ঢাকা, সোমবার 30 July 2018, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৬ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মাদারগঞ্জে ৫’শ মিটার বাঁধ সংস্কার হয়নি ১ বছরেও

জামালপুরের মাদারগঞ্জে গত বন্যায় নাদাগাড়ী বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৫০০ মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যাতায়াতের চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে ৭ গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। দীর্ঘ এক বছরেও বাঁধটি মেরামতের কোন উদ্যোগ না নেয়ায় আগামী বন্যায় শত শত হেক্টর জমির ফসল ও বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির ( ইউএনডিপি) অর্থায়নে মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের নাদাগাড়ী গ্রামে সাড়ে তিন কিলোমিটার বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এই বাঁধটি নির্মাণ করায় যাতায়াতের সুবিধাসহ পাশাপাশি বন্যার ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পান বালিজুড়ি ইউনিয়নের ৭টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ।  দীর্ঘ ১৩ বছর এই বাঁধটি সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেয়নি স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন বা পানি উন্নয় বোর্ড কর্তৃপক্ষ। এই অবস্থায় গত বছরের ভয়াবহ বন্যায় পানর প্রবল তোড়ে নাদাগাড়ী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা নিজাম উদ্দিনের বাড়ি থেকে নাদাগাড়ী দাখিল মাদ্রাসা পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার ধসে যায়।  বাঁধটি ধসে যাওয়ায় বালিজুড়ি ইউনিয়নের চর নান্দিনা, কাইজারচর, কাউনিরচর, ডাকাতমারা, নাংলা, নাদাগাড়ী ও পশ্চিম সুখনগরী গ্রামের হাজার হাজার মানুষ যাতায়াতের চরম দুর্ভোগে পড়ে। ভুক্তভোগীরা জানান, গত ৭ মাসে ভেঙে যাওয়া বাঁধটি মেরামতের কোন উদ্যোগ না নেয়ায় এ অঞ্চলের মানুষ ও যানবাহন চলাচলেরজন্য ফসলির জমি দিয়ে বিকল্প রাস্তা নির্মাণ করে স্থানীয়রা। সম্প্রতিক টানা বর্ষণে রাস্তাটি যাতায়াতের সম্পূর্ণ অনুপোযোগি হয়ে পড়ায় চরাঞ্চলের উৎপাদিত কৃষিপর্ণ বাজারজাত ও প্রয়োজনীয় মারামাল আনা-নেয়ার চরম দুর্ভোগে পড়ে। দ্রুত এই বাঁধটি মেরামত করা না হলে আগামী বন্যায় বালিজুড়ী ও সিধুলী ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের জমির ফসল ও ঘর-বাড়ীর ব্যাপক ক্ষতি হবে জানান স্থানীয়রা। এ বিষয়ে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নব কুমার চৌধুরী জানিয়েছেন, নাদাগাড়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি মেরামতের জন্য উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ বরাদ্দ না দেয়ায় বাঁধটি মেরামত করা সম্ভব হয়নি। তবে অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে বাঁধটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ