ঢাকা, রোববার 29 July 2018, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তিন সিটির নির্বাচন

আগামীকাল রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন। মানুষ আশা করেছিল খুলনা ও গাজীপুরের নির্বাচন নিয়ে দেশে-বিদেশে প্রবল সমালোচনার পর রাজশাহী, সিলেট, বরিশালের নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা হবে। নির্বাচন কমিশনও তাই বলেছিল। কিন্তু এই তিন সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে যে নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি হয়ছে, তাতে সবাই আশঙ্কা করছে এই নির্বাচন তিনটিও আগের নির্বাচনের মতোই হবে।
সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রধান শর্তই হলো ভোটাররা ভয়হীন পরিবেশে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বাধা ছাড়াই স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন এবং সব প্রার্থী, বিশেষ করে সরকারের প্রতিপক্ষ প্রার্থীরা বাধাহীন পরিবেশে স্বাধীনভাবে ভোটারদের কাছে যেতে পারবেন এবং প্রচার চালাতে সমর্থ্য হবেন। কিন্তু অপরিহার্য দুই শর্তের কোনোটিই  এখন নির্বাচনী এলাকাগুলোতে নেই। ভোটাররা ভীত-সন্ত্রস্ত। একজন সাংবাদিক একটি নির্বাচনী এলাকার শতাধিক সাধারণ মানুষের সাক্ষাৎকার থেকে জানিয়েছেন, তারা নির্বাচন নিয়ে ভীত, নির্বাচন বিষয়ে কোনো আলোচনাই করতে তারা রাজি নয়। একজনমাত্র সাহসী ও স্পষ্টবাদী লোক বলেছেন, মানুষকে জিজ্ঞাসা করে কোনো লাভ নেই। বলতে যদি হয়ই তারা বলবে আমি আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে ভোট দেব। কোনো নির্বাচনী এলাকার ভোটাররা যদি এতটাই ভীত হয়, তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন কীভাবে সম্ভব? সম্ভব নয়। অনুরূপভাবেই সরকারের প্রতিপক্ষ নির্বাচন প্রার্থীদের ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। নির্বাচনী সিডিউল ঘোষণার পরও প্রতিপক্ষের  নেতা-কর্মীরা পাইকারীভাবে আটক হচ্ছে। এমনকি এইভাবে আটক না করার কোর্টের নির্দেশ পাশ কাটিয়ে আটক অভিযান চলছে বিভিন্ন কৌশলে। তার ওপর আছে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিং অফিসার নিয়োগের প্রশ্ন। এ ক্ষেত্রে পাইকারি ব্যতিক্রম ঘটছে, এটা একটা সাধারণ অভিযোগ। এরই ফলে ব্যালটে অবৈধ সিল মারা বা মারতে দেয়ার অভিযোগ প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিং অফিসার ও ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনরত পুলিশদের বিরুদ্ধে উঠেছে।
এই অবস্থায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। অথচ আমরা সবাই, সরকারসহ সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। বাইরের দুনিয়াও চায় এবার বাংলাদেশে সকল দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু, সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। কিন্তু সিটি কপে কর্পোরেশনের স্থানীয় নির্বাচনেই যেখানে সরকার ও নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টিতে ব্যর্থ হচ্ছে, সেখানে তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারবেন, সেটা আশা করা যায় না। অতএব আগামীকাল তিন সিটির নির্বাচন আবারও প্রমাণ করবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য পরিবেশে, গ্রহণযোগ্য মানে সম্ভব হবে কিনা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ