ঢাকা, রোববার 29 July 2018, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাবার বাঁধ নির্মাণে কৃষিতে প্রাণ সঞ্চার

নালিতাবাড়ী, শেরপুর : সন্ন্যাসীভিটা চেল্লাখালী নদীর উপর নির্মিত বারাব বাঁধ

ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে নেমে আসা খরস্রোতা ভোগাই নদীতে রাবার বাঁধ তৈরি করে পানি ধরে রেখে ক্যানেল ও সেচ যন্ত্রের মাধ্যমে কাজে লাগানোর ফলে পাল্টে যেতে চলেছে শেরপুরের সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী উপজেলাসহ আশপাশের আরও তিন উপজেলার অন্তত ১৪ হাজার একর অনাবাদি জমির কৃষিচিত্র। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর প্রচেষ্টায় নির্মিত এ তিনটি রবার বাঁধের ফলে ১০ হাজার কৃষকের ভাগ্য ফিরেছে।
উপজেল প্রকৌশলীর কার্যালয় ও কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে ১৯৯৬ সালে স্থানীয় সাংসদ এবং কৃষিমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় নালিতাবাড়ী উপজেলার সারা জাগানো জামিরাকান্দা এলাকায় প্রথমে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি রাবার বাঁধ নির্মাণ করা হয়। ভোগাই নদীর উপর নির্মিত এ বাঁধটির দীর্ঘ ১শ মিটার। সেই সঙ্গে যোগানিয়া ও মরিচপুরান এ দুই ইউনিয়নসহ নকলা-নালিতাবাড়ী দুই উপজেলার হাজার হাজার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিবর্তন আনে ১ম মিটার দীর্ঘ আরেকটি সেতু। রাবার বাঁধ নির্মাণের পর উজানে প্রায় ৮ কিলোমিটার নদীর পানি মজুদ করা হয়। মজুদকৃত এ পানি ১৩টি ক্যানেলে ১১২ টি সেচ পাম্পের মাধ্যমে বিনা জ¦ালানিতে কৃষকরা সেচ সুবিধা নেয়। প্রায় ৯ হাজার একর অনাবাদি জমি সেচ সুবিধার আওতায় আসে এ রাবার বাঁধের ফলে। সুবিধাভোগী হয় প্রায় ৭ হাজার কৃষক। শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা নকলা উপজেলা, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট এবং ফুলপুর এ চার উপজেলার মিলনস্থল তারাকান্দা এলাকায় ২০১৩ সালে একই নদীর ভাটিতে ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ম মিটার দীর্ঘ দ্বিতীয় রাবার বাঁধ ও  সেতু নির্মাণ করা হয়। এ বাঁধের ফলে প্রথমে ৪টি ক্যানেলের মাধ্যমে চার উপজেলার প্রায় ৩০টি গ্রামের সাড়ে ৩ হাজার একর অনাবাদি জমি সেচের আওতায় আসে। তবে শেষ পর্যন্ত এখানে সেচ সুবিধাভোগীর সংখ্যা আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি চার উপজেলার প্রান্তিক সীমানার এ অবহেলিত জনপদের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে। ভোগাই সেতু এবং পাকা সড়ক নির্মান হওয়ার ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এ এলাকার চেহারাই যেন পাল্টে গেছে। উপকার ভোগীরা বলেছেন কৃষি অর্থনীতিতে তারাকান্দা রাবার বাঁধ ও সেতু উজ্জ্বল ভূমিকা রাখবে। এ প্রকল্পটি এলাকার মানুষের জন্য আশীর্বাদে পরিণত হয়েছে। এদিকে দুটো রাবার বাঁধ প্রকল্পই সফলতার মুখ দেখায় নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী নদীর উপর বাঘবেড় ইউনিয়নের সন্নাসীভিটা এলাকায় ৩৬ মিটার দীর্ঘ তৃতীয় রাবার বাঁধ নির্মাণ করা হয়। ২০৫-১৬ অর্থ বছরে ১১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ রাবার বাঁধটি পুরোপুরি উপযোগী করতে নদী খননের জন্য পৃথক বরাদ্দ করা হয়। নদী খনন ও রাবার বাঁধ মিলে সর্বমোট এর ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১৫ কোটি টাকা। যদিও কারিগরি পরীক্ষার জন্য এ বাঁধটির সুফল এখনও পাননি কৃষকরা। তবে নদীতে রাবার বাঁধ ফুলিয়ে পানি মজুদ করায় আশপাশের জমিগুলোতে যেখানে শুষ্ক মওসুমে কোন পানি পাওয়া যেতো না, সেসব জমিতে এখন পনির স্তর স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে আশপাশের পুকুর-ডোবা-নালা এবং নলকূপ পর্যন্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে। এতে অন্তত এ এলাকার মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় পানির দূর্ভোগ কমেছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ বাঁধ নির্মাণের ফলে ৪টি ইউনিয়নের প্রায় ১ হাজার ৭শ একর অনাবাদি জমি অন্তত ৩ হাজার কৃষক। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, রাবার বাঁধ নির্মাণের ফলে কৃষিতে ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহৃত হয় না। ভূ-পৃষ্ঠের পানি ব্যবহারের ফলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর স্বাভাবিক থাকে। এতে যেমন সেচ ব্যয় কমে আসে, তেমনি ভূ-পৃষ্ঠের পানি জমির উর্বরতা বাড়ায় বলে উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কমে আসে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ