ঢাকা, রোববার 29 July 2018, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মিষ্টান্ন শিল্পের দুর্দিন

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে মিষ্টান্ন শিল্পের এখন দুর্দিন চলছে। ঐতিহ্যবাহী অনেক জাতের মিষ্টি এখন আর এখানে তৈরি হচ্ছে না। মিষ্টি শিল্পের কারিগররা অনেকে বেকার হয়ে পড়েছেন। কেউ কউে নিজ পেশা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন অন্য পেশায়। নালিতাবাড়ীর মিষ্টান্ন শিল্পের খ্যাতি রয়েছে দেশ বিদেশে। ইংরেজ আমল থেকেই নালিতাবাড়ীর মিষ্টি সরবরাহ হয়েছে এলাকার গন্ডি পেরিয়ে বিভিন্ন দেশে। সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী উপজেলায় তৈরি ছানামুখী রসমলাই, রাজভোগ, ক্ষিরকদম্ব, বাদশা ভোগ, সাদরা ভোগ, লেডিকেনির দারুণ কদর রয়েছে ভোজন রসিকদের কাছে। জন্ম, বিয়ে, সুসংবাদ কাউকে খুশি করতে নালিতাবাড়ীর মিষ্টির জুড়ি নেই। চাকরি, পদোন্নতি, প্রেম-বিয়ে এ মিষ্টির বদৌলতে হয়েছে অনেক। অথচ এ ঐতিহ্য এখন হারানোর উপক্রম হয়েছে। আগের মতো এখন বিভিন্ন জাতের মিষ্টি তৈরি হয় না। ক্রেতারা দোকানে গিয়ে পাচ্ছেন না তাদের পছন্দের মিষ্টি। অতিরিক্ত দামের জন্য মিষ্টির গুণগত মানও নষ্ট হয়েছে। উপজেলায় ভালোমানের মিষ্টি তৈরি করতেন শ্রী বিনয় বসন দে, তার ছেলে অরুণ চন্দ দে, বর্তমানে বিপ্লব দে কেটু। দে মিষ্টান্ন ভান্ডারের প্রধান কারিগর চিত্তদেব জানান অতিরিক্ত মূল্য, খাঁটি দুধের দুষ্প্রাপ্যতাসহ বিভিন্ন কারণে আগের মতো কাজ হয় না এখন। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত পেশা ছেড়ে অনেকে চলে গেছেন অন্য পেশায়। যারা আছেন তারাও খুব একটা ভালো অবস্থানে নেই। বড়-ছোট মিলিয়ে নালিতাবাড়ীতে এখন অর্ধশত মিষ্টির দোকান আছে। দে মিষ্টান্ন ভান্ডারের বিপ্লব দে দৈনিক সংগ্রামকে জানান শ্রমিকের অভাব, কারিগর খরচ, দোকান পরিচালনা, ভ্যাট ট্যাক্সের খরচ মিটিয়ে মিষ্টিতে এখন লাভ কম। দুধ ও চিনির দাম বেশি তাই অনেক জাতের মিষ্টি তৈরি হয় না। তবে অর্ডারের মিষ্টি তৈরি হয়। গত ছয় মাস আগে ছানামূখী প্রতি কেজির মূল্য ছিলো ২৬০ এখন হয়েছে ৩৮০ টাকা, রসমলাই ছিলো ১৫০ টাকা এখন ২৮০ টাকা। অন্যান্য মিষ্টি কেজি প্রতি ৪০ Ñ ৫০ টাকা বেড়েছে। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন এ শিল্পে জড়িতরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ