ঢাকা, মঙ্গলবার 31 July 2018, ১৬ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৭ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তিন সিটিতে ভোট হয়নি হয়েছে ডাকাতি ও প্রহসন

স্টাফ রিপোর্টার: তিন সিটিতে  ভোট হয়নি, হয়েছে ডাকাতি ও প্রহসন। এমন অভিযোগ করেছে বিএনপি। রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেটে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর গতকাল সোমবার বিকেল ৪টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, তিন সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে ভোট নয়, আরেকটি প্রহসনের নির্বাচন হলো। গাজীপুর ও খুলনায় অল্প কিছু লোক ভোট দিতে পারলেও সোমবার তিন সিটিতে সেটিও সম্ভব হয়নি। আমরা দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, সেদিন আর বেশি দূরে নয়, যখন জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়া দখলের রাজনীতির বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ জনতার প্রবল প্রতিরোধ যেকোনো মুহূর্তে ধুমকেতুর মতো আবির্ভূত হয়ে সরকারের মসনদ উল্টো দেবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা শিরিন সুলতানা, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, শামসুজ্জামান সুরুজ, ফরিদা ইয়াসমীন প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রিজভী জানান, রাজশাহী ও বরিশালে অধিকাংশ কেন্দ্র এবং সিলেটে মোট ভোট কেন্দ্রের ৯৫ শতাংশ কেন্দ্র ক্ষমতাসীনরা দখল করেছে। তিনি বলেন, আমাদের স্থানীয় নেতাদের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী রাজশাহীর ১৩৮টি এবং বরিশালের ১২৩ টি কেন্দ্রের অধিকাংশ প্রায় সব গুলো কেন্দ্রের ক্ষমতাসীনরা দখল করে ভোট কারচুপি, ভোট জালিয়াতি ও ভোট সন্ত্রাস করেছে। বিরোধী দলের পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়েছে। সিলেটে ১৩৪ টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ কেন্দ্রে ভোট কারচুপি ও সন্ত্রাস করে নিয়ে গেছে।
‘ ভোটের উৎসব হয়েছে’-- আওয়ামী লীগের বক্তব্যের জবাবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, একজন আওয়ামী নেতা বলেছেন উৎসবের আমেজে নির্বাচন হচ্ছে। তিনি ঠিকই বলেছেন, দুস্যদল লুট করার পর উল্লাসে মেতে উঠেছে। আওয়ামী লীগ লুটের মালের মতো একচেটিয়া জালভোট ও ভোট সন্ত্রাসের কৃতিত্বে আত্মপ্রসাদ লাভ করেছে। আর সেজন্যই তারা উৎসবে মেতে উঠেছে।
রিজভী বলেন, আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দায়িত্ব নিজেদের কাঁদে নিয়েছে পুলিশ। তিন সিটিতে একচেটিয়া পুলিশ কর্তৃক নৌকা প্রতীকে সিল মারা ন্যাক্কারজনক কর্মকা- দৃশ্যমান হয়েছে। এটি আওয়ামী নাৎসিবাদের এক চূড়ান্ত রুপের আত্মপ্রকাশ।
নির্বাচন কমিশনের নির্বিকার ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন তিন সিটিতে প্রহসনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজবেতনভোগী কর্মচারি নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিলো তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নয়, তারা অবৈধ সরকারেরর প্রতিনিধি। সরকারের ইঙ্গিত, আভাষ, ইচ্ছায় ইসি তিন সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে শ্বাসনিরুদ্ধ দুর্বৃত্তপনার নির্বাচনী প্রহসনের সহযোগী হলেন।
 ভোট গ্রহণের ৪ ঘন্টা পর বরিশাল বিএনপির নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্তটি কেন্দ্র থেকে হয়েছে কিনা প্রশ্ন করা হলে রিজভী বলেন, এটা স্থানীয় অবস্থা বুঝে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রিজভী বলেন, নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আজ মঙ্গলবার সকালে জানানো হবে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার তিন সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের ওপর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবেন।
বিএনপির এ নেতা বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা ছড়িয়ে নাটকীয় ভোট সন্ত্রাসের পরিস্থিতি দেশবাসী প্রত্যক্ষ করলো। রাজবেতনভোগী কর্মচারী নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিলো তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নন, তারা অবৈধ সরকারের প্রতিনিধি। সুতরাং অবৈধ সরকারের হুকুম তামিল করা ছাড়া তারা অন্য কোন কাজের জন্য নির্বাচন কমিশনে দায়িত্ব পালন করতে আসেনি। তাই সরকারের ইঙ্গিত, আভাস, ইচ্ছায় নির্বাচন কমিশন তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে শ^াসনিরুদ্ধ দুর্বৃত্তপনার নির্বাচনী প্রহসনের সহযোগী হলো। নির্বাচন কমিশন আইনের নয়, স্বাধীন নয়, নির্বাচন কমিশন রাজভৃত্য। তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আরেকটি সহিংস প্রহসনের নির্বাচন হলো।
এর আগে গতকাল ১১টা দিকে এক সাংবাদিক সম্মেলনে রিজভী জানান, এখন পর্যন্ত যা ঘটেছে তিন সিটিতে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোন আলামত দেখছি না। এসময় ‘সরকার প্রচ-ভাবে মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে’ বলেও অভিযোগ করে তিনি। রিজভী বলেন, তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর হামলা, গ্রেফতার ও কেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। ‘ ভোটগগ্রহণ শুরুর তিন ঘন্টার মধ্যে বরিশালে ২৬, সিলেটে ৫ ও রাজশাহীতে ১৭ কেন্দ্র থেকে দলীয় এজেন্টদের বের করে দেয়া’র অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। ‘রাজশাহী সিটিতে প্রায় ২৪ জন এজেন্ট নিঁখোজ’ রয়েছেন বলেও দাবি করেন রিজভী।
তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম থেকে সরকারের নীল নকশার নির্বাচন নিয়ে আমরা যে অভিযোগগুলো করেছিলাম সেটিরই নগ্ন বহি:প্রকাশ তিন সিটিতেই ফুটতে শুরু করেছে। আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের জন্যই সরকার তিন সিটির ভোট নিয়ে অনাচারের লিপ্ত হতে পেরেছে। রিজভী অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচন কমিশন উচিত-অনুচিতের এথিক্সের ধার ধারেনি বলেই নির্বিকার থাকছে এবং নৌকার প্রার্থীকে ভোট ডাকাতিতে উৎসাহ যুগিয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতাসীনদের অসংখ্য অনিয়ম ও নির্বাচন আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ কমিশন কানে তোলেনি। কমিশন মুক ও বধির হয়ে গেছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বর্তমান সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় থেকে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এরা কখনোই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে দেবে না। কেন্দ্র দখল, বিরোধী দলের পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে তাড়িয়ে দেয়া, জালভোটে ব্যালট বাক্স পূর্ণ করার নির্বাচনকেই বাংলাদেশের নির্বাচনের মানদ- করা হয়েছে। শেখ হাসিনা যতদিন ক্ষমতায় থাকবেন ততদিনই এই মানদন্ড অনুযায়ী নির্বাচন হবে।
রিজভীকে প্রশ্ন করা হয়, বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা বলেছিলেন, অনিয়ম হলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। সেটা করা হয়েছে কি না? এ জবাবে রিজভী বলেন, প্রতিরোধ না করলে রাজশাহীর সাবেক মেয়ের মিনুকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিত না পুলিশ। তাকে শারীরিকভাবে হামলার মুখে পড়তে হয়েছে। বরিশালের সরওয়ারকে এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। রাষ্ট্রযন্ত্রের সঙ্গে তো খালি হাতে পারা যায় না। খালি হাতে যতটুকু করার নেতা-কর্মীরা তা করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ