ঢাকা, সোমবার 30 July 2018, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৬ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গাজায় রাতভর ইসরাইলী বিমান হামলা ॥ ২ ফিলিস্তিনী নিহত

২৯ জুলাই, ওয়াইনেট নিউজ : গাজা উপত্যকায় শনিবার রাতভর ইসরাইলী বিমানের চালানো হামলায় দুই ফিলিস্তিনী নিহত হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তর গাজা এলাকার পূর্ব জাবালিয়ায় একটি কবরস্থানের কাছে জড়ো হওয়া মানুষদের ওপর এই বিমান হামলা চালানো হয়। তবে ফিলিস্তিনী কর্তৃপক্ষের এই দাবি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করেনি ইসরাইলী প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। ইসরাইলী বার্তা সংস্থা ওয়াইনেট নিউজ জানিয়েছে, হামলাস্থলে ২৪ বছরের দুই ফিলিস্তিনী যুবকের লাশ পাওয়া গেছে।

এক বিবৃতিতে ইসরাইলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বিদেশি সংবাদমাধ্যমের খবরের বিষয়ে আইডিএফ প্রতিক্রিয়া জানায় না।

২০১৪ সালের পর বিগত কয়েক সপ্তাহে ইসরাইল ও গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রক দল হামাসের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। শনিবার ফিলিস্তিনী সংবাদমাধ্যমে গাজার দক্ষিণাঞ্চলে একদল ফিলিস্তিনির ওপর ইসরাইলী বিমানের হামলার খবর প্রকাশিত হয়। তবে ইসরাইলী সেনাবাহিনী ওই হামলার বিষয়ে কিছু জানে না বলে দাবি করে। এর আগে বৃহস্পতিবার তিন ইসরাইলীকে ছুরিকাঘাতের পর এক ফিলিস্তিনি তরুণকে গুলী করে হত্যা করে ইসরাইলী সেনারা। পরদিন শুক্রবার ফিলিস্তিনী বিক্ষোভে গুলি চালিয়ে আরও দুই ফিলিস্তিনীকে হত্যা করা হয়।

ইসরাইলী কর্তৃপক্ষ বলছে, ফিলিস্তিনী ভূমি থেকে ওড়ানো জ্বলন্ত বেলুন ও ঘুড়িতে পাঠানো আগুনে পুড়ে গেছে প্রায় সাত হাজার একর জমির ফসল। ফলে এই বেলুন ও ঘুড়ি ওড়ানোদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরালো করেছে তারা। তবে শনিবার ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ইসরাইলি নাগরিকেরাও তাদের কৃষি জমিতে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে।

ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করে ১৯৪৮ সালের ১৫ মে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসরাইল নামের রাষ্ট্র। ১৯৭৬ সালের ৩০ মার্চ ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে ইহুদি বসতি নির্মাণের প্রতিবাদ করায় ছয় ফিলিস্তিনীকে হত্যা করা হয়। পরের বছর থেকেই ৩০ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত পরবর্তী ছয় সপ্তাহকে ভূমি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে ফিলিস্তিনীরা। কিন্তু এবারে দেড় শতাধিক মানুষ হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে ফিলিস্তিনীরা।

ফিলিস্তিনীদের ফসলে দখলদার ইসরাইলীদের আগুন

দখলকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুস শহরের কাছের জাবলুম গ্রামে ফিলিস্তিনীদের সম্পত্তিতে আগুন দিয়েছে দখলদার ইসরাইলি নাগরিকেরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে কুদস প্রেসের খবরে বলা হয়েছে, ইসরাইলি দখলদারেরা ফিলিস্তিনিদের কৃষিজমি আর বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে কমপক্ষে আড়াই একর জমিতে বোনা গম পুড়ে গেছে। কেটে ফেলা হয়েছে ওই এলাকায় ফিলিস্তিনিদের মালিকানাধীন  কয়েকশো গাছ। তবে এতে কোনও মানুষ হতাহত হয়নি। ইসরাইলিদের দেওয়া আগুন নেভানোর চেষ্টায় এক ফিলিস্তিনি পুলিশ

গত বৃহস্পতিবার এক ফিলিস্তিনী তরুণ তিন ফিলিস্তিনীকে ছুরিকাঘাত করার পর তাকে গুলী করে হত্যা করে ইসরাইলী সেনারা। পরদিন শুক্রবারও বিক্ষোভে গুলী চালিয়ে এক কিশোরসহ দুইজনকে হত্যা করে ইসরাইল।

ওই ঘটনার পরই ফিলিস্তিনীদের সম্পত্তিতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটলো। সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি করার এই ধারাবাহিক হামলা ফিলিস্তিনীদের ওপর সর্বশেষ আগ্রাসন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ফিলিস্তিনীদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করে ১৯৪৮ সালের ১৫ মে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসরাইল নামের রাষ্ট্র। ১৯৭৬ সালের ৩০ মার্চ ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে ইহুদি বসতি নির্মাণের প্রতিবাদ করায় ছয় ফিলিস্তিনীকে হত্যা করা হয়। পরের বছর থেকেই ৩০ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত পরবর্তী ছয় সপ্তাহকে ভূমি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে ফিলিস্তিনীরা।কিন্তু এবারে দেড় শতাধিক মানুষ হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে ফিলিস্তিনীরা।

গাজার সংঘর্ষ থামাতে উদ্যোগ নিচ্ছে জাতিসংঘ ও মিসর

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় উত্তেজনা প্রশমনে জাতিসংঘ এবং মিসর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গাজা চুক্তির অগ্রগতির জন্য সব পক্ষের ওপর ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করছে বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে শনিবার জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সূত্র জানায়, চুক্তির বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে চলছে কিন্তু ইসরাইল এবং হামাসের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা না হলে কোনো ফলই আসবে না। এছাড়াও ফাতাহ এবং হামাসের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি রয়েছে।

সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এটি একটি অভূতপূর্ব উদ্যোগ কিন্তু তা সফল হয় কিনা সেটাই দেখার বিষয়। কেননা এটি একটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কাজ।’

গাজায় ইসরাইলী সেনারা হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার কথা রয়েছে।

সূত্র বলছে, গাজা চুক্তির তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতির জন্য এতে জাতিসংঘ, মিসর, ইসরাইল, ফিলিস্তিনী কর্তৃপক্ষ ও হামাসকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এই উদ্যোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর; গাজার অবকাঠামো পুনর্র্নিমাণ; ফাতাহ ও হামাসের পুনর্মিলন এবং হামাস শাসনের ১১ বছর পরে গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রত্যাবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়িত করা হবে।

সূত্র জানায়, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার মন্ত্রীদের সঙ্গে একটি গোপন বৈঠকে বলেছেন, গাজায় ইসরাইলী দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইসরাইল- হামাস সংঘর্ষ বন্ধ না হলে এবং গাজায় ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা না হলে এই ধরনের চুক্তিতে খুব বেশি ফল আসবে না। যেসব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গাজার পুনর্বাসনে আর্থিকভাবে সহায়তা করতে চায় তাদের জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষ সমন্বয়কারী নিকোলাই ম্লাদনাভ বৃহস্পতিবার রাতে এক টুইটে বলেন, ‘উত্তেজনা এড়াতে, সকল মানবিক সমস্যা সমাধান করতে এবং বিবদমান দলগুলোর পুনর্মিলনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কঠোর পরিশ্রম করছে।’

পিএলও নির্বাহী কমিটির মহাসচিব সায়েব ইরাকাত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, গাজা চুক্তির ব্যাপারে মিশর কঠোর পরিশ্রম করছে এবং তাদের প্রচেষ্টা খুবই আন্তরিক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ