ঢাকা, রোববার 29 July 2018, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দুর্ভোগের আরেক নাম এগারোসিন্দুর এক্সপ্রেস : টিকিট কালোবাজারে

বাজিতপুর থেকে সংবাদদাতা: কিশোরগঞ্জের সঙ্গে ঢাকার রেলযোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এগারোসিন্দুর এক্সপ্রেস এখন যাত্রীদুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। এগারোসিন্দুর প্রভাতী ও এগারোসিন্দুর গোধূলী নামে দু’টি ট্রেন ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রুটে চলাচল করে। কিন্তু ট্রেনটির যাত্রীসেবা নিয়ে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ।
স্টেশনে স্টেশনে স্টপেজ আর অনিয়ন্ত্রিত যাত্রীর কারণে ট্রেনটি এখন লোকাল ট্রেনের কাতারে। বিকল্প না থাকায় ট্রেনটিতে স্ট্যা-িং টিকিট কেটে বিপুল সংখ্যক যাত্রী যাতায়াত করেন। যাত্রীরা দীর্ঘদিন ধরে টিকিট বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসলেও তা হালে পানি পাচ্ছে না।
এছাড়া রেলের একশ্রেণির কর্মচারীদের যোগসাজশে নির্ধারিত টিকেটের দুই-তৃতীয়াংশই চলে যায় কালোবাজারে। ফলে লাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে টিকিটবঞ্চিত যাত্রীরা কালোবাজারীদের নিকট থেকে উচ্চমূল্যে অতিরিক্ত টাকা গুণে টিকিট সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে যাত্রীদুর্ভোগ আর নরকযন্ত্রণার অন্য নাম হয়ে ওঠেছে এগারোসিন্দুর এক্সপ্রেস। ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রেলপথে এগারোসিন্দুর এক্সপ্রেসে ভ্রমণের এই বিরূপ অভিজ্ঞতায় যাত্রীরা প্রতিনিয়ত হাহাকার করছেন।
মোঘল সেনাপতির সাথে মসনদে আলা বীর ঈশা খাঁর ঐতিহাসিক যুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এগারোসিন্দুর থেকে ট্রেনটির নাম গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু ট্রেনটিতে ঐতিহ্য বা আভিজাত্যের বিন্দুমাত্র নেই। নেই কোন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বগি। হাতেগোণা ফার্স্ট ক্লাশের মলিন কামরা আর গণ-কম্পার্টমেন্টের হতশ্রী অবস্থা দেখে আন্তঃনগর এক্সপ্রেস নয়, মনে হয় লোকাল কিংবা মালগাড়ি।
রেলওয়ে স্টেশনে নিয়ে টিকিট কাউন্টারের সামনে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন থাকলেও লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট খুব কমই মিলছে। অনেকেই টিকিট না পেয়েই ফিরে যান। আবার অনেকেই একটু আড়ালে গিয়ে কালোবাজারীদের নিকট থেকে সংগ্রহ করেন কাক্ষিত টিকিট। যাত্রীদের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও বছরের পর বছর ধরে এভাবেই চলছে টিকিট বাণিজ্য।
এছাড়া ট্রেনের কম্পার্টমেন্টের দায়িত্বে থাকা এটেনডেন্সদের টাকা দিয়ে পথে পথে ওঠানামা করে উটকো লোকজন। স্ট্যান্ডিং টিকিটের নামে শত শত মানুষ গিজগিজ করে পুরো ট্রেনে। ছাদ ও পাদানির জায়গাগুলোও দখল করে নেয়া হয়। পরিবার পরিজন নিয়ে দমবন্ধ এমন ট্রেনে নিত্য আসা-যাওয়া করেন কিশোরগঞ্জের লোকজন।
ট্রেনের গতি ও স্টপেজের কোন বালাই নেই। ১৩৫ কিলোমিটার দূরত্ব পাড়ি দিয়ে কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকা আসা-যাওয়ার জন্য সময় লাগানো হয় চার থেকে পাঁচ ঘন্টা। পথে পথে পয়সা দিয়ে গাড়ি থামিয়ে ওঠানো-নামানো হয় যাত্রী ও মালামাল। এমনি বিরূপ পরিস্থিতিতে মুখ বুজে ভ্রমণ করতে বাধ্য হন জিম্মি নাগরিকগণ।
ট্রেনের সেবা ও সার্ভিসের মান আরো খারাপ। বাথরুমে থাকে না পানি। মলমূত্র, ময়লা পরিস্কার করা হয় না। বাথরুমের পাশের যাত্রীদের উৎকট দুর্গন্ধের হাত থেকে বাঁচতে সারা পথ মুখে রুমাল গুঁজে রাখতে হয়। অধিকাংশ কম্পার্টমেন্টেই নেই আলোর ব্যবস্থা। বাতিগুলো ফিউজ। বিদ্যুতের সংযোগ ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের একটি সূত্র জানায়, ট্রেনের টিকিট কালোবাজারে যাওয়ার সঙ্গে রেলের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত। কম্পিউটার বিভাগের দায়িত্বে থাকা লোকজন টিকিট কালোবাজারির মিডিয়া হিসেবে কাজ করে। এতে করে মোট টিকিটের দুই-তৃতীয়াংশ টিকিটই কালোবাজারে চলে যায়। মূলত এ সি-িকেটের কারণেই টিকিট নিয়ে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ