ঢাকা, সোমবার 30 July 2018, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৬ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সাতক্ষীরা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে কার্যক্রম ব্যাহত

আবু সাইদ বিশ্বাসঃসাতক্ষীরাঃ খাদ্যের অপ্রতুলতা, রোগের প্রাদুর্ভাব, ও সীমিত জনবলের কারণে সাতক্ষীরা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় জেলাতে দুধ, ডিম ও মাংসের উৎপাদন কম।
মাংস উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্জন করলেও সাতক্ষীরা রয়েছে অনেক পিছিছে। জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে ৮৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছে ৫৭ জন। ফলে ২৮টি শুন্য পদে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকার কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাঁধার সম্মুখিন হচ্ছে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরটি। যদিও একজন ব্যক্তির প্রাণিজ আমিষের দৈনিক চাহিদার ৭৬ ভাগই এ বিভাগ সরবরাহ করে আসছে। কৃষি নির্ভর জেলাটির আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় প্রাণিজ সম্পদ দপ্তরটির গতি ফিরিয়ে আনা দরকার বলে মনে করছেন এখাতে সংশ্লিষ্টরা।
প্রাণি সম্পদ দপ্তরটির মতে দেশের মোট জন সংখ্যার ২০ ভাগ প্রত্যক্ষ এবং ৫০ ভাগ পরোক্ষ ভাবে প্রাণিজসম্পদ খাতের উপর নির্ভরশীল। সেই হিসাবে জেলার প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে প্রাণিজসম্পদ খাতের উপর নির্ভরশীল। প্রত্যন্ত গ্রাম গুলোতে বেশির ভাগ বাড়িতে গবাধি পশু পালন করে আসছে। এছাড়া,হাস,মুরগী বিভিন্ন জাতের পাখি পাপলন করছে তারা। অনেকে বিভিন্ন ঋণদান সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নিয়ে পশু ও পাখি পালন করে আসছে। কিন্তুপ্রতি বছর খাদ্যের অপ্রতুলতা, রোগের প্রাদুর্ভাব, সুষ্ঠু  সংরক্ষণ, বিপণনের কারণে অসংখ্য প্রাণী মারা যাচ্ছে। ফলে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে জেলা বাসি।
চলতি বছরে ২৯৩ টি উঠান বৈঠক করেছে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর। ফলে বছরের বেশির ভাগ সময়ে কর্মব্যস্ত থাকতে হয় তাদের।  প্রথম শ্রেণীর ১৬ কর্মকর্তার মধ্যে ৯টি পদই রয়েছে শূন্য। তৃতীয় পদে রয়েছে ৯টি ও চতুর্থ শ্রেণী পদে ২০টি পদেও ১০টিই শূন্য।
৭৮টি ইউনিয়নের ২১ জন ফিল্ড অফিসার কর্মরত। ফলে ৩ থেকে ৪টি করে ইউনিয়ন একজন করে ফিল্ড অফিসার । শ্যামনগর ও কলারোয়াতে প্রথম শ্রেনীর কোন কর্মকতৃা নেই। যদিও প্রত্যেক উপজেলাতে একজন করে প্রথম শ্রেণীর চিকিৎসাবিদ ও একজন কৃষিবিদ থাকার কথা। এসব কারণে জেলাতে খাতটি অবহেলিত রয়েছে। চাষীদের মাঝে ক্ষুদ্র ঋণ ও বন্ধ রয়েছে। এর পরিবর্তে সরকার ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প চালু করেছে। আগামি ২০২১ সালের পর থেকে প্রকল্পটি  বন্ধ করার  সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সমরেশ চন্দ্রদাশ জানান, জনবল সংকট নিরাশনে মন্ত্রানালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। জনবল পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ