ঢাকা, মঙ্গলবার 31 July 2018, ১৬ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৭ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আসামের নাগরিক তালিকা কি বাঙালি তাড়ানোর বন্দোবস্ত?

সংগ্রাম ডেস্ক : আসামে উন্মুক্ত চূড়ান্ত নাগরিক তালিকার যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রণীত তালিকায় স্থান মেলেনি ৪০ লাখ অধিবাসীর। এজন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে দুষছেন মমতা। সংকট নিরসনে নাগরিকত্ব আইনে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তার দলের পক্ষ থেকে আসাম পরিদর্শনে যাওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
 গতকাল সোমবার দুপুরে আসামের রাজধানী গোহাটি থেকে রেজিস্ট্রার জেনারেল অব ইন্ডিয়া চূড়ান্ত জাতীয় নাগরিকত্ব নিবন্ধন তালিকা উন্মুক্ত করেন। নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা ৩ কোটি ২৯ লাখ অধিবাসীর মধ্যে ২ কোটি ৮৯ লাখকে চূড়ান্ত নাগরিকত্ব তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।  রয়টার্স নিবন্ধন-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে,  ৪০ লাখ, ৭ হাজার ৭০৭ জন তালিকায় স্থান পায়নি।
সোমবার সরকারি ভবন নবান্ন-তে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আসামে প্রণীত চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, আধার কার্ড থাকলেও জাতীয় পঞ্জীকরণের তালিকায় নাম নেই। পাসপোর্ট থাকলেও তালিকায় নেই নাম। বৈধ তথ্য থাকা সত্ত্বেও নাম তোলা হয়নি। ৪-৫ পুরুষ ধরে অসমে থাকলেও আজ তাঁদের কেন উদ্বাস্তুর তকমা দেয়া হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ভারতে ‘ইলিগ্যাল মাইগ্রেন্টস ডিটারমিনেশন বাই ল’ বা আইএমডিটি নামের আইনে হয়েছিল, যতক্ষণ না পর্যন্ত অবৈধ হিসেবে প্রমাণিত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত নাগরিকত্ব বহাল থাকবে। তবে ২০০৫ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ওই আইনের সেই ধারাটি উল্টে দিয়েছে, যাতে নাগরিকত্ব প্রমাণের দায় বর্তানো হয়েছে অধিবাসীদের নিজেদের ওপর। মমতা অভিযোগ করেছেন, সর্বোচ্চ আদালতে যখন এ নিয়ে শুনানি হয়েছে, তখন যাবতীয় তথ্য দেয়নি কেন্দ্র। তালিকায় হিন্দু মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের নাম নেই দাবি করে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কেন্দ্র বিভাজন তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভোট ব্যাঙ্ক চিনে নিয়ে বিরোধীদের বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তালিকা প্রকাশকে ঘিরে আসামে মোতায়েন হয়েছে আধা সামরিক কেন্দ্রীয় বাহিনীর ২০ হাজারেরও বেশি সদস্য। নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বাংলাদেশ সীমান্তে। আসামের সঙ্গে মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশ, মিজোরাম, মনিপুর এবং পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মমতা প্রশ্ন তুলেছেন, দমনপীড়নের স্বার্থেই নিরাপত্তার এই বাড়বাড়ন্ত কিনা। তিনি বলেছেন, সেখানকার সমস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ। ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। বাঙালিদের জোর করে তাড়ানোর বন্দোবস্ত করা হচ্ছে না তো, প্রশ্ন করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।
চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা নিয়ে উদ্বিগ্ন মমতা এ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর সঙ্গে আলাদা করে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গেও আসাম, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ ও বিহারের মানুষ রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, মুর্শিদাবাদ কিংবা উত্তরবঙ্গের লোকদেরও আসামে বহিরাগত তকমা দেয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তৃণমূলের প্রতিনিধিদল আসাম যাবে, তিনি নিজেও সেখানে যেতে পারেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ