ঢাকা, রোববার 29 July 2018, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যাদের অবদান

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) : শেরপুরের নালিতাবাড়ীর সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতে যে সব ব্যক্তির অবদান উল্লেখযোগ্য তাঁরা হলেন- রাখাল বোস, হারান বোস, যাদব চ্যাটার্জী, পরেশ বোস, বসন্ত রায়, ডাঃ লাহিড়ী, গবুনাথ, কেফাতুল্লা, নগেন্দ্র চন্দ্র পাল, অবনীকর, সতীশ সরকার, রাস বিহারী নাথ, কালিপদ মাস্টার, প্রফুল্ল রায়, সীতারায়, অনুকূল দে, সুরেন দত্ত, কালীপ্রসন্ন ঘোষ, এ.বি.এম. নূরুল হক রবিউল্লাহ্, মাখন সোম, জগবন্ধুসাহা, ফালু, নাক্কু বোস, যোগেশ চন্দ্র শীল, দ্বীজেন্দ্র চন্দ্র মজুমদার, লাল বিহারি নাথ, হরেন্দ্র বৈরাগী, আঃ রশিদ, নারায়ন কর্মকার, মধু কর্মকার, ভূপেনশ^র রায়, আলহাজ¦ আঃ রহমান, দীগেন ডাক্তার, জানকি ঠাকুর, রাম শংকর কালোয়ার, কামাক্ষা, কার্তিক দে শহীদ আঃ রাজ্জাক, শহীদ নাজমুল আহ্সান, নিবারণ ভৌমিক, হরিপদ সাহা, অধ্যাপক আব্দুস সালাম, স্বপন, অধ্যাপক প্রভাত পাল, অধ্যাপক মোস্তফা কামাল, বিরুপাক্ষ পাল, উৎপলক্ষ পাল, আক্কাছ আলী, আব্দুস সালাম, আব্দুর রেজ্জাক, ছালাম মাষ্টার, এম এ হাকাম হীরা, চুরামন, নবাআলী, হেলাল উদ্দিন, হানিফ মিয়া, সাইদুল ইসলাম, তরুণ তালুকদার, বৈদ্যনাথ কর, তারা বাউল, মুকছেদ বাউল, মীনা স্বপ্না, আসিফ, নাহিদ, ইদ্রিস আলী, আতাউর হামিদ প্রমুখ।  ১৯২৭ সালের দারোগা সুরেন দত্তের প্রচেষ্টায় নালিতাবাড়ীতে গড়ে উঠেছিলো একটি সংস্কৃতিক গোষ্ঠি, তারাগঞ্জ আর্যনাট্য সমাজ। উপজেলার আম বাগানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো স্থায়ী থিয়েটার মঞ্চ। প্রতি মাসে দুটি নাকট মঞ্চস্থ হতো। নালিতাবাড়ীতে সাংস্কৃতিক চর্চা শুরু হয়েছিলো ১৮৩৩ সালের দিকে আড়াইআনি ও নয়আনি জমিদারের মহাল হিসেবেই। ১৯৪৩ সালে নালিতাবাড়ীতে যে বঙ্গীয় প্রাদেশিক কৃষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল তার প্রভাব পড়েছিলে সংস্কৃতি জগতে। অনেক বিপ্লবী গান রচিত হয়েছিলো সে সময়। নবা আর চুড়ামনের বিপ্লবী গান রচিত হয়েছিলে সে সময়। নবা আর চুড়ামনের বিপ্লবী কণ্ঠে গাওয়া হতো সে সব সঙ্গীত। ১৯৩৮ সালের আর্য নাট্য সমাজের স্থায়ী মঞ্চটিকে ঘিরে একটি সিনেমা হল তৈরী হয়েছিলো বসন্ত রায় ও পরেশ সোমের যৌথ নেতৃত্বে। ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত হলটি চালু ছিলো। অতীতে নালিতাবাড়ী তারাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে চর্চা হতো সংস্কৃতি। বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিচিত্রা অনুষ্ঠান, নাকট মঞ্চস্থ হতো। নাটকে স্কুলের ছাত্র শিক্ষক প্রাক্তন ছাত্র এবং সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীও অংশ গ্রহণ করতো। ওসি খাদেম ও এসআই নূরুল ইসলামের নাম স্মরণযোগ্য। পঞ্চাশ দশকে নাক্কু বোস ও নগেন্দ্র চন্দ্র পালের নেতৃত্বে এবং পরিচালনায় একটি যাত্রাদল গড়ে উঠেছিলো। প্রতিবছর দুর্গা পুজা উদ্যাপনের একটি অংশ ছিলো যাত্রানুষ্ঠান্ যাত্রা অনুষ্ঠিত হতো সীমান্তবর্তী উপজেলার খাল ভাঙ্গা পাল বাড়ীতে বিরাট আটচালার নীচে। পঞ্চাশ ও ষাট দশকে নালিতাবাড়ীতে বেশ কয়েকটি গানের দল গঠিত হয়েছিলো। কারককান্দি ইউনিয়নের রসাইতলায় ছিলো গহর বাদশা ও বানেছা পরীর দল, কোন্নগরে ছিল পুষ্পমালার দল; ছিটপাড়ায় ছিলো ঝুমুর গানের দল। এছাড়াও প্রায় প্রতি বছর শীত মওসুমে কলিকাতা গৌরীপুর যশোহর থেকে আসতো অপেরা পার্টি। দর্শনীয় বিনিময়ে সপ্তাহব্যাপী তাদের অনুষ্ঠান হতো। আসতো নাম করা সার্কাস পার্টিও। এদের মধ্যে দি রওশন সার্কাস ও দি লায়ন সার্কাস প্রসিদ্ধ। নালিতাবাড়ীর সীমান্ত ঘেঁষা নয়াবিল, রাজনগর, যোগানিয়ায় প্রতি বছর নাটক মঞ্চস্থ হতো। কিন্তু আধুনিকতার ছোয়ায় এসব সংস্কৃতি চর্চা এখন কালের গর্বে হারিয়ে যাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ