ঢাকা, সোমবার 30 July 2018, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৬ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দীর্ঘদিন সংস্কার বন্ধ থাকায় বেহাল অবস্থা বায়তুল ইজ্জত জামে মসজিদের

স্টাফ রিপোর্টার: গত ৩ বছর ধরে উন্নয়ন কাজ না হওয়ায় একেবারে বেহাল অবস্থা রাজধানীর উত্তর যাত্রাবাড়ীর বিবিরবাগিচা ১ নং-গেইটস্থ বায়তুল ইজ্জত জামে মসজিদের। জানা গেছে, নিজস্ব জমি এবং উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ থাকা সত্ত্বেও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) অনুমতি না থাকায় মসজিদটির সংস্কার কাজ বন্ধ হয়ে আছে। ফলে স্থানীয় মুসল্লীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
মসজিদের মোত্তয়ালী আব্দুল লতিফ সর্দার জানিয়েছেন, ২০১৫ সালের ২০ ডিসেম্বর ঢাকা-ডেমরা মহাসড়কের কাজের উন্নয়নের স্বার্থে মসজিদটিকে অন্য স্থানে সরিয়ে নিতে পরিচালনা কমিটির কাছে চিঠি দেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। এর দুইদিনের মধ্যে মসজিদ কমিটি মসজিদের সমপরিমাণ জায়গা আশপাশের ফাঁকা জমি থেকে অধিগ্রহণ করে মসজিদ স্থানান্তরের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়ে পাল্টা চিঠি দেয় দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে। এর প্রেক্ষিতে জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে মসজিদ স্থানান্তরের বন্দোবস্ত হবে বলে সিটি কর্পোরেশন কতৃপক্ষ মৌখিকভাবে আস্বস্থ করে। পাশাপাশি নতুন জমি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান মসজিদের জমিতে নতুন করে কোনো কাজ না করার নির্দেশ দেয় ডিএসসিসি’র  কর্মকর্তারা।
কিন্তু গত তিন বছরে নতুন জমিও দিচ্ছেনা আর বর্তমান জমিতে কাজ করারও অনুমতি দিচ্ছেনা। ফলে গত তিন বছর ধরে মসজিদের কোনো কাজ করানো যাচ্ছেনা। এ ব্যাপারে ডিএসসিসি’র দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে এর সমাধানের জন্য গেলে পাত্তা দিচ্ছেনা। বিষয়টি তাদের হাতে নেই, ভুমি মন্ত্রণালয়ের হাতে আছে বলে সময় ক্ষেপণ করছেন।
তিনি আরো বলেন, মসজিদটি নিজস্ব জমিতে স্থাপিত এবং সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য ফান্ডে পর্যাপ্ত অর্থও আছে। উন্নয়ন কাজের জন্য সরকারি কোনো অনুদানের আপাতত প্রয়োজনও নেই। শুধু প্রয়োজন উন্নয়ন কাজ করার অনুমতির।
এ ব্যাপারে মসজিদ স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠানো সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী মোঃ বোরহান উদ্দিনের সঙ্গে কয়েকদফা যোগাযোগ চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এবিষয়ে জানতে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কালাম অনুর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে মসজিদে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কাজ না হওয়ায় একেবারে বেহাল অবস্থা মসজিদটির। কয়েক বছর সংস্কার বন্ধ থাকার এই সময়ে মধ্যে বাইরের সড়কের মেরামতের কাজ হওয়ায় রাস্তা থেকে মসজিদটি নিচে নেমে গেছে। ফলে একটু বৃিষ্ট হলে রাস্তা  থেকে মসজিদে পানি প্রবেশ করছে। এছাড়া টিনসেডের এই মসিজেদের টিনগুলো পুরনো হওয়ায় উপর দিয়েও পানি পড়ে। সবচেয়ে বেহাল অবস্থা অজুখানা ও বাথরুমের। দীর্ঘদিন ধরে অজুখানায় কাজ না হওয়ায় একবারে পিচ্ছিল ও স্যাতস্যাতে অবস্থা হয়ে গেছে। একারণে প্রবীণ অনেক মুসল্লী প্রতদিনিই পড়ে গিয়ে ব্যাথা পাচ্ছেন। আর বাধরুমে যাওয়ারই কোনো অবস্থা নেই। রাস্তা থেকে মসজিদটি নেমে যাওয়ায় বাথরুমের মল ওপরে ভাসছে। নোংরা এসব বাথরুমগুলো কোনো মুসল্লী ব্যবহার করতে পারছেনা। এছাড়া নোংরা বাথরুমগুলো থেকে মল-মুত্রের দুর্গন্ধ মসজিদের বাহির পর্যন্ত গিয়ে পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর করে তুলেছে। এ অবস্থায় স্থানীয় জনগণের দাবি, স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে সিটি কর্পোরেশন যাতে মসজিদের সংস্কার কাজের অনুমতি দেয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ