ঢাকা, সোমবার 30 July 2018, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৬ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সমাজে দ্বীন বিজয়ের জন্য ছাত্রশিবিরের নেতা কর্মীদের কাজ করতে হবে -শিবির সভাপতি

গতকাল রোববার রাজধানীর এক মিলনায়তনে ছাত্রশিবির আয়োজিত শাখা দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত বলেন, সার্বিক অপশাসনের বঞ্চনা থেকে জাতি মুক্তি পেতে পারে শুধু সমাজে দ্বীন বিজয়ের মাধ্যমেই। তাই জাতিকে অপশাসন থেকে মুক্ত করে একটি কল্যাণময় জীবন ব্যবস্থা উপহার দিতে দ্বীন বিজয়ের জন্য নেতাকর্মীদের কর্ম তৎপরতা তীব্র করতে হবে।
গতকাল রোববার রাজধানীর এক মিলনায়তনে ছাত্রশিবির আয়োজিত শাখা দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইনের পরিচালনায় দায়িত্বশীল সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল জাব্বার। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় অফিস সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সাহিত্য সম্পাদক সালাউদ্দিন আইয়ুবী, আইন সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন, সমাজ সেবা সম্পাদক শাহীন হাসান প্রধানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
শিবির সভাপতি বলেন, যারা কল্যাণময় আদর্শকে ধারণ করতে পারেনি তারা সেই আদর্শকে মেনেও নিতে পারেনি। আবার আদর্শ দিয়ে আদর্শকে মোকাবেলা করার সাহসও তাদের নেই। বরং ইসলামী আদর্শকে মোকাবেলায় জুলুম নির্যাতন অবিচার হচ্ছে তাদের অস্ত্র। যুগে যুগে আল্লাহর সৈনিকরা সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে প্রাণপণ সংগ্রাম করেছেন। অন্যদিকে বাতিলরা সত্যের টুটি চেপে ধরতে চেয়েছে। বাংলার জমিনও তার থেকে মুক্ত নয়। ইসলামী আন্দোলনকে তারা প্রধান প্রতিপক্ষ করে নিয়েছে। একের পর এক জুলম নির্যাতন ও অবিচারের নিকৃষ্ট নজির স্থাপন করে চলেছে। যা এখনো অব্যাহত আছে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী বাতিলের সকল চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। আজকে বিশ্বেও প্রমাণ হয়েছে দ্বীনের বিজয় ছাড়া রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও গণতান্ত্রিক মুক্তি আসবে না। দেশে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠায় সমাজে দ্বীনের প্রসার ও কায়েমই একমাত্র পথ। আর এ পথে এগিয়ে চলতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। কল্যাণময় সমাজ ও দেশ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে ইতিহাসের বীর সেনানীরা সর্বোচ্চ ত্যাগ সাধনা ও সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। আমরা তাদেরই উত্তরসূরি।
তিনি আরো বলেন, ইসলামের বিজয় অর্জিত হয় সিমাহীন ত্যাগের মাধ্যমে। জেল জুলুম নির্যাতন ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জন্য কঠিন পরিক্ষা তাতে কোন সন্দেহ নেই। তবে জুলুম নির্যাতন আন্দোলনের অগ্রযাত্রার বার্তাও বহন করে। ইসলামী আন্দোলন নিয়ে বাতিলের অতি উৎসাহ ও বাড়াবাড়ি সেই অগ্রযাত্রারই প্রমাণ। সুতরাং এ কাফেলা সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের আদর্শের প্রতি অবিচল থাকতে হবে। বাতিলের সকল অপতৎপরতা আদর্শ দিয়ে মোকাবেলা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আজ হোক কাল হোক, সত্য আদর্শের কাছে বাতিল পরাজিত হবেই। ইতিহাস এই স্বাক্ষ্যই বহন করে চলেছে। দ্বীন বিজয়ের জন্য ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের সর্বোচ্চ যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। এ জন্য প্রতিটি মূহুর্তকে কাজে লাগাতে হবে। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও নৈতিকতার ভিত্তিতে উপযুক্ত জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি নেতাকর্মীকে প্রযুক্তিসহ সর্ব ক্ষেত্রে যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে হবে। সমসাময়িক বিষয় সহ প্রতিটি ক্ষেত্রে দক্ষতা বাড়াতে হবে। সকল পরিস্থিতিতে আল্লাহ তায়ালার উপর অবিচল আস্থা রাখতে হবে। লক্ষ্য স্থির থাকলে আমরা সফল হবোই ইনশাআল্লাহ। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ