ঢাকা, রোববার 29 July 2018, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ষড়যন্ত্রকারীরা পালাবার পথ খুঁজে পাবেন না -আরিফ

সিলেট ব্যুরো : সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, ‘সিলেট নগরের মানুষের প্রতি আমার অগাধ আস্থা আছে। গত ৫ বছর আমার ওপর যে অন্যায়-অবিচার করা হয়েছে এবং আমার কর্মীদের ওপর যে নির্যাতন চালানো হচ্ছে তার বিচারের ভার আমি নগরবাসীর ওপরই ছেড়ে দিলাম।’  তিনি বলেন, ‘কোনো ষড়যন্ত্র করে নির্বাচনকে বানচাল করা যাবে না। সিলেটের মানুষ অন্যায় সহ্য করে না। আপামর জনতা যদি ষড়যন্ত্রের বিষয় টের পেয়ে যায় তবে ষড়যন্ত্রকারীরা পালাবার পথ খুঁজে পাবেন না।’
গতকাল শনিবার সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শেষ দিনের গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার আহ্বান জানান। নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে সদ্য বিদায়ী মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমার কর্মী সমর্থক প্রচার চালাতে পারছে না। তারা বাড়ি ঘরে থাকতে পারছে না। এজেন্টদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’ এ অবস্থায় নগরবাসীকে সোচ্চার ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই নগরের মানুষই আমার বড় ভরসা। পুণ্যভূমি সিলেটে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেবে না এখানকার মানুষ এ বিশ্বাস আমার আছে।’ তিনি বলেন, ‘সিলেটের মানুষ আমাকে ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছিলেন। কিন্তু যখনই আমি নগরের উন্নয়নে হাত দেই তখনই একটি অশুভ শক্তি বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সরকারের রোষানলে পড়ি আমি। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আমাকে তিন বছর কারাগারে আটকে রাখা হয়। আরিফ বলেন, ‘কেন আমার প্রতি এই অবিচার? আমার অপরাধ কি? সিলেটের মানুষ আমাকে ভালোবাসে এটাই কি আমার অপরাধ? যদি তাই হয় এর বিচারের ভার আমি নগরবাসীর কাছেই ছেড়ে দিতে চাই।’
আরিফুল হক চৌধুরী আরও বলেন, সিলেটে নির্বাচনের জন্য মনোনীত কয়েকজন প্রিসাইডিং অফিসার পরিবর্তন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রশ্ন করে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, নির্বাচনকে বানচাল করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। আমি আবারও বলছি, দয়া করে সিলেটের মাটিকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করবেন না। হযরত শাহজালাল (র.) ও হযরত শাহপরান (র.) এর পুণ্যভূমি সিলেটে অন্যায় করে ধ্বংস হয়ে গেছে এমন উদাহরণ ভুরিভুরি আছে। এ পুণ্যভূমি অন্যায়, অবিচার কখনো সহ্য করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। তারপরও কেউ কোনো অপচেষ্টা চালালে তার পরিণতি কোনভাবেই শুভ হবে না। এই নগরীর মানুষের আবেগ-অনুভূতি নিয়ে খেলা করার চেষ্টা করবেন না। একটি সুন্দর, সুষ্ঠু, অবাধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন দিয়ে প্রমাণ করুন, আপনারা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী।’ আরিফুল হক চৌধুরী সকল ষড়যন্ত্রের মোকাবেলায় সচেতন থাকার জন্য সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানান। সকাল ১১টায় তিনি নগরীর ঝেরঝেরিপাড়া এবং মিরাবাজার আবাসিক এলাকায় গণসংযোগ করেন। দুপুরে আরিফুল হক চৌধুরী দরগাহ মাদরাসায় আলেম উলামা এবং মাদরাসার ছাত্রদের সাথে একটি মতবিনিময় সভায় যোগদান করেন। দরগাহ মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আবুল কালাম যাকারিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আরিফুল হক চৌধুরী। সাবেক এমপি মাওলানা এডভোকেট শাহিনূর পাশা চৌধুরীর সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আলেম উলামাদের সাথে আমার আত্মিক সম্পর্ক। আলেম উলামাদেরকে আমি অনেক ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি।
আচরণবিধি লঙ্ঘন করে কামরানের পক্ষে প্রচারণায় এমপি ইয়াহইয়া: সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া। গতকাল শনিবার বেলা ১টার দিকে নগরীর তালতলা এলাকায় কামরানের পক্ষে লিফলেট বিলি করতে তাকে দেখা যায়। এসময় তার সাথে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সিলেট নগরীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে দলের পক্ষ থেকে কামরানকে সমর্থনের কথা জানান এহিয়া। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ব্যাপারে জানতে চাইলে এহিয়া জানান, আমি দলের পক্ষ থেকে বদর উদ্দিন আহমদকে সমর্থন জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছিলাম। সেখান থেকে বের হলে কর্মীরা আমার হাতে কয়েকটি লিফলেট দিয়ে বিলি করার অনুরোধ করেন। তখন আমি কয়েকজনের হাতে লিফলেট তুলে দেই। তিনি বলেন, এতে আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে বলে আমি এখন বুঝতে পারছি। নির্বাচন কমিশন থেকে যদি আমাকে কারণ দর্শাতে বলা হয় তবে আমি তার জবাব দিবো। সিসিক নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা প্রলয় কুমার সাহা জানান, নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী সংসদ সদস্য এবং সরকারি সুবিধাভোগী ব্যক্তিরা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। কোন সংসদ সদস্য নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন এমন অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এর আগেও দুইজন সরকারি সুবিধাভোগী ব্যক্তিকে শোকজ করা হয়েছিল। 
বিএনপির ৮০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা : সিলেট সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের নির্বাচনী কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় বিএনপির ৮০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় যুবলীগ নেতা ফারুক আহমদ বাদী হয়ে ৬০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ১৫/২০ জনের বিরুদ্ধে নগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় এ মামলা দায়ের করেন।
এয়ারপোর্ট থানার ভারপাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌসুল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে আসামীদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করেননি গৌসুল। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর চৌখিদেখি এলাকায় বদর উদ্দিন আহমদ-এর নির্বাচনী কার্যালয়ে ককটেল হামলার ঘটনা ঘটে। এ হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এরপর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ