ঢাকা, রোববার 29 July 2018, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

স্থাপত্যকলার অনুপম নিদর্শন ঘাগড়া লস্কর খান মসজিদ

নালিতাবাড়ী, শেরপুর : অযত্ন অবহেলায় ধ্বংস হতে চলেছে ঘাগড়া লস্করখান মসজিদ

দুশ’ বছর আগে নির্মিত স্থাপত্য কলার অনুপম নিদর্শন ঐতিহাসিক ঘাগড়া লস্কার খান মসজিদটি অযতœ অবহেলায় ধ্বংস হতে চলেছে। শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী উপজেলার ঘাগড়া লস্কার গ্রামে মসজিদটি অবস্থিত। ১৯২৭ সালে নালিতাবাড়ী থেকে বিভক্তি হয় ঝিনাইগাতী থানা। বর্তমানে মসজিদটি ঝিনাইগাতী উপজেলার অধীনে। নালিতাবাড়ী উপজেলা থেকে ১২ কিলোমিটার ও শেরপুর জেলা শহর থেকে এর দুরত্ব ১৪ কিলোমিটার। মসজিদের যে সব নিদর্শন পাওয়া গেছে সে অনুসারে ধারণা করা হয় বক্সার বিদ্রোহীদের নেতা হিরঙ্গিখাঁর বিদ্রোহের সময় মসজিদটি নির্মিত হয়েছিলো। মসজিদটির দরজার উপর খোদাইকৃত ফলকে আরবী ভাষায় এর প্রতিষ্ঠাকাল উল্লেখ করা হয়েছে ১২২৮ বা ইংরেজী ১৮০৮ সাল। মসজিদটির গঠন পদ্ধতি ও স্থাপত্য কৌশল শিল্প সমৃদ্ধ ও সুদৃশ্য। এর ভিতরে রয়েছে দু’টো সৃদৃঢ় খিলন। এক গম্বুজ বিশিষ্ট এ মসজিদের দৈর্ঘ ১০০ মাইল ও প্রস্থ ৬০ মাইল। প্রস্থ উভয় দিকেই প্রায় সমান। এর অভ্যন্তর ভাগ ৩০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩০ ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট। মসজিদের চারপাশেই শান বাঁধানো বারান্দা ও ওয়াল রয়েছে। ঐ বারান্দায়ও মুসল্লিরা নামায আদায় করেন। মসজিদের মধ্যখানে বড় গম্বুজের চার পাশ ঘিরে ছোট বড় ১০টি মিনার রয়েছে। এর মধ্যে চার কোণায় চারটি। সারা মসজিদের দরজা রয়েছে একটি? ভেতরে মেহরাব ও দেয়ালে অংকিত রয়েছে বিভিন্ন কারুকাজ ফুলদানি। জাদুঘর ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এক যুগেরও আগে মসজিদটির দায় দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। কিন্তু একজন কেয়ার টেকার নিয়োগ, একটি সতর্কবানী লাগানো ও দায়সারাভাবে একবার রং করা ছাড়া আর কোনো ভূমিকা পালন করেনি বলে এলাবাসী জানিয়েছে। মসজিদটির মেঝে দেবে যাচ্ছে, দেয়ালে ফাটল ধরেছে। দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা না নিলে কালের এর নীরব সাক্ষী হয়ো নীরবেই হারিয়ে যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ