ঢাকা, রোববার 29 July 2018, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

স্বাস্থ্যসেবা হুমকির মুখে-

নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবা হুমকির মুখে পড়েছে। কমপ্লেক্সের বিভিন্ন বিভাগে পদ শূন্য থাকলেও তা পূরণে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। হাসপাতালে নিযুক্ত ডাক্তররা নিয়মিত অফিস করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সার্বিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা মুখ থুবড়ে পড়েছে। নির্মাণের ৬ বছর এবং উদ্বোধনের ৩ বছর পেরিয়ে গেলেও জনবল ও যন্ত্রাংশ সংকটে কার্যত অচল ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ফলে প্রায় তিন লাখ মানুষের জন্য সরকারী স্বাস্থ্য সেবা এখানে ব্যর্থতায় পর্যবসিত। নালিতাবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি ২০১১ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৫০ শয্যায় উন্নীত করার লক্ষ্যে নতুন ভবন কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ২০১৫ সালের ১৭ অক্টোবর স্বাস্থ্য মন্ত্রী নাসিম ও কৃষি মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এ হাসপাতালটির শুভ উদ্বোধন করেন। পরদিন ১৮ অক্টোবর ৫০ শয্যা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে খাদ্য ও পথ্য সরবরাহ করা শুরু হয়। একই বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে টিকিটের মূল্য ও প্যাথলজিক্যাল ফি নেওয়া শুরু করেন কর্তৃপক্ষ। কিন্ত ৫০ শয্যা হাসপাতালের অন্যান্য সেবা চালু হয়নি আজও। হাসপাতালটিতে নেই গুরুত্বপূর্ণ অনেক চিকিৎসা সরঞ্জাম। ৩৩ জন চিকিৎসকের বিপরীতে রয়েছেন মাত্র ৬ জন। এর মধ্যে একজন আছেন ডেপুটেশনে ও আরেকজন রয়েছেন রোহিঙ্গা শিবিরে কর্মরত। ফলে কার্যত কর্মরত চিকিৎসকের সংখ্যা মাত্র ৪ জন। এর মধ্যে ২ জন রয়েছেন ইউনিয়ন ভিত্তিক, বাকী ২ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর জন্য। ৪৫ জন স্বাস্থ্য সহকারীর বিরপরীতে রয়েছেন ২৬ জন। রয়েছে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাডর সংকট। কম্পাউন্ডার, জুনিয়র মেকানিক ও হিসাব রক্ষকসহ ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী মিলে ৭৯ জনের মধ্যে শূন্য রয়েছে ২৪টি পদ। আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও তা পরিচালনার পদটি শূন্য থাকায় অকেজো হয়ে পড়ে আছে। সেই বহু গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম। স্বাভাবিক প্রসবের ব্যবস্থা থাকলেও নেই সিজারের ব্যবস্থা। সামান্যতম অসুস্থতা নিয়ে কেউ সেবা নিতে এলে প্রেরণ করা হয় শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহারের অনুপোযোগী হওয়ায় এর চালক নিজ ব্যয়ে কোনোমতে সচল করে চালাচ্ছেন। নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থা। জেনারেটর না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে ভোগান্তিতে পড়ে সংশ্লিষ্টরা। জনবল সংকটে এনেসথেশিয়া মেশিনসহ বিকল হওয়ার পথে অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম। ফলে সরকারী স্বাস্থ্যসেবা এখানে ব্যর্থতায় রূপ নিয়েছে। ভোগান্তি বেড়েছে উপজেলা প্রায় ৩লাখ মানুষের। বিষয়গুলো স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডাঃ মাহমুদুল বাশার জানিয়েছেন জনবল সংকটের ফলে আমরা সরকারি স্বাস্থ্যসেবা সঠিকভাবে জনগণকে দিতে পারছি না। জনবল চেয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে বার বার পত্র প্রেরণ করে আসছি, চেষ্টা চলছে। কিন্তু কাজ হচ্ছে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ