ঢাকা, রোববার 29 July 2018, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তাড়াশে গোপনে কোটেশনের মাধ্যমে ৩টি বিদ্যালয়ের টেন্ডার

শাহজাহান, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ): শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অধীনে তাড়াশের ৩টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেরামতের কাজ কোটেশনের মাধ্যমে গোপনে মোটা অংকের টাকা বিনিময়ে রায়গঞ্জ উপজেলার পৌর প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল পাঠানকে ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। কোটেশনের মাধ্যমে কোন ট্রেন্ডার করতে হলে সিডিউল বিক্রির জন্য ব্যাপক প্রচার করার নিয়ম থাকলেও এ ক্ষেত্রে তা করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। কোটেশান কমিটির ৩সদস্যের মধ্যে ২জনই জানেন না কবে মিটিং ও টেন্ডার হয়েছে এবং কে কাজ পেয়েছে। শুধু তাদের নিকট থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাগেছে, ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তাড়াশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ৩টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামত (রিপিয়ারিং) করার জন্য চিঠি আসে। এর জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৬লাখ ৬০ হাজার টাকা। পংরৌহালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ২লক্ষ টাকা, হামকুড়িয়া পশ্চিমপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ২লাখ ৬০হাজার টাকা এবং পতিরামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে ২লাখ টাকা। প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কোটেশান ট্রেন্ডারের মাধ্যমে সিডিউল বিক্রি এবং ট্রেন্ডার আহবান করার জন্য তাড়াশ এলজিইডি অফিসে প্রেরণ করেন। গত মে /১৮ ওই ৩টি বিদ্যালয়ের কোটেশান দরপত্র আহবান করা হয়। নিয়ম অনুসারে ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে সিডিউল বিক্রি করার নিয়ম থাকলেও তা করা হয়নি। কোটেশান বিজ্ঞপ্তিটি ব্যাপক প্রচারের জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নোটিশ বোর্ডে সাটানো কথা। কিন্ত তাড়াশ এলজিইডি অফিস তা না করে কাগজে কলমে সবই ঠিক রাখা হয়েছে। তাড়াশে কোন নোটিশ বোর্ডে কোটেশানের বিজ্ঞপ্তি সাটানো হয়নি বলে তাড়াশের অধিকাংশ ঠিকাদার জানান। তারা অভিযোগ করেন উপজেলা প্রকৌশলী গোপনে রায়গঞ্জ থেকে ৩টি সিডিউল সংগ্রহ করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রায়গঞ্জ পৌর সভার মেয়র আব্দুল্লাহ আল পাঠানকে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। ৩সদস্য বিশিষ্ট কমিটির মধ্যে রয়েছে উপজেলা প্রকৌশলী আহম্মেদ আলী, সদস্য সচিব, উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুভাষ দত্ত সদস্য এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান সদস্য। এদের মধ্যে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমার নিকট থেকে এলজিইডি অফিসের একজন এসে স্বাক্ষর নিয়ে গেছেন। তবে কোন মিটিং বা আলোচনা হয়নি এবং কোন ঠিকাদার কাজ পেয়েছেন তা আমি এখন পর্যন্ত জানিনা। অপর সদস্য তাড়াশ এলজিইডি অফিসের উপ-সহকারী সূভাষ দত্ত জানান, আমার নিকট থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে তবে কবে টেন্ডার হয়েছে জানিনা এবং কোন ঠিকাদার কাজ পেয়েছে তা বলতে পারবনা। কোন মিটিং বা আলোচনা হয়নি। সদস্য সচিব উপজেলা প্রকৌশলী আহম্মেদ আলী পবিত্র হজ্ব পালন করতে যাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ওই অফিসের হিসাবরক্ষক রেজাউল করিম জানান, কোটেশান এর কাজ কোন ঠিকাদার নিতে চায় না। অনুরোধ করে রায়গঞ্জের পৌর প্রশাসককে দেওয়া হয়েছে। তিনি আর বলেন আমাদের অফিসের নোটিশ বোর্ডে বিজ্ঞপ্তি সাঁটানো হয়েছিল। তাড়াশের কোন ঠিকাদার জানেন না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন তারা হয়ত কাজ করবেন না বলে দেখেন নাই। তাড়াশে অধিকাংশ ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অতি গোপনে কোটেশান ট্রেন্ডার বিজ্ঞপ্তি করা হয়েছে। তাড়াশ এলজিইডির নোটিশ বোর্ডে এ ধরনের কোন নোটিশ সাটানো আমাদের চোখে পরে নাই।
তাড়াশের বিশিষ্ট ঠিকাদার মেসার্স কর্মকার ট্রেডাস এর স্বত্বাধিকারী সঞ্জিত কর্মকার জানান, কোটেশান বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে আমি কিছুই জানিনা। কবে কখন টেন্ডার করেছে তা বলতে পারবনা। এ বিষয়গুলো আপনাদের দেখার জন্য অনুরোধ করছি। খোজ নিয়ে জানাগেছে তাড়াশের ৩০-৩৫জন ঠিকাদারের মধ্যে কোন ঠিকাদারই জানেন না যে তাড়াশে কোটেশান ট্রেন্ডার কবে হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে তাড়াশ এলজিইডি অফিসে কখন কোন কাজের টেন্ডার হয় তা কেউ জানতে পারে না। কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার সহযোগিতায় অনেক কাজই নি¤œমানের হলেও তা দেখার কেউ নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ