ঢাকা, রোববার 29 July 2018, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কেমন হবে ইমরান খানের পররাষ্ট্র নীতি

পাকিস্তানে নির্বাচন শেষ হয়ে গেল। সকলকে চমকে দিয়ে সাবেক ক্রিকেটার বিশ^বিখ্যাত অল রাউন্ডার ইমরান খান পাকিস্তানের প্রধান মন্ত্রীর আসন অলঙ্কৃত করতে যাচ্ছেন। তার দল তেহরিকে- ইনসাফে পাকিস্তান একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেয়েছে, নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা পায়নি। নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেতে হলে দরকার ১৩৭টি পার্লামেন্টারি আসন। পাকিস্তানে নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত অফিসিয়াল রেজাল্ট ডিক্লেয়ার করেনি। তবে ঐ সংখ্যা ১১৫ থেকে ১১৯ এ  ওঠা নামা করছে। ১১৫ বা ১১৯ যেটাই হোক না কেন, ইমরান খানকে একটি কোয়ালিশন সরকার গঠন করতে হচ্ছে। কার সাথে তিনি কোয়ালিশন করবেন সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। যদি তিনি ১১৯টি আসন পেয়ে থাকেন তাহলে সরকার গঠনের জন্য তার আর ১৮টি আসনের প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে হয় বেনজির ভূট্টোর পুত্র বিলওয়ালের নেতৃত্বাধীন পিপিপির সাথে অথবা ইসলামপন্থী ও স্বতন্ত্র সদস্যদের সাথে কোয়ালিশন হতে পারে। যেটিই হোক না কেন, পাকিস্তানে একটি কোয়ালিশন সরকার হচ্ছে। ইমরান খান বলেছেন যে, সরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করার পর তিনি সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করবেন।
আমার কাছে একটি বিষয় খুব অবাক লেগেছে যে, আমাদের দেশের একশ্রেণীর মিডিয়া এবং বুদ্ধিজীবী নির্বাচনের আগে থেকেই ইমরান খানের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছেন। এরা এখন নওয়াজ শরীফ এবং তার দল মুসলিম লীগের প্রতি বেশ সহানুভূতিশীল মনে হচ্ছে। অথচ, নওয়াজ শরীফ যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন তারাই নওয়াজের পিন্ডি চটকিয়েছেন। এরা যে পাকিস্তানের কাকে সমর্থন করেন আর কার বিরোধিতা করেন সেটি আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়। বাংলাদেশের ঐ শ্রেণীটি বলছেন যে, পাকিস্তানের সেদিনের নির্বাচনটি ছিল একটি সাজানো নির্বাচন। ইমরানের পেছনে আছে পাকিস্তানের বিচার বিভাগ এবং সেনাবাহিনী। আমরা এ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করবো না। তবে ঐ একই শ্রেণী এর আগে বলেছেন যে, নওয়াজ শরীফের পেছনের শক্তি হলো সেনাবাহিনী। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী, আমলাতন্ত্র এবং বিচার বিভাগ কখন কার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় সেটি আমাদের আজকের আলোচ্য বিষয় নয়। সেই ব্যাপারে আমরা আগ্রহীও নই। পাকিস্তানের রাজনীতি পাকিস্তানের জনগণ করবে। পাকিস্তান একটি স্বাধীন দেশ। আমরা বাংলাদেশও একটি স্বাধীন দেশ। সেই কারণে আমাদের ইন্টারেস্ট থাকবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র নীতির ওপর। ইমরান খানের সরকার কোন পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করে সেটি আমরা আগ্রহের সাথে পর্যবেক্ষণ করবো।
এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, নির্বাচনের প্রায় মাস খানেক আগে থেকেই  আমেরিকার ট্রাম্প সরকার এবং আমেরিকার শক্তিশালী মিডিয়া ইমরান খানের বিরুদ্ধে লেগে গেছে। একই সাথে তারা পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধেও অনবরত কথা বলছে। ঐ দিকে ভারতও বসে নাই। ইমরান খান নিজেই বলেছেন যে, ভারতের অধিকাংশ মিডিয়া তার বিরুদ্ধে বৈরি আচরণ করছে। তাদের আচরণে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে যে ইমরান ক্ষমতায় আসুক এটি তারা চাচ্ছিলেন না। শুধু মিডিয়ার কথা বলবো কেন, স্বয়ং ভারতের প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন যে, নওয়াজ শরীফ বড় ভাল লোক ছিলেন। নওয়াজ শরীফ যে খারাপ লোক ছিলেন একথা তো কেউ বলছে না। তবে মোদির ভাষায় যদি নওয়াজ ভাল লোকই ছিলেন তাহলে বিগত চার বছরে পাক-ভারত সম্পর্কের উন্নতি ঘটলো না কেন? এই চার বছর তো ভারতে মোদি এবং পাকিস্তানে নওয়াজই ক্ষমতায় ছিলেন। অথচ এই নওয়াজ মোদির আমলেই কাশ্মীরে বিক্ষোভ হয়েছে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর গুলিতে শতাধিক স্বাধীনতাকামী কাশ্মীরী জীবন দিয়েছেন এবং ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানে সীমিত আক্রমণ করেছে। এখন আবার তারা ইমরান খানের বিরুদ্ধে কথা বলা শুরু করেছে। আসলে ভারত যে কি চায় সেটি বর্তমান প্রজন্মের কাছে খুব পরিষ্কার নয়। তবে যারা প্রবীণ তাদের কাছে ভারতের চাওয়া পাওয়ার ব্যাপারে কোনো রূপ অস্পষ্টতা নাই।
খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। এই বাংলাদেশেও ইমরান খান খুব জনপ্রিয় ছিলেন। বলতে গেলে ক্রিকেটার ইমরানের জন্য বাংলাদেশের যুব এবং মধ্যবয়সীদের মাঝে একটি ক্রেজ ছিল। ইমরান যদিও রাজনীতি করছেন ৯২/৯৩ সাল থেকে, কিন্তু তিনি তার বর্তমান দল অর্থাৎ তেহরিকে-ইনসাফে পাকিস্তান বা পিটি আই গঠন করেন ২০১৩ সালে। তারপর মাত্র ৫ বছর। এই ৫ বছরে তিনি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এলেন। তার বিজয় বা সাফল্যের পেছনে কারণটি কি? এর সবচেয়ে সহজ সরল উত্তর দিয়েছেন ভারতের ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক অল রাউন্ডার কপিল দেব। যারা ঐ সময় ইন্ডিয়ার ক্রিকেট খেলা দেখেছেন তারা লক্ষ্য করেছেন যে, কপিল দেব ব্যাটসম্যান হিসাবেও  ওপেনার ছিলেন, আবার বোলার হিসাবেও ওপেনার ছিলেন। তো সেই কপিল দেব বলেছেন যে, ইমরানের ভেতরে দুটো বড় গুণ রয়েছে। একটি হলো, তিনি খুব পরিশ্রমী। আর একটি হলো, তিনি খুব জেদি। তিনি কোনো বিষয়কে টার্গেট করলে সেটার জন্য তিনি যেমন কঠোর পরিশ্রম করেন, তেমনি লক্ষ্য হাসিল না হওয়া পর্যন্ত তিনি হাল ছাড়েন না। যাই হোক, এখন আমরা ফিরে আসছি পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্র নীতির ব্যাপারে।
॥দুই॥
প্রথমইে দেখা যাক, ভূমন্ডলীয় রাজনীতিতে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে পাকিস্তানের বর্তমান অবস্থা কেমন। প্রথমে বিশ্বের একমাত্র সুপার পাওয়ার আমেরিকা। আমেরিকা এখন পারলে পাকিস্তানকে চিবিয়ে খেয়ে ফেলে। অথচ, ব্যর্থ প্রেমিকাদের ভাষায়-
যখন তোমার কেউ ছিল না
ছিলাম শুধু আমি
এখন তোমার সব হয়েছে
পর হয়েছি আমি।
৫০ দশকের প্রথম দিকে দক্ষিণ এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার বলতে গেলে কোনো বন্ধু ছিল না। তখন সোভিয়েট ইউনিয়ন ছিল আর একটি পরাশক্তি। সোভিয়েট ক্যাম্পে ছিল ভারত এবং আফগানিস্তান। ঐ দিকে মধ্য প্রাচ্যে সিরিয়া প্রভৃতি দেশ। ৫০ দশকের প্রথমার্ধে পাকিস্তানের উদ্যোগে কতগুলো  চুক্তি সম্পাদিত হয়।
১৯৬৪ সালে পাকিস্তান, তুরস্ক এবং ইরান মিলে গঠিত হয় আরসিডি বা আঞ্চলিক সহযোগিতা চুক্তি। এছাড়া ১৯৫৫ সালে ইরান, ইরাক, পাকিস্তান, তুরস্ক এবং আমেরিকা মিলে গঠিত হয়  সেন্টো বা বাগদাদ চুক্তি নামক সামরিক চুক্তি। ১৯৫৪ সালে সম্পাদিত হয় পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তি। ১৯৫৪ সালে ৮টি রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত সিয়াটো বা দক্ষিণ-পূর্ব এশীয়  সামরিক চুক্তি। সিয়াটোতে পশ্চিমা দেশগুলো ছাড়াও ছিল পাকিস্তান, ফিলিপাইনস এবং থাইল্যান্ডের মতো এশীয় দেশসমূহ। এভাবে ১৯৫৪  ও ৫৫ সালে পাকিস্তান, ইরান ও তুরস্কের বদৌলতে  আমেরিকা এশিয়ার মাটিতে পা রাখার জায়গা পায়।
কালের আবর্তনে অনেক কিছু বদলে যায়। যে ভারত ছিল আমেরিকার চক্ষুশূল সেই ভারত আজ আমেরিকার জানি দোস্ত। আজ ভারতকে আমেরিকা অস্টেপৃষ্ঠে অস্ত্র সজ্জিত করে চায়নাকে মোকাবেলা করার লায়েক করে তুলছে। অথচ, ভারত সামরিকভাবে শক্তিশালী হয়ে চায়নার বিরুদ্ধে না লেগে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রক্তচক্ষু প্রদর্শন করছে। আর ভারতের ভরসায় আমেরিকা পাকিস্তানকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। এর মধ্যে যোগ হয়েছে টুইন টাওয়ারের ঘটনা। আমেরিকা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নাম করে তারা পাকিস্তানকে মুসলিম জাহানে ইসলামী দলসমূহের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছিল। পাক-মার্কিন সম্পর্ক নিয়ে এই ধরনের অনেক কাহিনী আছে, যেগুলো নিয়ে মহাকাব্য রচনা করা যায়। যাই হোক, এখন বর্তমানে অবস্থা এই যে, পাক-মার্কিন সম্পর্ক এখন রীতিমতো তলানিতে।
অনেকে বলেন যে, ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন নাকি ইমরানের জন্য বড় পরীক্ষা। এটা কি শুধুই ইমরানের জন্য পরীক্ষা? নাকি ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশের জন্যই অগ্নি পরীক্ষা? বিষয়টি যদি এতই সোজা হবে তাহলে ১৯৪৭ সালে ভারত ভেঙে পাকিস্তান ও ভারত নামক দুটি রাষ্ট্র জন্ম নেওয়ার পরেও এই ৭০ বছরেও কেন দুটি দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হলো না? আমাদের দুর্ভাগ্য এই যে, আমরা কেউ সত্যকে সহজভাবে মেনে নিতে পারি না। অথবা নির্ভয় সত্য উচ্চারণ করতে পারি না। পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে যে সমস্যাটি দুই দেশের সম্পর্ককে ৭০ বছরেও স্বাভাবিক হতে দেয়নি সেটি হলো কাশ্মীর। কাশ্মীর সমস্যা অত্যন্ত সোজা আবার অত্যন্ত কঠিন। অত্যন্ত কঠিন এই কারণে যে, কাশ্মীরের একটি অংশ ভারতে এবং অপর অংশ পাকিস্তানে। বড় অংশটি ভারতে। আর একটি অংশ চীনে। চীনের এই অংশ নিয়ে ভারত এবং পাকিস্তান কেউই আর প্রশ্ন তোলে না। এখন পাকিস্তান মনে করে যে সমগ্র কাশ্মীর পাকিস্তানে যোগ দেওয়ার কথা। পক্ষান্তরে ভারত মনে করে যে সমগ্র কাশ্মীর ভারতে যোগ দেওয়ার কথা। ৭০ বছরেও এই বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। আগামী ৭০ বছরেও  সেটি নিষ্পত্তি হবে কিনা সন্দেহ।
॥তিন॥
একটি সময় ছিল যখন কাশ্মীর বিরোধে ভারতকে শর্তহীনভাবে এবং সর্বাত্মক সমর্থন দিয়েছিল তৎকালীন সুপার পাওয়ার সোভিয়েট ইউনিয়ন। পক্ষান্তরে আমেরিকা পাকিস্তানকে অল আউট সাপোর্ট দেয়নি। প্রথম থেকেই তারা কাশ্মীর প্রশ্নে ধরি মাছ না ছুই পানির ভূমিকা নিয়েছিলো। কাশ্মীরে গণভোটের প্রশ্নে জাতিসংঘের প্রস্তাব আমেরিকা সমর্থন করলেও সেটি বাস্তবায়নের জন্য জোরে চাপ দেয়নি। কারণ জোরে চাপ দিলে ভারত অসন্তুষ্ট হবে। তাই ভারতকে খুশি রাখার জন্য তারা পাকিস্তানকে সাপোর্ট করার নামে শুধুমাত্র লিপ সার্ভিস দেয়। কিন্তু সোভিয়েট ইউনিয়ন ছিল ভারতের পক্ষে অল আউট। জাতিসংঘে গণভোটের প্রস্তাব উত্থাপিত হলেই সেটিকে কিল করার জন্য রাশিয়া এক বার নয়, একাধিক বার ভেটো দিয়েছে। এভাবেই  ৭০ বছর ধরে জিন্দা আছে কাশ্মীর সমস্যা। আর কত বছর জিন্দা থাকবে সেটি আল্লাহই জানেন। সেই কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে যদি ভারতের সাথে পাকিস্তানের বৈরি সম্পর্ক অব্যাহত থাকে তার জন্য ইমরান খানকে দায়ী করা হবে কেন? কাশ্মীর প্রশ্নে ভারত যদি পাকিস্তানের দাবিকে সমর্থন করে তাহলে ভারতের কোনো সরকার  ২৪ ঘন্টাও ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। তেমনি কাশ্মীর প্রশ্নে পাকিস্তান যদি ভারতের দাবিকে সমর্থন করে তাহলে পাকিস্তানে কোনো সরকার ২৪ ঘন্টাও ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।
এর মধ্যে বিশ^রঙ্গমঞ্চে আবির্ভূত হয়েছে এক নতুন প্লেয়ার। সেটি হলো গণচীন বা কমিউনিস্টদের ভাষায় মহাচীন। নেফা বা অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে ভারতের সাথে গণচীনের আগে থেকেই বিরোধ ছিল। গণচীনের দাবি, অরুণাচল পুরো প্রদেশটি চীনের। ভারত সেটিকে জোর করে তার দখলে রেখেছে। ১৯৬২ সালে চীন ও ভারতের মধ্যে যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে ভারত শোচনীয় পরাজয় বরণ করে। চীন অরুণাচল বা নেফার অনেক অংশ দখল করেছিল। কিন্তু তার পর কোনোরকম আলাপ আলোচনা বা নেগোসিয়েশন ছাড়াই তারা একতরফাভাবে জয় করা এলাকা ছেড়ে দেয় এবং নিজ থেকেই পেছনে ফিরে যায়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে চীন পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিল। কারণটি হলো ভারত। ভারত ঐ যুদ্ধে বাংলাদেশকে সমর্থন করে সামরিক হস্তক্ষেপ করে। এর পর বাংলাদেশ বা ভারতের সাথে চীনের সম্পর্ক আর কোনো দিন উন্নত বা স্বাভাবিক হয়নি। কিন্তু অন্যদিকে পাকিস্তানের সাথে চীনের সম্পর্ক আগের চেয়েও বেশি ঘনিষ্ঠ হয়। আমেরিকা পাকিস্তানকে সামরিক অস্ত্র সরবরাহে নানা ফ্যাকরা তুললে চীন সেই শূন্য স্থান পূরণ করে এবং পাকিস্তানকে বিপুল পরিমাণে সামরিক ও অর্থনৈতিক সাহায্য প্রদান করে। পাকিস্তানে বেলুচিস্তানের গোয়াদর বন্দরে চীন গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করেছে। এছাড়া বেলুচিস্তানের চমন থেকে  চীনের ওয়ান রোড ওয়ান বেল্ট শুরু হবে এবং আজাদ কাশ্মীর হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নামবে। এই রাস্তাটি পাকিস্তান ও চীন উভয়ের জন্যই কৌশলগতভাবে এবং অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যেই চীন পাকিস্তানকে ৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থাৎ ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার কোটি টাকা অর্থনৈতিক সাহায্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার অধিকাংশ ফান্ড রিলিজ করা হয়েছে। এভাবে আমেরিকার সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক খারাপ হলেও চীনের সাথে তা দ্বিগুণ ঘনিষ্ঠ হয়েছে। বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক পাকিস্তানের অতীতেও খারাপ ছিল, এখনও তাই আছে। ভবিষ্যতেও উন্নত হওয়ার কোনো আলামত দেখা যাচ্ছে না।
এই পটভূমিকায় ইমরান খানের সরকার আমেরিকার সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের ব্যাপারে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করে সেটি পশ্চিমারা তীক্ষèভাবে অবজার্ভ করবে।  পশ্চিমা এবং ভারতীয় চক্রান্তে ইমরান সরকার  কাবু হলে তাকে চীন কিভাবে উদ্ধার করে সেটিও পর্যবেক্ষকরা তাদের অনুসন্ধানী রাডারের মধ্যে রাখবেন। বাংলাদেশী হিসাবে আমি দুই দেশের সম্পর্ক  ব্যাপকভাবে উন্নত করা হোক সেটা চাই।  কিন্তু তার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। তবুও সরকার গঠনের পর ইমরান খান কিভাবে তার বিদেশ নীতির বিন্যাস করেন সেটি দেখার জন্য অপেক্ষা করছি। 
Email: asifarsalan15@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ