ঢাকা, সোমবার 30 July 2018, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৬ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কেসিসির রিকশার লাইসেন্সের টাকা আত্মসাতের দায়ে চাকরিচ্যুতদের দুইজন ফের বহাল

খুলনা অফিস : খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) রিক্সার লাইসেন্স নবায়নের টাকা আত্মসাতের দায়ে চাকরিচ্যুত চারজনের মধ্যে দুইজনের চাকরি ফেরত দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে বাকী দুইজনকে চাকরিতে পুর্নবহাল করার জন্য নতুন করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে ঘটনার মূল দায়িরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় এ নিয়ে সাধারণ কর্মচারীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
কেসিসির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, চাকরিচ্যুত দুইজন নির্দোষ ও তছরূপকৃত টাকা ফান্ডে জমা দিয়েছে মর্মে আবেদন করেছে। কর্তৃপক্ষ তাদের আবেদন আমলে নিয়ে তা পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সে মতে ইতোমধ্যে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। গত ৪ জুলাই’১৮ এ কমিটি গঠন করে তা তদন্তের নির্দেশনা প্রদান করেন কেসিসির নির্বাহী কর্মকর্তা পলাশ কান্তি বালা। তদন্ত রিপোর্ট দাখিলের জন্য কমিটিকে কোনো সময় বেঁধে দেয়া হয়নি। তবে তারা আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন টিম প্রধান কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. লিয়াকত আলী খান। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে তারা তদন্ত শুরু করেছেন।
এদিকে দু’জনের চাকরি ফেরত দেয়ার পর অন্য দুইজন চাকরি ফেরত পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এরা হচ্ছে ইউনুচ আলী ও রবিউল আলম। এদের মধ্যে ইউনুচ আলীকে শিক্ষা শাখায় ও রবিউল আলমকে পূর্বের শাখায় বহাল করা হয়েছে। এদের দুইজনকে গত ২৮ মে’১৭ চাকরিতে যোগদানের আদেশ দেয়া হয়। এখনও যে দুইজন চাকরি ফেরত পায়নি তারা হলেন রফিকুল ইসলাম ও আব্দুর রশিদ। এদের চারজনকে গত ১৯ অক্টোবর’১৬ চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম বলেন, তাকে যে যব অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সে সব রিক্সার নবায়নের টাকা তিনি গ্রহণ করেননি। বিষয়টি পুনরায় তদন্তপূর্বক উল্লিখিত টাকা সমন্বয় করে তিনিও অন্য দুইজনের মত চাকরি ফেরত পাওয়ার জোর দাবি জানান। বিগত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ অনিয়মের ও অর্থ আত্মসাতের দায় থেকে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা দায় এড়াতে পারে না। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাদের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। কর্তৃপক্ষ এক পক্ষকে শাস্তির আওতায় আনলেও দোষী আরেক পক্ষ গায়ে বাতাস লাগিয়ে ঘুরছে বলে ভুক্তভোগীদের দাবি।
সংশ্লিষ্ট অফিসের একজন কর্মকর্তা বলেন, বছরের পর বছর ধরে রিক্সার লাইসেন্স নবায়নের জন্য টাকা গ্যারেজ মালিকদের কাছ থেকে গ্রহণ করা হলেও তা জমা দেয়া হয়নি। এ জন্য চারজন লাইসেন্স যানবাহন শাখার পরিদর্শককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের মধ্যে দুইজনকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়েছে। তবে এ চক্রের মূল হোতাদের খুঁজে বের করা উচিত বলে ওই কর্মকর্তা জানান। বিগত দিনে ওই বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ