ঢাকা, রোববার 29 July 2018, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বড় দুই দলের প্রার্থী একাধিক আলোচনায় সাতজন-

আল-হেলাল : নালিতাবাড়ী, (শেরপুর) : শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী-নকলা উপজেলা নিয়ে গঠিত শেরপুর-২ সংসদীয় আসন। স্থানীয়ভাবে এটি ভিআইপি আসন হিসেবে পরিচিত। এ আসনে বিজীয় প্রার্থীর মন্ত্রী হওয়ার রেওয়াজ আছে বলে মানুষ মনে করে। বর্তমানে এ এলাকার সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় দুই দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপি থেকে অন্তত সাত নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। মাঠে রয়েছে জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য দুই প্রার্থীও। এখন পর্যন্ত ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের তিনজনকে নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে দেখা যাচ্ছে। তবে তিনজনই যোগ্য প্রার্থী। তাদের মধ্যে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ছাড়াও আছেন নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাবেক নেতা জেলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা ও নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বর্তমান জেলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোঃ মোকছেদুর রহামন লেবু। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক হুইপ প্রয়াত জাহেদ আলী চৌধুরীর পুত্র দলের কেন্দ্রীয় সদস্য প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক সচিব ব্যারিষ্টার হায়দার আলীর নাম শোন যাচ্ছে। এছাড়াও বর্তমান নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম আহবায়ক একেএম মোখলেছুর রহমান রিপন। নকলা উপজেলার সাবেক ছাত্র নেতা জায়েদুর রশীদ শ্যামল বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশায় এলাকায় রঙিন পোষ্টার লাগিয়ে দোয়া চাচ্ছেন। অপরদিকে বর্তমান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি থেকে সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত অধ্যাপক আব্দুস সালামের ছেলে ও জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি মোঃ শওকত সাঈদ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। এ ছাড়া জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রোজী সিদ্দিকী দলের মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন। মাঠ পর্যায়ে তাঁরা গণসংযোগ শুরু করেছেন। এ তিনটি দলের মধ্যে আওয়ামীলীগের আসনটি দখলে রাখতে চায়। বিএনপি ও জাতীয় পর্টি চায় পুনরুদ্ধার করতে। তিনটি দলেই রয়েছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল।
আওয়ামীলীগ ঃ ১৯৯৬, ২০০৮, ও ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে এ আসন থেকে নির্বাচিত হন মতিয়া চৌধুরী। তিন দফায় সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী হওয়ার কারণে তার নির্বাচনী এলাকায় নজরকাড়া উন্নয়ন কর্মকান্ড হয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পাশাপাশি যোগাযোগ বিদ্যুৎ ও শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক প্রসার ঘটেছে এলাকায়। বিদ্যুতে গ্রীড সাব-স্টেশন, সীমান্ত সড়ক, নাকুগাঁও স্থলবন্দর আধুনিকায়ন টিটিসি, কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল কাম ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণের ফলে এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় অর্থনীতিতেও প্রাণ চাঞ্চল্য এসেছে। শহর থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাধারণ মানুষ সন্তুষ্ট তাঁর ঐকান্তিক উন্নয়ন প্রচেষ্টায়। তবে দলীয় সূত্রে জানা গেছে নকলা ও নালিতাবাড়ীতে এক সময় মতিয়া চৌধুরীর কাছাকাছি থাকা নেতাদের অনেকেই এখন তাঁর প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নেমেছেন। নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান বাদশা গত নির্বাচনে মতিয়া চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হন এবং ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে দুপুর ১২টার পরপরই তিনি নির্বাচন বর্জন করেন। আমাগী নির্বাচনেও প্রার্থী হওয়ার জন্য তৎপরতা শুরু করেছেন বাদশা। তিনি এলাকায় এলাকায় গিয়ে গিয়ে সভা-সমাবেশ করছেন। বাদশার সমর্থকরা মতিয়া ছাড়া নৌকার দাবি তুলেছে। জেলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নালিতাবাড়ীর সরকার গোলাম ফারুক বলেন, আমাদের সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুর ২ আসনে এখণ আসলেই পরিবর্তন দরকার। ১৯৯১ সাল থেকে মতিয়া চৌধুরী একক নেতৃত্বের কারণে স্থানীয় নেতৃত্ব ধ্বংসের পথে। যারা জনপ্রিয় নেতা ছিলেন তাঁদেরকে তিনি অজনপ্রিয় করে বসিয়ে দিয়েছেন। পক্ষান্তরে পতিতাদের দলে টেনে এনেছেন। এভাবে চলতে থাকলে এখানকার আওয়ামীলীগ ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই আমরা মতিয়া চাড়া নৌকার দাবিতে মাঠে নেমেছি। মানুষ এখন পরিবর্তন চায় এমন দাবি করে তিনি বলছিলেন, পরিবর্তনের কান্ডারি হতে পারেন কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা। আগামী নির্বাচনে এলাকার নেতাকর্মী সাধারণ মানুষ তাঁকেই আওয়ামীলীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতিকে দেখতে চায়। নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক বলেছেন, এই আসনে বেগম মতিয়া চৌধুরী নৌকা প্রতিকে মনোনয়ন পেয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন। কেননা, তিনি এই নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। সাধারণ মানুষ তাঁর সৎ নেতৃত্বে মুগ্ধ। তা ছাড়া তিনি একজন জাতীয় পর্যায়ের নেতা। তাঁর বিকল্প কেউ নেই। নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান জেলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোকছেদুর রহমান লেবু সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সভা শোডাউন করে প্রার্থিতা জানান দিয়েছেন। এ জন্য তিনি পৃথকভাবে দেশরত্ন জন ঐক্য পরিষদ, দেশরত্ন শ্রমিক ঐক্য পরিষদ, দেশরত্ন যুব ঐক্য পরিষদ, দেশরত্ন ছাত্র ঐক পরিষদ ও দেশরত্ন কৃষক ঐক পরিষদ ইত্যাদি নামে সংগঠন করেছেন। আর এ সংগঠনের ব্যানারেই তিনি তাঁর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন- মোকছেদুর রহমান লেবু বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের অনুরোধে নিজেকে প্রার্থীতার ঘোষনা দিয়েছি। আশা করি দলীয় মনোনয়ন পেলে মানুষের আশা-আকাঙ্খার মর্যাদা রক্ষা করতে পারবো।
বিএনপি: ২০০১ সালে বিএনপি’র আলহাজ¦ জাহেদ আলী চৌধুরী এ আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী মতিয়া চৌধুরীকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন। যার পুরস্কার হিসেবে বিএনপি তাকে হুইপ পদ দিয়ে সম্মানিত করেছিলেন। আগামী নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে তৎপরতা চালিয়ে আসছেন প্রয়াত এ সংসদ সদস্যের বড় ছেলে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রকৌশলী ফহিম চৌধুরী। এ ছাড়া সাবেক সচিব ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিষ্টার এম হায়দার আলী ২০০৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও পাননি। আগামী নির্বাচনেও তিনি মনোনয়ন চাইবেন বলে তাঁর কর্মী সমর্থকরা জানিয়েছেন। এলাকায় নিয়মিত না আসার কারণে তাঁরও স্থানীয় নেতা কর্মীদের সঙ্গে এক ধরণের বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে। আর এ সুযোগে মাঠে রয়েছেন বর্তমান নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক এ কে এম মোখলেছুর রহমান রিপন।তিনি আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে ঘোষনা দিয়েছেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের শক্তিশালী প্রার্থীকে পরাজিত করে এবং বিএনপি দলীয় প্রার্থীকে কোনঠাসা করে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েও রিপন গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এতে তাঁর আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। বিএনপির অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেন সাবেক ছাত্র নেতা জায়েদুল রশিদ শ্যামল। তিনি জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে এখানে দলীয় মনোনয়ন চাচ্ছেন। নেতাকর্মীরা মামলা মোকাদ্দমায় জড়ালে তিনি তাঁদের পাশে গিয়ে দাঁড়াচ্ছেন। বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও সাহায্য সহযোগিতা শুরু করছেন। শ্যামল বলেন, ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য মানুষ এখন অপেক্ষার প্রহর গুনছে। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি এ আসনে বিজয়ী হব বলে বিশ্বাস করি। নালিতাবাড়ী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক নুরুল আমীন বলেন, শেরপুর-২ আসনটি ভিআইপি আসন। এখানে বিএনপির একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তবে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যাকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দিবেন আমরা সবাই মিলে তাঁরই নির্বাচন করব।
জাতীয় পার্টি : বিরোধী দল জাতীয় পার্টি এ আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চায়। এক সময় এ আসনটি জাতীয় পার্টির নেতা অধ্যাপক আব্দুস সালামের দখলে ছিল। ১৯৯১ সালে আসনটি জাতীয় পার্টির হাতছাড়া হয়ে যায়। আগামী নির্বাচনে আসনটি পুনরুদ্ধারে প্রয়াত আব্দুস সালামের পুত্র জেলা জাতীয় পার্টির সহসভাপতি মোহাম্মদ শওকত সাঈদ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। এছাড়া জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রোজী সিদ্দিকিও দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ