ঢাকা, রোববার 29 July 2018, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বগুড়ার সৈয়দ আহম্মদ কলেজ ৪৮ বছরেও জাতীয় করণ হয়নি

জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুদানে গড়া সৈয়দ আহম্মদ কলেজটি ৪৮ বছরেও জাতীয়করণ হয়নি

সোনাতলা (বগুড়া) সংবাদদাতা : বঙ্গবন্ধুর অনুদানে প্রতিষ্ঠিত সৈয়দ আহম্মদ কলেজটি শেখ হাসিনা সরকারের আমলে জাতীয়করণের জোর দাবি উঠেছে। কলেজটি সরকারি করণে একাধিকবার প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে পরিণত হয়নি আজও। তবে সম্প্রতি কলেজটি জাতীয়করণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাড মহাম্মদ আলতাফ আলী জাতীয় সংসদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
কলেজের পূর্ব ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ  মোঃ নজবুল হক সাহেবের পিতা বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর তৎকালীন এম.এল.এ (এম.পি) সৈয়দ আহম্মদ সাহেবের নামানুসারে কলেজটির নামকরণ করা হয়। কলেজটি যে মাঠে অবস্থিত সেই মাঠে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ১৯৫৪ সালে সৈয়দ আহম্মদ সাহেবের এম.এল.এ (এমপি) নির্বাচনী প্রচারণায় বক্তব্য রাখেন। দেশ স্বাধীনের পর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ কলেজের উন্নয়নের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এর সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি পূর্বস্মৃতির কথা স্মরণ করে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর তহবিল হতে আর্থিক অনুদান হিসাবে ১০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন।
১৯৭০ সালে এলাকার গণ্যমান্য ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গের প্রচেষ্টায় বগুড়া শহর থেকে মাত্র ১৭ কিলোমিটার উত্তরে শিক্ষা নগরী সুখানপুকুর এলাকায় প্রতিষ্ঠা করা হয় সাবেক প্রাদেশিক পরিষদের এমএলএ মরহুম সৈয়দ আহম্মদের নামানুসারে একটি কলেজ। আর সেই সময় পিতার নামানুসারে প্রতিষ্ঠিত হওয়া কলেজে হাল ধরেন সোনাতলা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ নজবুল হক। কলেজটিতে ১৫টি বিষয়ে অর্নাস ও ৮টি বিষয়ে মাস্টার্স কলেজটি পাঠদানকারী কলেজ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অত্র কলেজের নিজস্ব প্রায় ১৩ একর জায়গা জমি রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ছাত্র/ছাত্রী পরিবহনে ৮টি বাস, দুইটি মাইক্রোবাস ও ব্যাংক ব্যালেন্স। বর্তমানে ওই কলেজে প্রায় ৮ হাজারে অধিক ছাত্রছাত্রী অধ্যয়নরত।
কলেজটি উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস। প্রতি বছর সকল পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল অন্যসব কলেজের চেয়ে শীর্ষে। সম্প্রতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অধিভুক্ত সারা দেশের কলেজ সমূহের মধ্যে রাজশাহী অঞ্চলের শীর্ষ ১০ কলেজের মধ্যে দুই দুইবার ৫ম স্থান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে উপজেলা পর্যায়ে কলেজটি শ্রেষ্ঠ কলেজ হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সোনাতলা ও গাবতলী উপজেলার সীমান্তবর্তী একটি সুন্দর নিরিবিলি গ্রামাঞ্চলে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হলেও শহরের অনেক নামী দামী কলেজের চেয়ে ফলাফলে উল্লেখ যোগ্য ভূমিকা রাখতে পেরেছে।
অত্র কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ সাইদুজ্জামান জানান, কলেজটি উত্তরবঙ্গের বেসরকারি কলেজগুলোর মধ্যে একটি অন্যতম। কলেজের নিজস্ব অর্থায়নে ১ কোটি ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ১১৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩৪ ফুট প্রস্থ এবং অপর ৬ষ্ঠ তলা ৩ কোটি ২ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৬৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩৬ ফুট প্রস্থ ভবন নির্মাণ করা হয়। ১৯৯৪ সালে সরকারি ভাবে অত্র কলেজে ৩ কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণের ২১ বছর পর ২০১৬ সালে ১ কোটি সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০১ ফুট দৈর্ঘ্য একটি ভবন ফ্যাসালিটিজ বিভাগ নির্মাণ হয়েছে। সারাদেশে প্রথমবারের মত ১৫টি মডেল কলেজ নির্বাচনের প্রাথমিক তালিকায় অত্র কলেজ ৬ষ্ঠ স্থান অধিকার করেছে।
এ বিষয়ে অত্র কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ আলহাজ্ব নজবুল হক জানান, গ্রাম অঞ্চলের ছেলেমেয়েরা যাতে করে বাড়ি থেকে পানি পান্তা খেয়ে এসে মাষ্টার্স ডিগ্রী অর্জন করতে পারে সেজন্য কলেজটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখন তার শেষ ইচ্ছা তার জীবদশায় কলেজটি জাতীয়করণ দেখতে চান।
এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজন জানান, কলেজটি প্রতিষ্ঠা হওয়ায় সোনাতলা, সারিয়াকান্দি, গাবতলী, শিবগঞ্জ, গোবিন্দগঞ্জ, সাঘাটা উপজেলা ছাড়াও রংপুর, দিনাজপুর জেলার অসংখ্য দরিদ্র পরিবারের সন্তানেরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আধার ঘরে চাঁদের আলো দেখাতে পেরেছে। তারা আরও জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের অনুদানে গড়া কলেজটি ৪৮ বছরেও জাতীয়করণ হয়নি। তাই কলেজটি জাতীয়করণ করে অভাবী অসহায় ও নদীকুলীয় মানুষের সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার দাবী জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ