ঢাকা, রোববার 29 July 2018, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পানির নিচে

উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা: গত তিন দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্তের তুমব্রু  শূণ্যে রেখার রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প। গত বুধবার সকালে হঠাৎ করে তুমব্রু খালের পানি বৃদ্ধি পেয়ে ক্যাম্পের বাড়ীঘর কোমর পানিতে তলিয়ে গেলে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ভীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এসময় রোহিঙ্গারা ছেলে মেয়ে নিয়ে নিকটস্থ পাহাড়ে বা উচু এলাকায় আশ্রয় নিলেও তাদের মালামাল,খাবার জাতীয় নিত্যপন্য পানিতে ভেসে গেছে। আশ্রয়হীন এসব অভুক্ত রোহিঙ্গাদের মানবেতর দিন যাপন করতে হচ্ছে বলে স্থানীয় চেয়ারম্যান একে এম জাহাঙ্গীর আজিজ স্বীকার করে বলেন, তাদের হাতে যা খাবার আছে তা শেষ হয়ে গেলে প্রায় ৬শ পরিবারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনহারে ঝড় বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দিন যাপন করতে হবে। 
বুধবার সকালে সরেজমিন কোনার পাড়া শূণ্যরেখার অবস্থা পর্যবেক্ষন করতে তুমব্রু গিয়ে দেখা যায়, তুমব্রু খাল ও শূন্যে রেখার আশ্রয় শিবির পানিতে একাকার হয়ে পড়েছে। মাচাংঘরে বেশ কিছু রোহিঙ্গা আশ্রয় নিলেও বেশির ভাগ রোহিঙ্গা ছেলে মেয়ে নিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানালেন, অথৈ পানি পেরিয়ে এপার থেকে রোহিঙ্গাদের খাবার সরবরাহ করা কোন ভাবে সম্ভব নই। গ্রামবাসীরা জানান, ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে মাচাংঘরে যে সব রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে তাদের অবস্থা আরো অবনতি হবে। মুঠোফোনে শূণ্য রেখা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নেতা দিল মোহাম্মদ জানান, গত তিন দিন ধরে বৃষ্টি হলেও পানি উঠেনি। গত বুধবার সকালে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানিতে গোটা আশ্রয় শিবির কোমর পানিতে তলিয়ে যায়। এমন অবস্থার জন্য অপ্রস্তুত রোহিঙ্গারা দিকবেদিক ছুটাছুটি করে উচু এলাকায় আশ্রয় নিলেও তাদের খাবার বলতে কিছুই নেই।  সে আরো  জানান, তাদেরকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে না নেওয়া পযন্ত গোটা বর্ষায় পানির সাথে পাল্লা দিয়ে ঝুঁকিতে দিন যাপন করতে হবে। 
এপার ওপার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির পক্ষ থেকে তাদেরকে সহযোগিতা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মীরা  জানিয়েছেন।
রোহিঙ্গা মাঝি শাহ আলম জানান, আশ্রয়হীন রোহিঙ্গাদের খাবার রান্না করার জন্য রোহিঙ্গা কর্মীরা আয়োজন শুরু করলেও কখন তারা দুমুঠো খেতে পারে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। তাছাড়া তুমব্রুর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় রোহিঙ্গাদের অসহায় অবস্থায় সময় কাটাতে হচ্ছে কখন পানি কমে যায়। তবে স্থানীয়রা জানালেন, ভয়ের কিছু নাই, বৃষ্টি কমলেই পানি দ্রুত নেমে যাবে। এতে পরিস্থিতি আবারো স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।
৩৪ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর  ইকবাল আহম্মদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সকাল থেকে ভারী বৃষ্টি হওয়ায় পানি বৃদ্ধি হয়ে রোহিঙ্গাদের বাড়ীঘর  প্লাবিত হয়। এখন পানি একটু একটু করে নামতে শুরু করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ