ঢাকা, মঙ্গলবার 31 July 2018, ১৬ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৭ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নওয়াজের শারীরিক অবস্থার অবনতি ॥ কারাগার থেকে হাসপাতালে স্থানান্তর

৩০ জুলাই, ডন, এনডিটিভি : পাকিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। নওয়াজ বুকে ব্যথা অনুভব করছিলেন। আল-জাজিরা জানিয়েছে, হৃৎপি-ে সমস্যা দেখা দেওয়ায় গত রোববার তাকে ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিমস) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার জন্য পাঁচ চিকিৎসকের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ব্রিটিশ রয়টার্সকে জানিয়েছেন, নওয়াজের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ‘উদ্বেগজনক’ পরিবর্তন দেখা গেছে।

গত সপ্তাহেই জানা গেছে শরিফের কিডনিতে সমস্যা রয়েছে। চিকিৎসকরা জেল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন, শরিফের দুই হাতে সারাক্ষণ ব্যথা হচ্ছে। শরীরে স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালন না হওয়ার কারণেই এমন হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন তারা। চিকিৎসকরা বলেছিলেন, তার রক্তে স্বাভাবিকের থেকে ৫০ শতাংশ বেশি ইউরিয়া রয়েছে। এর ফলে তার কিডনির বড় সমস্যা হতে পারে। রবিবার ডন নিউজ টিভি ও এনডিটিভি জানায়, নওয়াজ বুকে ব্যথা অনুভব করছিলেন। এতে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন চিকিৎসকেরা। নওয়াজের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তারা নওয়াজকে দ্রুত ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসের (পিআইএমএস) করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নেয়ার পরামর্শ দেন।

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হাসান আসকারি রিজভি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, আদিয়ালা কারাগারের চিকিৎসকেরা নওয়াজ শরিফের ইসিজিতে উদ্বেগজনক কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা নওয়াজের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো ঝুঁকিতে যেতে পারি না। তাই তাকে দ্রুত রাওয়ালপিন্ডি হৃদরোগ ইনস্টিটিউট বা পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস হাসপাতালে হস্তানান্তরের নির্দেশ কারা কর্তৃপকে দেয়া হয়েছে।’ এদিকে প্রদেশের এক মন্ত্রী শওকত জাভেদ পাকিস্তান টেলিভিশনকে (পিটিভি) বলেন, শরিফ তার বুকে ব্যথা অনুভব করছিলেন। এছাড়া একটি ইলেক্ট্রোকার্ডিয়াম (ইসিজি) তার  হৃৎস্পন্দন অনিয়মিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জাভেড পিটিভি’কে বলেন, তিনি কতদিন হাসপাতালে থাকবেন তা চিকিৎসকদের ওপর নির্ভর করে।

শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) টুইটারে লিখেছে,  ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সঙ্গে আলাপ করেই হাসপাতালে যেতে রাজি হয়েছেন নওয়াজ। এদিকে পিমস’র এক মুখপাত্র ওয়াসিম খোয়াজা জানান, শরিফকে হাসপাতালের ‘কার্ডিয়াক সেন্টারে’ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার অবস্থা বর্তমানে আশংকামুক্ত রয়েছে। খোয়াজা জানিয়েছেন, শরিফের নিরাপত্তার জন্য হাসপাতালের চারপাশে অতিরিক্ত পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। 

গত ১৩ জুলাই যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরেই নওয়াজ ও তার মেয়ে মরিয়মকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তারা রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে আছেন। দুর্নীতির অভিযোগে গত ৬ জুলাই পাকিস্তানের একটি আদালত নওয়াজকে ১০ বছর ও তার মেয়ে মরিয়মকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেন। জাতীয় নির্বাচনে দল ও সমর্থকদের উজ্জীবিত করতে দণ্ড মাথায় নিয়েই নওয়াজ ও তার মেয়ে দেশে ফিরেছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ