ঢাকা, সোমবার 30 July 2018, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৬ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শিক্ষকের শিক্ষকসুলভ আচরণ

গত ২৬ জুলাই দৈনিক ইত্তেফাকের রিপোর্টে প্রকাশ, শাহজাহানপুরের গুলবাগের বাসা থেকে মঙ্গলবার রাতে সুমাইয়া আখতার মালিহা নামে ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মেয়েটি মালিবাগ শহিদ ফারুক ইকবাল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। লাশ উদ্ধারের সময় তার পড়বার টেবিল থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করে পুলিশ। ওতে লেখা ছিল, রিমি ম্যাডাম পরীক্ষার খাতা কেড়ে নেয়। মার্ক কম দেয়। অভিযোগ করলে খারাপ আচরণ করে। পারলে তাকে মানসিক হাসপাতালে পাঠানো উচিত।... আমার এ পরিণতির জন্য রিমি ম্যাডাম দায়ী। এমন সুইসাইড নোটের প্রেক্ষিতে মালিহার বাবা মোহাম্মদ আলী ভূঁইয়া আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে শাহজাহানপুর থানায় শিক্ষিকার বিরুদ্ধে মামলা করেন। ২৫ জুলাই বুধবার সকালে স্কুল থেকে আমেনা পারভিন রিমিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, পরীক্ষার খাতা কেড়ে নেয়া, নম্বর কম দেয়া, শিক্ষিকার দুর্ব্যবহার ইত্যাদি কারণে মালিহা হতাশায় ভোগে এবং আত্মহত্যার মতো নির্মম কাজটি হয়তো করে ফেলেছে সে। গ্রেফতারকৃত শিক্ষিকাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ রিমান্ড চাইলে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
টিন এজার ছেলেমেয়েরা আবেগপ্রবণ হয়। হুট করে মারাত্মক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। এজন্য এদের ব্যাপারে অভিভাবক, শিক্ষক সবাইকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। একটু ভুল হলেই কিশোরকিশোরী শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যার মতো ভয়ঙ্কর কাজ করে বসে। যেমন করেছে সুমাইয়া আখতার মালিহা। অপর দিকে শিক্ষিকা রিমি যদি একটু সহানুভূতিশীল আচরণ করতে পারতেন মেয়েটির প্রতি, তাহলে হয়তো সে এমন দুর্ভাগ্যজনক কাজ করে ফেলতো না। কাজেই শিক্ষক, অভিভাবক সবাইকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। এছাড়া কোনও কিশোর-কিশোরীর মানসিক সমস্যা আছে কিনা তাও পরীক্ষা করে নেয়া দরকার। প্রয়োজনে মানসিক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে চিকিৎসাও করা যেতে পারে।
আজকালকার ছেলেমেয়েরা একটুতেই সেন্টিমেন্টাল হয়ে পড়ছে। স্কুল-কলেজে পড়াশোনার চাপও বাড়ছে নানা কারণে। এছাড়া পড়ালেখার উপযুক্ত পরিবেশও থাকছে না প্রতিষ্ঠানে। শিক্ষকরাও যথাযথ প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন না। সর্বোপরি ছেলেমেয়েদের বয়স বিবেচনা করে শিক্ষক-অভিভাবক সকলেরই সুন্দর ও সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে। সামান্য কারণে কঠোর হবার প্রয়োজন যেমন নেই। তেমনই কেউ যদি বখে যেতে বসে সেদিকেও শিক্ষক- অভিভাবককে তীক্ষè নজরে রেখে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা মনে করি, মালিহার যে মর্মান্তিক আত্মহনের ঘটনা তা কারুর কাম্য নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ