পেশার মানুষ আমাদেরকে কাছে টেনে নিয়েছেন। সবাই যেভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন আমার বিশ্বাস আগামীকাল সোমবার সিসিক নির্বাচনে টেবিল ঘড়ি নগরবাসীর আশা-আকাক্সক্ষা পূরণে সক্ষম হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ