ঢাকা, সোমবার 30 July 2018, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৬ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে জেগে উঠা বালুচরে তুলা চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে

এভাবে তুলা চাষ করে চাষীরা স্বাবলম্বী হচ্ছে -সংগ্রাম

জামালপুরে পুরাতন ব্রক্ষ্মপুত্র নদের বুকে জেগে উঠা বালির চরে তুলা চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অন্য ফসলের চেয়ে তুলার ফলন ভাল এবং লাভ বেশী হওয়ায় প্রতি বছর কৃষকদের তুলা চাষে আগ্রহ বাড়ছে।
জামালপুরের পুরাতন ব্রক্ষ্মপুত্র নদের বুকে জেগে উঠা বালির চরাঞ্চলের জমি এক সময় পতিত ছিল। এসব পতিত জমিতে চাষীরা বিগত দিনে বিভিন্ন ফসল ফলানোর চেষ্টা করে নিস্ফল হয়ে আসছিল। ফলে চরের বালি মাটির জমি সারা বছর পতিত পড়ে থাকতো। তাই তুলা উন্নয়ন বোর্ডের পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতায় এসব অনাবাদি জমির মধ্যে হাইব্রিড ও উন্নত জাতের তুলা চাষ করা  শুর করে চাষিরা। অন্যান্য ফসলের চেয়ে তুলার চাষে খরচ কম এবং ফলন অত্যাধিক ভাল এমনকি বেশী মূল্যে বিক্রি করে লাভমান হওয়া যায়। তাই প্রতি বছর ব্রহ্মপুত্র নদেও বালির চরে তুলার চাষ দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বৎসর মৌসুমের শুরতে অত্যাধিক বন্যা এবং প্রচন্ড শীতের কারণে তুলার ফলন কম হবার সম্ভাবনা করেছে চাষীরা। তুলা উন্নয়ন বোর্ড জানায়, চলতি বছর জামালপুর জেলায় ৪২৮ হেক্টর জমিতে তুলা চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ২৫ হেক্টর বেশি।
জানা যায়, প্রতি বিঘা জমিতে ১৫/১৬ মণ তুলা উৎপাদন হবে বলে আশা করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। প্রতি বিঘা জমিতে তুলা চাষ করতে কৃষকদের খরচ হয়েছে ৮/১০ হাজার টাকা। প্রতিমণ তুলা ২ হাজার ২’শ েেথকে ২ হাজার ৫’শ টাকা দরে বিক্রী করতে পারবে। এ ছাড়াও তুলার গাছ থেকে লাকড়ী, পাতা থেকে সার এবং তুলার বীজ থেকে খৈল ও বোজ্য তৈল পাওয়া যায়। এসব থেকে বিঘা  প্রতি আরো ২/৩ হাজার টাকা খরচ উঠে আসবে। বস্ত্র খাতের প্রধান কাঁচামাল হল তুলা। এসব তুলার চাহিদা পূরন করতে সিংহভাগ তুলা বিদেশ থেকে আমদানী করতে হয়। দেশে বেশী তুলা চাষ করা হলে তুলার উৎপাদন ও ক্রমশই বৃদ্ধি পাবে। ফলে বিদেশ থেকে তুলা আমদানী হ্রাস পাবে।  জামালপুর পৌর শহরে পাথালিয়া এলাকায় পাশ দিয়ে পুরাতন ব্রক্ষ্মপুত্র নদের বালির চরে, নান্দিনা, নুরুন্দি এলাকায় তুলা চাষ শুর হয়েছে।  চাষীদের অভিযোগ, তুলা চাষ করতে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তুলার বীজ ক্রয় এবং তাদের মাধ্যমেই উৎপাদিত তুলা বিক্রি করতে হয়। কমদামে বীজ ক্রয় এবং নির্ধারিত ক্রেতার বাইরে বিক্রি করতে পারলে তারা আরো বেশি লাভবান হতেন। তুলা উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা জানান, এবারও তুলার ফলন ভাল হবে এবং চাষীরা তাদের উৎপাদিত তুলার ন্যায্য মূল্য পাবেন। এ ব্যাপরে জামালপুরের ভারপ্রাপ্ত তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন জানান,, কম মূল্যে বীজ ক্রয় এবং উৎপাদিত তুলা ন্যায্য মূল্য পেতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন এমন প্রত্যাশা করছে জামালপুরের তুলা চাষীরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ