ঢাকা, রোববার 29 July 2018, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সেচকার্যে বিদ্যুৎ মিটার নষ্ট

শেরপুরের শেষ সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী উপজেলায় মিটার নষ্ট থাকার অযুহাতে সেচ কাজে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী দশ গ্রাহককে গড় বিল দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এত তাঁদের স্বাভাবিকের চেয়ে তিন চারগুণ বিল গুণতে হচ্ছে। সেচ দিয়ে তারা যেখানে লাভ করতে চেয়েছিলেন, সেখানে এখন ঘরের টাকা দিয়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হবে। ভূক্তভোগী দশ গভীর নলকূপের মালিক ৫ই জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারফদার সোহেল রহমান ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আবাসিক বিদ্যুৎ প্রকৌশলী ইয়াহিয়া খানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এছাড়া তাঁরা গত মাসের ২০ মে থেকে ৫ জুনের মধ্যে ময়মনসিংহ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলীর কাছেও আবেদন করেছেন। মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে ইয়াহিয়া খান বলেন, বিদ্যুৎ কার্যালয় থেকে যেটা গড় বিল করা হয়েছে সেটাই নলকূপের মালিকদের পরিশোধ করতে হবে। এটা কমানোর কোন সুযোগ নেই। ভূক্তভোগী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে রাজনগর ও কলসপাড় ইউনিয়নের বিএডিসি ও বিআরডিবি অনুমোদিত গভীর নলকূপের দশজন মালিক রয়েছেন। তারা হলেন রাজনগর ইউনিয়নের চাঁদগাঁও গ্রামের মোঃ সিরাজুল ইসলাম, ফকির মাহমুদ, মোঃ হাবিবুর রহমান, হারুন-অর-রশিদ, আব্দুল মোতালেব। সাগরদি কৃষ্ণপট্টি গ্রামের- মোঃ আবুল কাশেম, মোঃ আক্তারুজ্জমান এবং কলসপাড় ইউনিয়নের ফঁটিয়াকান্দি গ্রামের সুফিয়া বেগম, সূর্যনগর গ্রামের আবুল হাশেম ও আশরাফ আলী। তারা গভীর নলকূপের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বোরো মওসুমে সেচকাজ পরিচালনা করছেন। চার মাস সেচ দিয়ে প্রতি একর জমি থেকে পান পাঁচ হাজার টাকা। প্রতি বছর জানুয়ারি মাস থেকে এই সেচ কার্য শুরু হয়। কিন্তু এ বছর শুরুতেই এই দশ গ্রাহকের মিটার নষ্ট হয়ে যায়। ফলে গত ১৫ জানুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মিটারগুলো বাতিল করে নতুন মিটার দিতে আবাসিক প্রকৌশলী কার্যালয় থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়। গ্রাহকেরা নতুন মিটার পেতে বিদ্যুৎ কার্যালয়ে আবেদনও করেন। কিন্তু কার্যালয়ে মিটার না থাকায় আজ পর্যন্ত নতুন মিটার সরবরাহ করা হয় নি। এ অবস্থায় জানুয়ারি হতে এপ্রিল মাসে বিদ্যুৎ অফিস থেকে গড়বিল করে পাঠানো হয়। গ্রাহক আশরাফ আলী বলেন, গত বছর এই চার মাসে সেচ কার্য চালিয়ে তাঁর বিল এসেছিলো ৩০ হাজার টাকা। সেখানে এবার বিল করা হয়েছে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। তিনি সেচ দিয়ে কৃষকের কাছ থেকে মাত্র ৭৫ হাজার টাকা পেয়েছেন। এর একটা অংশ নলকূপের চালকের বেতন ও ড্রেন তৈরিতে খরচ হয়ে গেছে। এখন এতো টাকা কোথায় পাবেন তা ভেবেই তিনি দিশেহারা। একই অবস্থা অন্য নয়জন গ্রাহকেরও। সবাইকে গত বছরের তুলনায় তিন চারগুণ বেশি বিল গুণতে হবে। যে টাকা বিল করা হয়েছে তার সমপরিমাণ টাকা সেচ দিয়ে উপার্জন করতে পারেনি কোন কৃষক। ইউএনও তরফদার সোহেল রহমান বলেন, গভীর নলকূপ মালিকদের নিকট থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ