ঢাকা, সোমবার 30 July 2018, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৬ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দুই বছর পর টাইগারদের ওয়ানডে সিরিজ জয়

স্পোর্টস রিপোর্টার : ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজি জিতেছে বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে স্বাগতিকদের ১৮ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে টাইগাররা। এর ফলে দুই বছর পর ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল বাংলদেশ। আর বিদেশের মাটিতে এটা ৯ বছর পর সিরিজ জয় । ২০০৯ সালে সর্বশেষ বিদেশে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। নয় বছর আগে বাংলাদেশ বিদেশে সর্বশেষ সিরিজটি জিতেছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে। তার ঠিক আগের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে করেছিল হোয়াইটওয়াশ ৩-০ ব্যবধানে। সেবার টেস্ট ও ওয়ানডে দুই সিরিজেই ক্যারিবিয়দের তাদের মাটিতেই হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। তবে সেটি বলতে গেলে দ্বিতীয় সারির দলের বিপক্ষে। এবার অবশ্য প্রথম সারির উইন্ডিজকে হারিয়েই ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ নিল বাংলাদেশ। গতকাল তামিমের ১০৩ রানের সেঞ্চুরিসহ দারুণ এক ইনিংসে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে করে ৩০১ রান। জবাবে তিন হাফসেঞ্চুরি করেও ক্যারিবিয়ানরা সিরিজ বাঁচাতে পারেনি। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশের বোলাররা তাদের আটকে দিলো ৬ উইকেটে ২৮৩ রানে। ফলে বাংলাদেশ জয় পায় ১৮ রানে। ম্যাচসেরা ও সিরিজের সেরা হয়েছেন তামিম ইকবাল। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট সিরিজ হারের পর মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছিল বাংলাদেশ দল। তবে এই সিরিজ জয় দলকে আবার চাঙ্গা করবে এগিয়ে যেতে। প্রথম ওয়ানডেতে ৪৮ রানে জিতেছিল টাইগাররা। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে মাত্র ৩ রানে হেরে যাওয়ায় সেদিন সিরিজ জয় নিশ্চিত হয়নি। তবে অঘোষিত ফাইনালে শেষ পর্যন্ত দারুণ এক জয়ে সিরিজ জিতল টাইগাররা।

সেন্ট কিটসের টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩০১ রান করে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে যা টাইগারদের সর্বোচ্চ ইনিংস। তামিম ইকবাল এদিনও করলেন সেঞ্চুরি। তামিম ইকবাল টানা তিন ম্যাচে ছিলেন দুর্দান্ত। প্রথম ম্যাচে অপরাজিত ১৩০। দ্বিতীয় ম্যাচে ৫৪ রান। এ ম্যাচেও করলেন সেঞ্চুরিসহ ১০৩ রান। ১২৪ বলে ১০৩ রানের ইনিংস খেলেন এই ড্যাশিং ওপেনার। যা তার ক্যারিয়ারের একাদশ  সেঞ্চুরি। আর সিরিজে ২৮৭ রান করে করলেন রেকর্ড। তিন ম্যাচের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজে বিদেশি কোনো দলের হয়ে যা সর্বোচ্চ। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ পাঁচ নম্বরে নেমে যিনি ৪৯ বলে ৬৭ রানের অপরাজিত এক ইনিংস খেলেছেন। ৫ চার ও ৩ ছক্কায় সাজিয়েছেন তার ইনিংস। কৃতিত্ব সাকিব আল হাসান ও মাশরাফীরও। সাকিব এদিন পারেননি টানা তৃতীয় ফিফটি তুলে নিতে। তবে ৩৭ রান করার পথে তামিম ইকবালের সাথে আবারো তৃতীয় উইকেটে উপহার দিয়েছেন দারুণ জুটি। এদিন ৮১ রান উপহার দেন এই দুজন। আর সাব্বির ও মোসাদ্দেককে নিচে নামিয়ে মাশরাফী খেলতে নেমেছিলেন ছয় নম্বরে। ২৫ বলে ১ ছক্কা ও ৪ চারে ৩৬ রান করেছেন তিনি। তাতে ৩০০ পেরোনো সংগ্রহ পায় বাংলাদেশের। পেনিংয়ে নেমে তামিমের সঙ্গে ৩৫ রানের জুটিতে মাত্র ১০ রান করে এনামুল হক আউট হন। তবে দ্বিতীয় জুটিতে ৮১ রান করে দারুণ অবদান রাখেন তামিম ও সাকিব। ৩৭ রান করে সাকিব আউট হলে তামিমের ১০৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন।  তাছাড়া মাহমুদউল্লাহ ৪৯ বলে ৫ চার ও ৩ ছয়ে ৬৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। মাশরাফি মুর্তজা করেন ২৫ বলে ৩৬ রান। ৪টি চার ও ১টি ছয় রয়েছে তার ইনিংসে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে দুটি করে উইকেট নেন জেসন  হোল্ডার ও অ্যাশলে নার্স। আর জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ পায় ৩০২ রানের টার্গেট।

জয়ের জন্য ৩০২ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে শুরু থেকে সতর্ক ছিল ওয়েস্ট  ইন্ডিজ। কিন্তু মাশরাফি মুর্তজার বলে টানা তৃতীয় ম্যাচে উইকেট হারান এভিন লুইস। ১০.১ ওভারে ৫৩ রানের জুটি গড়ে গেইলকে রেখে মাঠ ছেড়ে যান তিনি। তবে গেইল বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান বাংলাদেশের জন্য। লুইসের সঙ্গে পঞ্চাশ ছাড়ানো জুটির পর শাই  হোপকে নিয়ে ৫২ রানের জুটি গড়েন তিনি। ২২তম ওভারের পঞ্চম বলে গেইলকে মেহেদী হাসান মিরাজের ক্যাচ বানান রুবেল হোসেন। তার আগে তৃতীয় ওভারে ১ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন লুইস। মাশরাফির পঞ্চম বলে একটি রান নিয়ে ৩৫তম ম্যাচে এই কীর্তি গড়েন তিনি। তবে ১১তম ওভারের প্রথম বলে ১৩ রানে মুশফিকুর রহিমের ক্যাচ হন এই ওপেনার। তিনি ফেরেন ৩৩ বল খেলে। তবে গেইলের ঝড়ো হাফসেঞ্চুরিতে প্রতিরোধ গড়ে ক্যারিবিয়ানরা। ৪০ বলে ৫ চার ও ৩ ছয়ে ৪৯তম হাফসেঞ্চুরি করেন তিনি। আগের দুই ম্যাচে স্বরূপে দেখা যায়নি তাকে। সিরিজের শেষ ম্যাচে  চেনা রূপে ফিরলেও রুবেল নিজের দ্বিতীয় ওভারে থামান গেইল ঝড়। ৬৬ বলে ৬ চার ও ৫ ছয়ে ৭৩ রান করেন উইন্ডিজ ওপেনার। রানে ক্যারিবিয়ানরা দ্বিতীয় উইকেট হারালে শিমরন হেটমায়ারকে নিয়ে দাঁড়িয়ে যান হোপ। তাদের জুটিতে অস্বস্তি বাড়ছিল বাংলাদেশের। হেটমায়ারকে ৩০ রানে  বোল্ড করে ৬৭ রানের এই শক্ত জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এই স্পিনার তার পরের ওভারে কিয়েরন পাওয়েলের উইকেট পেতে পারতেন। কিন্তু সাব্বির রহমান ক্যাচ ফেলে জীবন দেন ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানকে। পরের বলে ফিফটি পূর্ণ করেন হোপ। যদিও ওই ওভারের পঞ্চম বলে মাশরাফির থ্রো থেকে মিরাজ রান আউট করেন পাওয়েলকে ৪ রানে। তবে যতক্ষণ হোপ ছিলেন, বাংলাদেশের জন্য অস্বস্তির সময় কেটেছে। মাশরাফি তার নবম ওভারের প্রথম বলে তাকে ডিপ মিড উইকেটে সাকিব আল হাসানের ক্যাচ বানান। ৯৪ বলে ৫ চারে ৬৪ রান করেন হোপ। বাংলাদেশের সুযোগ আরও বেড়ে যায় ৪৮তম ওভারের প্রথম বলে হোল্ডারকে (৯) রুবেলের ক্যাচ বানিয়ে। মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে অধিনায়ক বিদায় নিলেও রভম্যান পাওয়েলের ঝড় পথে ফিরিয়েছিল স্বাগতিকদের। কিন্তু ৪৯তম ওভারে রুবেলের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ম্যাচ আবার ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশের পক্ষে। ওই ওভারে মাত্র ৬ রান দেন তিনি। তাতে শেষ ওভারে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৮ রানের। মোস্তাফিজের প্রথম বলে ছয়  মেরে ম্যাচে উত্তেজনা ধরে রাখেন রভম্যান। অ্যাশলে নার্সকে সঙ্গে করে শেষ ৫বলে মাত্র ৩ রান তোলেন তিনি। তাতে বাংলাদেশ জিতে যায় সিরিজও। ৪১ বলে ৫ চার ও ৪ ছয়ে ৭৪ রানে অপরাজিত ছিলেন রভম্যান। বাংলাদেশের পক্ষে দুটি উইকেট নেন মাশরাফি। একটি করে পেয়েছেন মিরাজ, মোস্তাফিজ ও রুবেল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ৩০১/৬ (তামিম ১০৩, এনামুল ১০, সাকিব ৩৭, মুশফিক ১২, মাহমুদউল্লাহ ৬৭*, মাশরাফি ৩৬, সাব্বির ১২, মোসাদ্দেক ১১*; কটরেল ১/৫৯, হোল্ডার ২/৫৫, বিশু ১/৪২, পল ০/৭৭, নার্স ২/৫৩, গেইল ০/১৪)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৫০ ওভারে ২৮৩/৬ (গেইল ৭৩, লুইস ১৩, হোপ ৬৪, হেটমায়ার ৩০, কাইরান পাওয়েল ৪, রোভম্যান পাওয়েল ৭৪*, হোল্ডার ৯, নার্স ৫*; মাশরাফি ২/৬৩, মিরাজ ১/৪৫,  মোস্তাফিজ ১/৬৩, মোসাদ্দেক ০/১০, মাহমুদউল্লাহ ০/২০, রুবেল ১/৩৪, সাকিব ০/৪৫)।

ফল: বাংলাদেশ ১৮ রানে জয়ী।

সিরিজ: ৩ ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: তামিম ইকবাল

ম্যান অব দা সিরিজ: তামিম ইকবাল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ